• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

৪৯মুসলিম খুনী ব্রেন্টনের খুনের ম্যানিফেস্টো!


প্রকাশিত: ২:৫৪ পিএম, ১৬ মার্চ ১৯ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০৪ বার

নিউজিল্যান্ড থেকে ইমরান আলী : নিউজিল্যান্ডে মসজিদে হামলা করে ৪৯ মুসলিম হত্যাকারী জঘন্য সেই খুনী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট (২৮) কে আজ শনিবার আদালতে হাজির করা হয়েছে। কড়া পুলিশ প্রহরায় আদালতে নেয়া খুনী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট ছিল ভাবলেশহীন। আদালত সূত্র বলেছে, আজ তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হতে পারে।এর আগে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক নারীসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামের এই খুনী হামলার ঘণ্টা কয়েক আগে তার ফেসবুক পোস্টে ৭৩ পৃষ্ঠার ম্যানিফেস্টো প্রকাশ করে। ওইসব ম্যানিফেস্টোতে সে তার ক্ষোভ, হামলার কারণসহ ২০১১ সালে নরওয়েতে ‘গণহত্যাকারী’ আন্দ্রেস বেহেরিংয়ের হামলার ঘটনায় অনুপ্রাণিত হওয়ার কথা তুলে ধরে। নরওয়েতে ওই হামলায় অন্তত ৭৭ জনের প্রাণহানি হয়েছিল।

দরিদ্র পরিবারের সন্তান ব্রেন্টন তার ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করে, প্রথমে ডানেডিনের (নিউজিল্যান্ডের একটি শহর) কোনো মসজিদে হামলাটি চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। হঠাৎ সে পরিকল্পনা পরিবর্তন করা হয়।এছাড়া ২০১৭ সালের ৭ এপ্রিল সুইডেনের স্টকহোমের একটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা তার মধ্যে পরিবর্তন তৈরি করে বলে ম্যানিফেস্টোতে উল্লেখ করেন ব্রেন্টন। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের শহর গ্রাফটনে বেড়ে ওঠা ব্রেন্টনের পড়ালেখার প্রতি কোনো আগ্রহ ছিল না। উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সুযোগ বা কর্মকাণ্ড তাকে টানত না।

মসজিদের হামলাকারী খুনী ব্রেন্টন ট্যারেন্ট এর হামলায় গুলিতে আহত এক বাংলাদেশেকে হাসাতালে নেয়া হচ্ছে

ব্রেন্টনের বাবা ছিলেন একজন পূর্ণমাত্রার অ্যাথলেট, যিনি ২০১০ সালে ক্যান্সারে মারা যান। মা এখনো জীবিত। পরিবারের অনেক সদস্য বাস করছেন নিউ সাউথ ওয়েলসে। আর শরীরচর্চায় বেশ মনোযোগী ছিল ব্রেন্টন। ব্রেন্টন শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদের মৌলবাদী ও জঙ্গি মানসিকতার লোক ছিল। অস্ট্রেলিয়ান প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ওই ব্যক্তিকে অস্ট্রেলিয়ায় হাজতবাস করতে হয়েছিল। সে মৌলবাদী, ডানপন্থী ও সহিংস সন্ত্রাসী ছিল। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অপরাধ সংক্রান্ত পুরনো রেকর্ড আছে গ্রাফটন শহরের এই লোকের।

শুক্রবার জুমার নামাজের সময় মসজিদ দুটিতে হামলার আগে ট্যারেন্ট তার টুইটার অ্যাকাউন্টে ৭৩ পৃষ্ঠার কথিত মেনিফেস্টো (ঘটনার কারণ) প্রকাশ করে। এতে সে নিজেকে একজন ‘সাধারণ শ্বেতাঙ্গ লোক’ বলে উল্লেখ করে। ওই হামলাকারী আরো উল্লেখ করে, সে একটি ‘শ্রমিক শ্রেণির স্বল্প-আয়ের পরিবারে জন্ম নিলেও… জনগণের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল’। ট্যারেন্টের অস্ত্র সরঞ্জামে ছিল মুসলিম-বিদ্বেষী নানা শব্দ-বাক্য। হামলার কারণ হিসেবে মেনিফেস্টোতে উল্লেখ করে, ইউরোপের ভূমিতে অভিবাসীর সংখ্যা একেবারে কমিয়ে ফেলতে সে এই হামলাটি চালিয়েছে।

ট্যারেন্টের ব্যক্তিগত টুইটার অ্যাকাউন্টের হেডার ফটো হিসেবে যে ছবি রয়েছে, সেখানে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের নিসে শহরে বাস্তিল ডে উদযাপন অনুষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত একজনের ছবি দেখা যায়। সেদিন জনতার ওপর ট্রাক চালিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ৮৪ জনের প্রাণহানি হয়।এই ভয়াবহ হামলা চালানোর জন্য দুই বছর ধরে পরিকল্পনা করছিল জানিয়ে ট্যারেন্ট তার মেনিফেস্টোতে বলে, তিন মাস আগেই সে ক্রাইস্টচার্চে হামলার সিদ্ধান্ত নেয়।

হামলাকারী তার মেনিফেস্টোতে অভিবাসীদের দিকে ইঙ্গিত করে উল্লেখ করে, ঐতিহাসিকভাবে ইউরোপের ভূমিতে বিদেশি ‘দখলদার’দের কারণে শত শত মানুষের মৃত্যুর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ‘দখলদার’দের ওপর এই হামলা চালানো হচ্ছে।সে তার মেনিফেস্টোতে আরো বলে, ২০১৭ সালে সুইডেনের স্টকহোমে সন্ত্রাসী হামলায় ১১ বছর বয়সী শিশু এব্বা অকারলান্ডের নিহত হওয়ার ঘটনার শোধ নিতে এই হামলাটি চালানো হয়েছে। স্টকহোমের ওই ঘটনাটিই আমাকে প্রথম এ ধরনের হামলার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। বিশেষ করে ওই ১১ বছর বয়সী মেয়েটির মৃত্যু। এব্বার মৃত্যু হয়েছে ‘দখলদার’দের হাতে…আমি এ ধরনের হামলা এড়িয়ে যেতে পারি না।

ফ্রান্সের নিসে শহরের ঘটনাটিও তাকে হামলায় প্রেরণা যুগিয়েছে বলেও মেনিফেস্টোতে উল্লেখ করে ট্যারেন্ট। যে অস্ত্র-সরঞ্জাম নিয়ে ট্যারেন্ট ও তার সহযোগীরা হামলা চালিয়েছে, সেখানে মুসলিমদের ওপর বিগত সামপ্রদায়িক হামলার তথ্য তুলে ধরে এ ধরনের হামলা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহমূলক বিভিন্ন শব্দ-বাক্য দেখা যায়। নিউজিল্যান্ডে হামলার পরিকল্পনা দুই বছরে ধরে করে আসছিল সন্দেহভাজন আটক ব্রেন্টন। এত সময় ধরে করা ওই পরিকল্পনায় তার প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু ডানেডিনের কোনো মসজিদ হলেও মাত্র তিন মাস আগে হঠাৎ পরিল্পনায় পরিবর্তন আনে ট্যারেন্ট। শেষ পর্যন্ত গতকাল ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে হামলা চালায়।

হামলা পরবর্তী এ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মাইক বুশ বলেন, হামলা ছিল খুবই পরিকল্পিত। ঘটনাস্থলে আসার জন্য হামলাকারীর ব্যবহৃত গাড়ি থেকে দুটি অত্যাধুনিক বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে, অন্যটি নিষ্ক্রিয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এছাড়া অকল্যান্ডে দুটি সন্দেহভাজন বস্তু উদ্ধার করার পর সেগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। তবে ক্রাইস্টচার্চেল ঘটনার সঙ্গে এগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও জানান পুলিশ কমিশনার।