হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গলেন মির্জা কাদের ইজ্জত পাংচার ওবায়দুলের

বিশেষ প্রতিনিধি/নোয়াখালী প্রতিনিধি : হাটে হাঁড়ি ভাঙ্গলেন মির্জা কাদের;
ইজ্জত পাংচার করলেন ওবায়দুল কাদেরের-। নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এপিএস মহিতুলের মাধ্যমে তার স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের সব খাত থেকে চাঁদা সংগ্রহ করেন। এই চাঁদার টাকার একটি অংশ প্রশাসনের লোকজনের জন্য, একটি অংশ লন্ডনে তারেক জিয়ার জন্য পাঠান এবং অবশিষ্ট টাকা মন্ত্রীর স্ত্রী রেখে দেন। তিনি বলেন, ইসরাতুন্নেসা কাদের আজ নিজাম হাজারী, একরাম চৌধুরীর সন্ত্রাসীদের দিয়ে আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঢাকা থেকে প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করছে জাহাঙ্গীর নামে এক ছেলে। সে মন্ত্রণালয়ের বিআরটিএ লুটপাট করে খাচ্ছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গা থেকে চাঁদা নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে। জাহাঙ্গীর এবং জুয়েল মন্ত্রীর স্ত্রীর নির্দেশে সব করছে। এদের সঙ্গে ঢাকার ব্যবসায়ী নাজমুল হক নাজিম, উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, ইস্কান্দার মির্জা শামীমও রয়েছেন।
আবদুল কাদের মির্জা বলেছেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা অপরাজনীতির হোতাদের দিয়ে সমস্ত ঘটনা ঘটাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে এসব ঘটনা। আজ মন্ত্রী তার স্ত্রীর চাপে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
কাদের মির্জা বলেন, সেতুমন্ত্রীর স্ত্রী ১ কোটি টাকা পাঠিয়েছেন সন্ত্রাসীদের জন্য। আমাকে হত্যা ও আমার রাজনীতি ধ্বংস করার জন্য নোয়াখালী, ফেনী ও এখানকার অপরাজনীতির সহযোগীদের পেছনে এসব টাকা খরচ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, মন্ত্রী (ওবায়দুল কাদের) নিয়ন্ত্রণ করছেন না। তার স্ত্রী ইসরাতুন্নেসা কাদের মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও অপরাজনীতির হোতাদের নিয়ন্ত্রণ করছে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) কেন নীরব রয়েছেন তা আমি জানি না। তার স্ত্রী এখন মহাক্ষমতাধর নারী।
তিনি আরও বলেন, খবর নেন- মন্ত্রীর মন্ত্রণালয় কে চালায় এখন? তিনিই (সেতুমন্ত্রীর স্ত্রী) আজ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে আমি এবং আমার কর্মীদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছেন। আমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেছেন এবং কোম্পানীগঞ্জে তাণ্ডব চলছে।কাদের মির্জা বলেন, আমার কথা বলার সুযোগ হয়ত আর থাকবে না। আমাকে হয়ত কারাগারে নিক্ষেপ করবে, না হয় আমার জীবন অবসান ঘটাবে, কিন্তু আমার সাথে আল্লাহ আছেন। এখানকার ৯০ ভাগ মানুষ আমার পক্ষে। আমি কোনো কিছুকে ভয় করি না। একরাম চৌধুরীর বউ, তার ছেলে শাবাব ও সম্রাট নামের এক ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমাকে গুলি করে হত্যা করার। আবারও এখানে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করে যাচ্ছে তারা।
গত দেড় মাস ধরে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের বিরোধ চলছে। পুরো উপজেলাজুড়ে এ নিয়ে এক অস্থিতিশীল পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সময়ে দুইপক্ষের দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে ৯ মার্চ সিএনজিচালক ও শ্রমিক লীগ কর্মী আলাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান, আহত হন অর্ধশতাধিক। তার আগে অন্য এক সংঘর্ষে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির নিহত হন।



