• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

‘এবার ফুটপাতে কোনো দোকান থাকবেনা’


প্রকাশিত: ২:৫৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ১৯ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৪৯ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : এবার ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ফুটপাতে কোনো দোকান থাকতে পারবে না। আপনারা (রাজনীতিবিদরা) যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি পুলিশ চাঁদা খেয়ে রাস্তায় দোকান বসাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার নগর ভবনের মেয়র ফ্লোরে এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন ডিএমপি কমিশনার। এসময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মেযর আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘পথচারীদের জিম্মি করে দখল বাণিজ্য সহ্য করা হবে না।

আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ডিএনসিসির উত্তরা অঞ্চলে (অঞ্চল-১) উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। অঞ্চল-১ এর সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরে অন্যান্য অঞ্চলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ শুরু হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক ও ফুটপাত দখল করে যারা নির্মাণসামগ্রী রাখে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই অবৈধভাবে দখল করে রাখা সড়ক ও ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি খুব বেশি কথা বলি না, কম কথা বলি। আপনারা (কাউন্সিলর, রাজনীতিবিদরা) যদি চান ফুটপাতে কেউ থাকবে না, তাহলে কেউ থাকবে না। যদি আমাদের সঙ্গে থাকেন এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারব পুলিশের কেউ চাঁদা খেয়ে রাস্তায় দোকান বসাতে পারবে না। বাস্তবতা হল একজন আরেকজনকে দোষ দিচ্ছেন, পুলিশ বলেন- কাউন্সিলর এবং রাজনৈতিক লোক চাঁদা নিচ্ছে। অন্যদিকে হকারদের জিজ্ঞেস করলে প্রকাশ্যে সে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করতে সাহস পায় না, কারণ সে জানে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে পেটে লাথি পড়বে, আবার কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে বললেও একই অবস্থা হবে। সেই ভয়ে তারা নীরবে চাঁদা দিচ্ছে।

হকারদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, শহরে এমন কোনো মোড় নেই যেখানে বাস থামে অথচ হকারদের দখল নেই। রাস্তা বানানো হয়েছে মানুষ এবং যানবাহন চলাচলের জন্যে। ফুটপাত দিয়ে মানুষ চলবে। ব্যবসা করার জন্য তো ফুটপাত না। উচ্ছেদে গেলে বলবে ফুটপাত থেকে তুলে দিলে আমার সন্তানের কি হবে? আমি তাদের বলতে চাই আপনার সঙ্গে কি সরকারের বা সিটি কর্পোরেশনের চুক্তি ছিল যে ফুটপাত বসিয়ে ব্যবসা করার সুযোগ দেব?

সভায় উপস্থিত ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য আকবর হোসেন ফারুক পাঠান বলেন, ‘আমরা যেখানে একটি দেশ স্বাধীন করতে পেরেছি, সেখানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, রাস্তা-ঘাট পরিষ্কার এসব তো কোনও বিষয়ই না। আমরা অবশ্যই আমাদের দেশকে সুন্দর করে গড়তে পারবো।’ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা বলেন, ‘আমি ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে আমার এলাকার সকল সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে তা জনগণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে ডিএনসিসির সঙ্গে কাজ করবো।’

এ সময় ডিএনসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই, ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক বিভাগ) মফিজ উদ্দিন আহমেদ, ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলরগণ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।