• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

১জনের নির্দেশে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুর-হাতুড়িবাজরা পাকরাও


প্রকাশিত: ৭:১৮ পিএম, ৬ ডিসেম্বর ২০ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩৬৪ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/ কুষ্টিয়া প্রতিনিধি : একজনের নির্দেশে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার ঘটনা ঘটেছে।এ ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ ৪জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি ড. খ মহিদ উদ্দিন প্রেস বিফ্রিং এ জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সের সম্মেলন কক্ষে এই প্রেস বিফ্রিং করেন তিনি।তিনি জানান, রাত ২টা ১৬ মিনিটে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত দুই মাদরাসা ছাত্র পায়ে হেঁটে ভাস্কর্যস্থলে আসেন। কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মানাধীন বঙ্গবন্ধুর ওই ভাস্কর্যের গা ঘেঁষে থাকা বাঁশের মই বেয়ে উপরে ওঠেন। পিঠে থাকা ব্যাগ থেকে হাতুড়ি বের করে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর হাতের উঁচু তর্জনিতে আঘাত করেন। পরে হাতুড়ি দিয়েই আঘাত করে করে হাত ও পরে মুখের অংশে ভাংচুর করেন।

প্রায় ৯ মিনিট পর একই মই দিয়ে নেমে পায়ে হেঁটে তারা চলে যান বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বিভিন্ন সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রথমে দুই ভাই মাদরাসা ছাত্রকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। তারা ফুটেজ দেখে দুজনকে চিনতে পারেন। তাদের দেয়া তথ্যেও ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে ভারত সীমান্তের দৌলতপুরের ফিলিপনগর গোলাবাড়ি নামক নিজ গ্রাম থেকে সামছুল আলম এর ছেলে সবুজ ইসলাম ওরফে নাহিদ (২০) ও মিরপুর উপজেলার শিংপুর থেকে সমসের মৃধার ছেলে আবু বক্কর ওরফে মিঠুনকে (১৯) গ্রেফতার করে। তারা কুষ্টিয়া শহরের জুগিয়া পশ্চিমপাড়ার ইবনে মাসউদ মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। পরবর্তীতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় একই মাদরাসার দুই শিক্ষক তাদের পালাতে ও সাহস জুগিয়ে সহযোগিতা করেছেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে শিক্ষক আল আমিন (২৭) ও ইউসুফ আলীকে (২৬) গ্রেফতার করে। আল আমিন মিরপুরের ধুবইল গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে ও ইউসুফ আলী পাবনা জেলার আমিনপুর থানার দিয়াড় বামুন্দি গ্রামের আজিজুল মন্ডলের ছেলে।

ডিআইজি বলেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই ঘটনায় পুরো দেশ যেমন ব্যথিত হয়েছে আমরাও তাই। এর পেছনে কোন লিংকেজ আছে কিনা তা তদন্ত করে বের করা হবে। ইতিমধ্যে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে ঢাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, একজনের নির্দেশে এই দুই কিশোর গভীর রাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে। তবে তিনি নির্দেশদাতার নাম জানাননি। তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করে দেখছি। তার নাম তদন্তের পর জানাবো।