অংশুমানের কান্না থামলো বিচারপতির ললিপপে!
আসমা রহমান : অংশুমানের কান্না থামলো বিচারপতির ললিপপে! বিচারপ্রার্থী মানুষজনের কাছে দীর্ঘদিন স্মরনীয় হয়ে থাকবে এ অবিস্মরনীয়
মূহুর্তটি। আজ বিচার চলাকালীন দেড় বছরের শিশু অংশুমানকে নিজের কাছে টেনে নিয়ে ললিপপ চকোলেট দিলেন হাইকোর্টের বিচারপতি নাইমা হায়দার। টাঙ্গাইলের দেড় বছর বয়সী শিশু অংশুমানকে খালার হেফাজতে দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মায়ের করা রিটের শুনানি নিয়ে আদেশ দেয়ার সময় সোমবার হাইকোর্টে এই বিরল দৃশ্য সকলকে অভিভূত করে।
হাইকোর্টের আজকের দেয়া আদেশ অনুযায়ী শিশু অংশুমান আপাতত খালার হেফাজতে থাকবে। কিন্তু মা’ মাঝে মাঝে সন্তানকে দেখার সুযোগ পাবেন। আদালত এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য আগামী ৬ মে দিন ধার্য্য করেছেন।হাইকোর্টের এই আদেশের সময় অংশুমানের মা শিশু সন্তানকে একটু কোলে নিতে চান।
এসময় আদালত মায়ের কোলে শিশুটিকে দিতে বলেন। এরপর খালার কোল থেকে শিশুটিকে নিজের কোলে নেন মা। অংশুমান তখন কাঁদতে থাকে। একপর্যায়ে বিচারপতি নাইমা হায়দার বলেন, ও কাঁদছে। আমার কাছে দেন। একজন বেঞ্চ অফিসার মায়ের কোল থেকে বিচারপতি নাইমা হায়দারের কাছে অংশুমানকে এনে দেন। এরপর বিচারপতি নাইমা হায়দার শিশু অংশুমানকে কাছে নিয়ে ললিপপ দেন। অংশুমানের কান্না থামে বিচারপতির ললিপপে । পরে আদেশ অনুযায়ী শিশু অংশুমানকে খালার কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
আজ আদালতে অংশুমানের মায়ের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম, খালার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সুব্রত সাহা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অজি উল্লাহ আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।এই মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বিপুল দে ও জবা রানী দে’ দম্পতির ঘর আলোকিত করে একটি সন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির নাম রাখা হয় অংশুমান দে। শিশুটির বয়স যখন এক বছর তখন তার খালা-খালু তাদের বাড়ীতে বেড়াতে আসে।
২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর শিশুটির খালা ও খালু নিঃসন্তান দম্পতি হওয়ায় দুই তিন দিনের জন্য শিশু অংশুমানকে নিয়ে যায়। এরপর ওই শিশুর বাবা-মা তাদের সন্তান ফেরত চাইলে সন্তান না দিয়ে তাদের বাড়িতে আটকে রাখে। এ অবস্থায় নিজ সন্তানকে ফেরত পেতে গত ১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ক-অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেন শিশুটির বাবা-মা। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘাটাইল থানার ওসিকে শিশুটিসহ খালাকে হাজির করার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি শিশুটিকে হাজির করা হলে তাকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয় আদালত।এরপর আবার ২১ মার্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শিশুটিকে তার খালার হেফাজতে দেওয়ার আদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এ আদেশটি চ্যালেঞ্জ করে শিশুটির বাবা-মা হাইকোর্টের রিট করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে আদালত আজ এই আদেশ দিলেন।



