• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সোনালী ব্যাংক লুটেরারা বহাল তবিয়তে-চুয়াডাঙ্গায়!


প্রকাশিত: ১১:০১ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৭৯ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গায় দিনেদুপুরে সোনালী ব্যাংক এর উথলী শাখা থেকে লুট হওয়া প্রায় ৯ লাখ টাকা গত দুই সপ্তাহেও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি গ্রেফতারও করতে পারেনি কাউকেই। গত ১৫ নভেম্বর বেলা ১টায় এই ব্যাংকে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতে বাদী হয়ে অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিকী। মামলার পর ব্যাংকের গ্রাহকসহ বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তবে তেমন কোনও তথ্য না পাওয়ায় তাদের মুক্তি দেয় পুলিশ। ঘটনার এখনও কোনও কুল কিনারা করতে পারেনি পুলিশ।

তবে পুলিশ সুপার দাবি করে বলছেন, ডাকাতির সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ চলছে। ইতিমধ্যে এসপি জেলার পাঁচটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার ব্যাংক ও অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।জানা গেছে, ডাকাতির দিন দুপুরে ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিরাপত্তাকর্মী ও গ্রাহকসহ ১০ জন ছিলেন ব্যাংকের ভেতর। এসময় গ্রাহক পরিচয়ে হেলমেট ও পিপিই পরিহিত তিন ব্যক্তি প্রবেশ করে ব্যাংকে। হঠাৎ আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র বের করে সকলকে জিম্মি করেন তারা। এসময় সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। পরে ক্যাশ কাউন্টারে থাকা ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ টাকা লুট করে পালিয়ে যান দুর্বৃত্তরা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবননগর উপজেলায় ৮টি রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকের শাখাসহ ১২টি ব্যাংকের শাখা, ১৩টি এজেন্ট ব্যাংক ও দুই শতাধিক মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। উপজেলার ৮টি রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকের শাখাসহ মোট ১২টি ব্যাংকের মধ্যে মাত্র দুইটি রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকের শাখায় এবং ৪টি বেসরকারি ব্যাংক শাখায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বাকী ৬টি রাষ্ট্রয়াত্ত ব্যাংকের শাখায় কোনও ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নেই। এসব ব্যাংকের শাখাগুলোতে নিরাপত্তা প্রহরী থাকলেও অধিকাংশ নিরাপত্তা প্রহরীর হাতে কোনও আগ্নেয়াস্ত্র নেই। উথলী সোনালী ব্যাংক শাখাটি নিরিবিলি এলাকায় অবস্থিত ও নিরাপত্তাকর্মীরা নিরস্ত্র হওয়ায় সেই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

ব্যাংকের ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে ব্যাংকের ভল্ট খুলে দিতে বাধ্য করে। ওই সময় টাকা তুলতে ব্যাংকে এসে ডাকাতদের দেখে ব্যাংক থেকে দ্রুত বের হয়ে যান একজন গ্রাহক। পরে বাইরে তার চিৎকারে ছুটে আসেন স্থানীয়রা। বন্দুক উঁচিয়ে খুনের হুমকি দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় ডাকাতরা।তিনি জানান, ভল্টের কোনও টাকা লুট হয়নি। শুধু ক্যাশ কাউন্টারে থাকা ৮ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ টাকা নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।রাষ্ট্রয়াত্ত সোনালী ব্যাংকের শাখাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে কেন সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়নি? এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খন্দকার আবদুস সালাম কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার, পুলিশের খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন ও ক্রাইম) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলামসহ গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। পরে ঘটনাস্থলে আসনে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন।