‘হুজুর খুন করেছে ছাত্র ও স্ত্রীকে’
মোস্তফা কামাল প্রধান : এবার ‘হুজুর’ খুন করেছে তার এক ছাত্র ও স্ত্রীকে। এ ঘটনায় ওই হুজুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে কি কারণ তা এখনও পুলিশ উদঘাটন করতে পারেনি। তবে পুলিশ মাদ্রাসা ছাত্রদের তথ্যে হুজুরকে প্রধান সন্দেহভাজন করে তদন্ত চালাচ্ছে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জাতিরকন্ঠকে জানায়, গাজীপুরে এক মাদ্রাসা থেকে পরিচালকের স্ত্রী ও আট বছর বয়সী এক ছাত্রের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নগরীর ১৭নম্বর ওয়ার্ডের চান্দনা এলাকার হুফ্ফাজুল কোরআন মাদ্রাসায় মঙ্গলবার ভোরে এ ঘটনা বলে বাসন থানার ওসি মো.মুক্তার হোসেন জানান।তিনি বলেন, মাদ্রাসার পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের দিকেই সন্দেহের আঙ্গুল তুলেছে ছাত্ররা। তাকে মাদ্রাসায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহতরা হলেন- ইব্রাহিম খলিলের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার (২১) এবং মাদ্রাসার নুরানী বিভাগের ছাত্র মো.মামুন (৮)। মাহমুদার এক শিশু সন্তানও আহত হয়েছে।
প্রায় দুই বছর ধরে মাদ্রাসাটির পরিচালনার পাশাপাশি ছাত্রদের কোরআন পড়ান ইব্রাহিম। ওই মাদ্রাসারই একটি কক্ষে স্ত্রী ও দুই ছেলেকে নিয়ে তিনি থাকেন বলে ওসি মুক্তার জানান। তিনি বলেন, সকালে স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে ইব্রাহিমের ঘরের ভেতর থেকে মাহমুদার ও দরজার সামনে থেকে মামুনের লাশ উদ্ধার করা হয়।মাহমুদার গলায়,গালে ও কানে এবং মামুনের ঘাড়ে,মাথায় ও পিঠে ধারোলো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।ঘরের ভেতর থেকে রক্তমাখা একটি দা ও ধার দেওয়ার কাজে ব্যবহৃত একটি কাঠের খণ্ড উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওসি।
এদিকে মাদ্রাসার ছাত্র সাব্বিরের বরাতে বাসন থানার এসআই আলামিন বলেন, সোমবার রাতে ছাত্ররা ইব্রাহিমকে উদ্ধার হওয়া দা টি ধার দিতে দেখেছে।ভোরে ফজরের নামাজে যাওয়ার আগে সাব্বিরকে দিয়ে নিহত মামুনকে মাদ্রাসার অন্য কক্ষ থেকে ইব্রাহিম ডেকে পাঠায় বলে ও জানান এসআই।ইব্রাহিম বলেন, মঙ্গলবার ভোরে স্ত্রী এবং তার দুই সন্তান হুযায়ফা (৫) ও আবু হুরায়রাকে (৩) ঘরে রেখে তিনি পাশের মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যান। পরে ঘরে ফিরে বিছানার ওপর মাহমুদা এবং দরজার কাছে মামুনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।



