• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

এনটিজে’র নারকীয়তায় রক্তাত্ত কলম্বো


প্রকাশিত: ৪:৩৪ পিএম, ২২ এপ্রিল ১৯ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

 

ডেস্ক রিপোর্টার : এনটিজে’র নারকীয়তায় রক্তাত্ত হলো কলম্বো। একই সঙ্গে কলম্বোয় সিরিজ বোমা হামলায় নাম ফাটালো ন্যাশনাল তওহিদ জামায়াত (এনটিজে) নামের একটি ইসলামি জঙ্গি দল। এর আগে এরা বৌদ্ধ মূর্তি ভেঙ্গেছিল। তখন এটিজের সেক্রেটারি গ্রেফতার হলেও সে পরে পার পেয়ে যায়। কিন্তু তলে তলে এনটিজে শক্তি সঞ্চয় করছিল। যার প্রতিফলন ঘটলো রবিবার সিরিজ বোমার মাধ্যমে। যদিও দেশটির পুলিশ প্রধান পি জয়াসুন্দরা গত ১১ এপ্রিল এই মর্মে পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছিলেন। ওই সতর্কবার্তায় লেখা হয়েছিল, এনটিজে নামে একটি সংগঠন দেশের বিশিষ্ট গির্জায় হামলার চেষ্টা করছে। ভারতীয় হাই কমিশনও তাদের নজরে আছে।কিন্তু সংশ্লিষ্ঠরা তা নজরে নেয়নি।

শ্রীলঙ্কার রাজধানীর কলম্বোসহ দেশটির বিভিন্ন গির্জা ও পাঁচ তারকা হোটেলে সিরিজ বোমার হামলার তদন্ত করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা। তাদের দাবি, কলম্বোর গ্র্যান্ড হোটেলে বোমা বিস্ফোরণ করার ঠিক আগে হোটেলের খাবারের লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল ‘মোহম্মাদ আজম’ নামের এক আততায়ী। ঠিক যে সময় তার পাতে খাবার তুলে দেওয়ার কথা তখনই বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয় সে। হোটেলে সে সময় প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিলেন বলে মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই অনেকের প্রাণ যায়। দৌঁড়তে গিয়ে আহতও হন অনেকে। খবর এনডিটিভির।

হোটেলের ম্যানেজার জানিয়েছেন, লাইনে দাঁড়িয়ে খাবারের কাউন্টারের সামনে পর্যন্ত যায় আজম। তারপরই সে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দেয়। খাবার পরিবেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মী সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু হয় হামলাকারী। প্রায় একই সময় শহরের আরও দু-তিন আমি হোটেলে বিস্ফোরণ হয়। পাশাপাশি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে তিনটি গির্জাও। প্রার্থনার জন্য সে সময় প্রচুর মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ফলে মুহূর্তের মধ্যেই মৃতের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। কলম্বোর অন্যতম পুরনো গির্জা সেন্ট অ্যান্থনি। সেখানে বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে গির্জার বেশিরভাগ অংশই ভেঙে গেছে। হামলার পরে এখনও কোনও সংগঠন স্বীকার করেনি।

এদিকে, এই ঘটনার মধ্যেই রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরের খুব কাছে উদ্ধার হল পাইপ বোমা। তবে নতুন করে ভয়াবহ কিছু ঘটার আগে সেটি নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের অনুমান স্থানীয়ভাবেই বোমটি তৈরি করা হয়েছিল। জানা গেছে, বিমানবন্দরের টার্মিনালে সেটি পড়েছিল। অঘটন ঘটার আগেই সেটিকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া সম্ভব হয়। শ্রীলঙ্কার বিমানবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, আইডি বোমাটি শ্রীলঙ্কাতে তৈরি বলে মনে হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার গির্জায় যে হামলা হতে পারে দিন দশেক আগেই তার ইঙ্গিত পেয়েছিল পুলিশ। সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান। তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে এ কথাই বলেছে সংবাদ সংস্থা এএফপি। পুলিশ প্রধান পি জয়াসুন্দরা ১১ এপ্রিল এই মর্মে পুলিশ কর্মকর্তাদের সতর্ক বার্তা পাঠান। ওই সতর্কবার্তায় লেখা হয়েছিল, এনটিজে নামে একটি সংগঠন দেশের বিশিষ্ট গির্জায় হামলার চেষ্টা করছে। ভারতীয় হাই কমিশনও তাদের নজরে আছে।

কারা এই তওহীদ জামায়াত-

শ্রীলঙ্কায় বোমা হামলার সন্দেহভাজন কারা এই তওহীদ জামায়াত? শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন গির্জা ও হোটেলে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভয়াবহ এই হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ২৯০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৫০০ জন।এখনও পর্যন্ত এই হামলার দায় কেউ স্বীকার না করলেও ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শ্রীলঙ্কার ন্যাশনাল তওহীদ জামায়াত নামের একটি দলের ওপর ‘ফোকাস’ করে এ তদন্ত চালাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তওহীদ জামাত দেশটির একটি ছোট্ট দল যাদের সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারা ইসলামের সন্ত্রাসী মতাদর্শ প্রচার করে থাকে।এ ঘটনার নেপথ্যে জড়িত কোনো গোষ্ঠীকে এখনও পর্যন্ত চিহ্নিত করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ। তবে তারা বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে।

এদিকে ওই হামলার ১০ দিন আগে একজন পুলিশ কর্মকর্তা ন্যাশনাল তওহীদ জামায়াত কর্তৃক গীর্জার ওপর সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন।শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে রবিবার জানিয়েছেন, তিনি এবং অন্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা হুমকি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন না। তিনি বলেন, কী কারণে যথাযথ পূর্বসতর্কতা অবলম্বন করা হয়নি তা অবশ্যই আমরা খতিয়ে দেখবো।

২০১৬ সালে শ্রীলঙ্কায় বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙার সঙ্গে ন্যাশনাল তওহীদ জামায়াতের নাম জড়িয়ে ছিল। দলটির সেক্রেটারি আবদুল রাজিককে বর্ণবাদের উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল।ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশ শ্রীলঙ্কায় কয়েক দশক ধরে গৃহযুদ্ধ চলেছে। ২০০৯ সালে এই গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। দেশটিতে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসীদের সহিংসতার খুবই কম ইতিহাস রয়েছে।