• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

আখের গোছানোদের পক্ষে কেন বিএবি!


প্রকাশিত: ৯:০২ পিএম, ১ এপ্রিল ১৮ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৩৭ বার

bab
বিশেষ প্রতিনিধি :  আখের গোছানোদের পক্ষে কেন বিএবি! তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আর্থিক খাতে! চোর বা লুটেরাদের পক্ষে ওকালতি করা নিয়ে তোলপাড় ব্যাংক সেক্টর। অভিযোগ উঠেছে, বিএবি’কে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। সব ব্যাংক মালিকরা তাঁর পক্ষে না থাকলেও তিনি অনেকটা মগের মুল্লুক চালাচ্ছেন। নিজের ইচ্ছা চালিয়ে দিচ্ছেন ব্যাংক মালিকদের ঘাড়ে।

ব্যাংক কে পুঁজি করে যারা নিজেদের আখের গোছাবে তাদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেয়ার কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো যারা এসব ফাঁস করবে তাদের বিরুদ্ধে চটেছেন বিএবি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার। এজন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে লিখিত চিঠি দিয়েছেন।এ যেন চোরের পক্ষে ওকালতি বলে জানিয়েছেন ব্যাংকিং সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা।

bbbbজানা গেছে, ঋণ কেলেঙ্কারিসহ ব্যাংক খাতের ‘নেতিবাচক’ সংবাদ বন্ধ করতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। সম্প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে অর্থমন্ত্রীকে। এতে ব্যাংকের বিরুদ্ধে `নেতিবাচক’ সংবাদ বন্ধ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এ প্রসঙ্গে রবিবার (১ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘এখন এটি বলার সময় নয়; আগামী বাজেট ঘোষণার সময় বিষয়টি নিয়ে সংসদে আলোচনা হবে।’

সূত্র জানায়, বিএবি ও এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন অ্যাক্টের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ব্যাংকের বিরুদ্ধে `নেতিবাচক প্রচারণা’ বন্ধ করা হবে। এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকিং খাত নিয়ে গণমাধ্যমে নেতিবাচক প্রচারণার কারণে জনজনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। গ্রাহকরা ব্যাংকের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন। ওই উদ্যোগ জনমনে আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে চিঠিতে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের তথ্য গণমাধ্যমের কল্যাণেই জানা গেছে। রিজার্ভের অর্থ চুরি ছাড়াও বেশ কয়েকটি বড় কেলেঙ্কারির ঘটনা প্রথম জানা যায় গণমাধ্যমের কল্যাণে। হল-মার্ক গ্রুপ, বিসমিল্লাহ গ্রুপ ও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির তথ্য মিডিয়াই প্রথম প্রকাশ করে। এছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত এবং বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় ঋণ অনিয়ম এবং কেলেঙ্কারির ঘটনাও গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশের মানুষ জানতে পারছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ব্যাংক খাতে অনিয়ম বন্ধ না করে গণমাধ্যম বন্ধ করার উদ্যোগ মোটেও ভালো লক্ষণ নয়।’ তিনি বলেন, ব্যাংকের নেতিবাচক সংবাদ বন্ধে ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন আইনের আওতায় আলাদা কোনও প্রতিষ্ঠান গঠনের কোনও যৌক্তিকতা নেই। সংবাদমাধ্যমে অপপ্রচার হলে তার জন্য আইন রয়েছে, প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট রয়েছে এবং প্রতিবাদের ব্যবস্থা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রীকে দেওয়া ওই চিঠিতে বেসরকারি ব্যাংক যাতে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পায় তার সুযোগ; বাংলাদেশ ব্যাংকে রক্ষিত নগদ জমা সংরক্ষণ (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও-সিআরআর) থেকে তিন শতাংশ ফেরতসহ সুনির্দিষ্ট ৯টি প্রস্তাব রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিএবির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘ব্যাংকিং খাত মূলত টিকে থাকে আস্থার ওপর। এই খাত নিয়ে অব্যাহতভাবে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হলে মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। নেতিবাচক সংবাদ জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।’ ব্যাংক নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ বন্ধে ফাইন্যান্সিয়াল ইনফরমেশন আইনের আওতায় একটি প্রতিষ্ঠান গঠনের লিখিত প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এটি এখনও প্রাথমিক আলোচনা। আরও আলোচনার পর এটি নিয়ে বলা যাবে।’

বেসরকারি ব্যাংকের তারল্য সংকট, ঋণের সুদহার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে গত শুক্রবার (৩০ মার্চ) অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বিএবি ও ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবি। বৈঠকে ৩৮টি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রায় ২৫টি ব্যাংকের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে অর্থমন্ত্রীর কাছে চিঠির প্রস্তাবগুলো তুলে ধরা হয়।

চিঠিতে ব্যাংক মালিকদের প্রধান দাবি ছিল, ব্যাংকগুলোর তারল্য সংকট সমাধানে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ যাতে বেসরকারি ব্যাংক পায়। ব্যাংক মালিকদের এই দাবি মেনে নেন অর্থমন্ত্রী। ব্যাংক মালিকদের দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে বলে রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী নিজেই জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখা বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সিআরআর এক শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জুন পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। এছাড়া, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানত ৫০ শতাংশ রাখা হবে।’ ইতোমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

ব্যাংক খাতের নেতিবাচক সংবাদ বন্ধের প্রস্তাব প্রসঙ্গে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আর্থিক খাত টিকে থাকে স্বচ্ছতার ওপর। এ কারণে এই খাতে স্বচ্ছতা খুবই প্রয়োজন। আইন করে এ ধরনের কোনও প্রতিষ্ঠান গঠন করা হলে এই খাতে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দেবে। এতে মানুষ আরও নেতিবাচক ধারণা পাবে।’