কার পাপে নান্নুর রহস্যজনক মৃত্যু!

বিশেষ প্রতিনিধি : শুধুই কি আগুন নাকি অন্য কোনো রহস্য আছে মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নুর রহস্যজনক মৃত্যু’র নেপথ্যে তা খতিয়ে দেখছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন রাতে স্বামী-স্ত্রীর তুমুল ঝগড়ার শব্দ পেয়েছেন বলে জাতিরকন্ঠ কে জানিয়েছেন। এরপরই তারা আগুনের ঘটনা দেখতে পান। সেক্ষেত্রে আগুনের উৎপত্তি কোথা থেকে, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এর আগে রাজধানীর বাড্ডায় বাসায় অগ্নিকান্ডে দগ্ধ দৈনিক যুগান্তরের সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার ও অপরাধ বিভাগের প্রধান এবং বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন নান্নু মারা গেছেন। শনিবার (১৩ জুন) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লহি… রাজিউন)।
একই বাসায় আগুনে ছেলের মৃত্যুর পর, এবার রহস্যজনকভাবে তিনি দগ্ধ হন। শুক্রবার ভোরে রাজধানীর বাড্ডার আফতাবনগরে নিজ বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঠিক কীভাবে আবারও বাসাটিতে আগুন লেগেছে তা জানা যায়নি। আগুনে নান্নুর শরীরের ৬০ শতাংশের বেশি পুড়ে গিয়েছিল।
গত ২ জানুয়ারি বাড্ডার আফতাবনগরের ৩ নম্বর রোডের বি ব্লকের ৪৪/৪৬ নম্বর বাসায় এসি বিস্ফোরণে সাংবাদিক নান্নুর একমাত্র ছেলে পিয়াস মারা যায়। সে সময় আহত হন নান্নু। এর ঠিক ৬ মাস পরই আবারও সে একই রুমে লাগা অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত হলেন নান্নু।
দৈনিক যুগান্তরের খবরে বলা হয়-
তার মৃত্যুতে বিশিষ্ট শিল্পপতি ও যমুনা গ্রুপের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম, দৈনিক যুগান্তরের প্রকাশক সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি এবং দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কীভাবে তিনি অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন-
তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা সম্ভব হয়নি। তবে গ্যাস লিকেজ থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।তার স্ত্রী শাহীনা হোসেন পল্লবী জানান, অফিস থেকে রাতে বাসায় ফিরে খাবার খেয়ে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়েন নান্নু। এর কিছুক্ষণ পর তার চিৎকার শুনতে পাই। পাশের কক্ষ থেকে বের হয়ে দেখি তার শরীরের পেছনের অংশে আগুন জ্বলছে। তিনি বাথরুমের দিকে যাচ্ছিলেন।শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. পার্থ শঙ্কর পাল বলেন, ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল নান্নুকে। সেখানে আইসিইউতে রেখে তাকে চিকিৎসা দেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
রাতে তুমুল ঝগড়া হয়েছে-
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল তিনি পরিদর্শন করেছেন। আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন জানিয়েছেন, রাতে স্বামী-স্ত্রীর তুমুল ঝগড়ার শব্দ তাঁরা পেয়েছেন। এরপরই আগুনের ঘটনা ঘটেছে। পারভেজ ইসলাম বলেন, আগুনের উৎপত্তি কোথা থেকে, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে।মোয়াজ্জেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁর প্রতিবেশী আশিক টুটুল। তিনি বলেন, মোয়াজ্জেমকে হাসপাতালের নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর চেতনা ছিল। তাঁদের সঙ্গে কথাও বলেছেন স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু আগুন কীভাবে লেগেছে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।
মাঝেমধ্যে গ্যাসের গন্ধ-
শাহানা পল্লবী বলেন, তাঁদের ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যে গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যেত। কয়েক দিন আগে মিস্ত্রিরা এসে লাইন পরীক্ষা করে বলেছিল বাথরুমের কমোড থেকে গ্যাস আসতে পারে। মোয়াজ্জেম মিস্ত্রিকে শুক্রবার এসে কমোড খুলে ঠিক করার কথাও বলেছিলেন। তার আগেই এই ঘটনা ঘটল।তবে বাসার ব্যবস্থাপক মনসুর আলম বলেছেন, কারও ফ্ল্যাটে কোনো সমস্যা হলে এর দেখভাল সব সময় তিনিই করেন। মোয়াজ্জেমের ফ্ল্যাটের গ্যাসলাইনের রাইজারে একটি সমস্যা ছিল। গত ৩১ মে তাঁরা যখন বাসায় ওঠেন, তখনই রাইজারটি পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। এরপর গ্যাসের কোনো সমস্যার কথা মোয়াজ্জেম বা তাঁর স্ত্রী তাঁকে জানাননি।



