• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

৯৩ বিলে কোটি কোটি টাকা লুটেছে কুয়েত মৈত্রীর সেহাব-


প্রকাশিত: ১০:৩২ পিএম, ৩১ আগস্ট ২০ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩১৩ বার

লাবণ্য চৌধুরী : ৯৩ বিলে কোটি কোটি টাকা লুট করেছে কুয়েত মৈত্রীর সেহাব গংরা। এরা ১০ গুণ বেশি দামে করোনা চিকিৎসার সরঞ্জাম কিনে লুট করেছে কোটি কোটি টাকা। এসব অভিযাগ এর প্রমাণ মিলেছে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার সেহাবউদ্দীনের বিরুদ্ধে। কেনাকাটার এমন ৯৩টি বিলে অসঙ্গতি চোখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে একক অর্ডারের মাধ্যমে আত্মীয়দের নাম সর্বস্ব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তিনি কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। প্রথম করোনা হাসপাতাল হিসেবে সেবাদান শুরুর পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. সেহাব উদ্দীনের বিরুদ্ধে।

১২ কোটি ১০ লাখের বেশি কেনাকাটায় দেয়া বিভিন্ন কার্যাদেশের বিলে দুর্নীতির দেখা মিলেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২৫ লাখ টাকা বাজারমূল্যের পিসিআর মেশিনের দাম ধরা হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মাল্টিপারপাস পেশেন্ট মনিটর যন্ত্র কেনা হয়েছে ৫২ লাখ ৮০ হাজার টাকায়। কেনাকাটায় জিএম ইন্টারন্যাশনাল এবং মেসার্স আলী ট্রেডার্সের নাম ব্যবহার করা হলেও সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব মেলেনি। এ সম্পর্কে একজন জানান, মেসার্স আলী ট্রেডার্স এখানে আরো এক বছর আগে ছিল, এখন কই গেছে বলতে পারি না।

অভিযোগ করা হয়েছে, গত ২৫ তারিখ ক্রয় কমিটির ২ জন চিকিৎসককে জরুরি তলব করে ৫০টি স্বাক্ষর নেয়া হয়। এতে চরম বিড়ম্বনায় পড়েছেন ডা. সোহেলী পারভীন ও ডা. মামুনুর রশীদ।ক্রয় কমিটির সদস্য ডা. সোহেলী পারভিন বলেন, অনেকবার ফোন করে আমাদের জোর করে ডেকে নিয়ে গেছে। সেখানে নিয়ে কিছু বুঝতে না দিয়ে রেজুলেশনের কাগজ বলে অনেক স্বাক্ষর নিয়ে গেছে। আমি মনে হয় ৫০ টার বেশি স্বাক্ষর করছি।

এ সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহের পরিচালক ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া জাতিরকন্ঠ কে জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সকলকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে। তথ্য জানতে অভিযুক্ত সেহাবউদ্দীনকে পাওয়া যায়নি। সেল ফোনও তিনি ধরেননি।জানা গেছে, কয়েক মাস আগে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল থেকে বদলি হওয়া সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান ও বর্তমান তত্ত্বাবধায়কের যোগসাজশেই এমন লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকেই অভিযোগ করেছেন।