কারাগারে বসে ক্রোড়পতি করার স্বপ্ন ডেসটিনি আমিন-ডিটুকে’র!

বিশেষ প্রতিনিধি : কারাগারে বসে ক্রোড়পতি করার স্বপ্ন ডেসটিনি আমিন-ডিটুকে’র। বহুল আলোচিত এমএলএম কোম্পানি ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেডের এমডি মো. রফিকুল আমীন এবার কারাগারে বসেই ‘আর’ নামে ব্যবসায়িক বৈঠক করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৈঠকে বলা হয় ‘টাকা আসবে বিদেশ থেকে’। এতে ‘১০০ টাকার শেয়ারে ১ হাজার ৮০০ টাকা লভ্যাংশ পাওয়া যাবে’। জানা গেছে, দুদকের করা মামলায় ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন আট বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন। এর আগে আদালতের এক রায়ে বলা হয়েছিল, ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা জমা দিলে তিনি জামিন পেতে পারেন। ডেসটিনির ‘ডায়মন্ড’দের’ একটি সূত্রে জানা গেছে, আদালতের ওই আদেশের পর টাকা জাগাড়ে রফিকুল আমীন এর শিষ্যরা নতুন ব্যবসায় নামে। ডিটুকে নামে ওই কোম্পানির অফিস রাজধানীর পল্টনের মাহাতাব সেন্টারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুই মাস আগে বহুমূত্র রোগের কারণে বিএসএমএমইউতে আসেন রফিকুল আমীন। এরপর কারাগার থেকেই জুমে পুরো ব্যবসার নির্দেশনা দেয়া শুরু করেন রফিকুল আমীন। তার নির্দেশনায় কাজ শুরু করে ডিটুকে। জুম প্ল্যাটফরমের মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্বে বৈঠক হওয়ার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক ঘণ্টার বেশি সময়ের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রফিকুল আমীনের নাম লেখা ইংরেজিতে ‘আর’। তিনি বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্যদের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। বিএসএমএমইউ বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে যাচ্ছে আগামী শনিবার।
এ সম্পর্কে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জাতিরকন্ঠ কে বলেন, বিয়য়টি আমরা জানতে পেরেছি। সত্যিই যদি কারাগারে বসে জুম বৈঠক করা হয়, এটা আরেকটা অপরাধ। এ কাজ করতে রফিকুল আমীনকে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁরাও অন্যায় করেছেন।এদিকে কারা অধিদপ্তর এই জুম বৈঠক কীভাবে হলো তা খতিয়ে দেখতে আজ বৃহস্পতিবার তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা বিভাগের কারা উপ মহাপরিদর্শক ( ডিআইজি প্রিজনস) তৌহিদুল ইসলামকে প্রধান করে গঠিত এ কমিটি ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজনস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোমিনুর রহমান আজ রাতে জাতিরকন্ঠ কে এ তথ্য জানান।
রফিকুল আমীনের সঙ্গে জুম বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে রয়েছেন, সোলায়মান মিয়াজী, আবদুল হালিম, মোস্তাক আহমেদ, মুসলেহউদ্দিন বাদশা, কফিল উদ্দিন, সুলতান মাহমুদ, মোহাম্মদ হেলাল, মনজুরুল হক প্রমুখের নাম রয়েছে। দেখা গেছে, রফিকুল আমীন তাঁদের উদ্দেশে বলছেন, দেশের সব থানায় এজেন্ট নিয়োগ করতে হবে এবং অবশ্যই সৎ থাকতে হবে এই এজেন্টদের। আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, বিদেশ থেকে অনেক টাকা আনা হবে। জানা গেছে, দুদকের করা মামলায় ডেসটিনির এমডি রফিকুল আমীন আট বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছেন।
বিএসএমএমইউর উপাচার্য শারফুদ্দিন আহমেদ আজ রাতে জাতিরকন্ঠ কে বলেন, প্রক্টর হাবিবুর রহমানকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রক্টর জাতিরকন্ঠ কে জানান, রফিকুল আমীনের কাছে মোবাইল থাকার কথা নয়। এরপরও এর সত্যতা যাচাই করব। এ জন্য আমরা আগামী শনিবার একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করব। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেছে, ডেসটিনির কর্তাব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ৪ হাজার ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে দুই মামলায় ৫৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয় আট বছর আগে। কোনো মামলারই সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়নি।



