• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সেই তুমি কেন এত অচেনা-


প্রকাশিত: ২:৪৭ পিএম, ১৮ অক্টোবর ১৮ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৭৬ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : -‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে, সেই আমি কেন তোমাকে দুঃখ দিলেম, কেমন করে এত অচেনা হলে তুমি, কীভাবে এত বদলে গেছি এই আমি-ও বুকেরই সব কষ্ট দুহাতে সরিয়ে…’এটাই আইয়ুব বাচ্চু। আজ থেকে ২৫ বছর আগে প্রথম শোনা আইয়ুব বাচ্চুর এই গান আজও নাড়া দিয়ে যায় সব প্রজন্মের শ্রোতাদের। কী এক অদ্ভুত আকর্ষণ, কী অদ্ভুত নস্টালজিয়া এই গানে। বাড়ির স্টেরিওতে ৩৫ টাকার ক্যাসেট দিয়ে যে গান শোনার শুরু, সিডি–এমপিথ্রির যুগ পেরিয়ে আজকের ইউটিউবের কালেও গানটি কতই না প্রাসঙ্গিক। এটি কি বাচ্চুর সংগীতজীবনের সেরা সৃষ্টি?

এ নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। বাংলাদেশের সংগীতজগতের এই কিংবদন্তি শিল্পী তাঁর জীবনে এত সুর সৃষ্টি করেছেন যে, তাঁর নির্দিষ্ট একটি গান সেরা কি না, তা নিয়ে মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু সবাই একবাক্যে এটি স্বীকার করে নেবেন, ‘সেই তুমি’ গানটি বাংলাদেশের সংগীতজগতেরই এক অনবদ্য ও অমর সৃষ্টি।

১৯৯৩ সালে মালিবাগের একটি বাড়িতে বসে এই গানটি লিখেছিলেন বাচ্চু নিজেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা, টানা বসে লিখে শেষ করেছিলেন।
সেই তুমি গান রচনার পেছনের ইতিহাসটা নিজেই বলেছিলেন বাচ্চু।বললেন-১৯৯৩ সালের কোনো একদিন হবে। আমি তখন পশ্চিম মালিবাগে থাকতাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এক বসাতেই গানটির সৃষ্টি। আমারই লেখা। আমারই সুর করা। আমারই গাওয়া।

এক লাইন লিখি আর গিটারে সুর করি। এভাবে গানটা তৈরি হয়। অবশ্য গানটি রেকর্ড করতে অনেক সময় লেগেছে। সংগীত আয়োজনে সময় লেগেছে দুই দিন। কণ্ঠ দিতে বেশি সময় লাগেনি।’নিছক এক প্রেমের গান নয় এটি; বরং এই গানে উঠে আসে দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতাও। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে যখন প্রেমে পড়ে, প্রেম করে, তখন তাদের মধ্যে তৈরি হয় অদ্ভুত এক আকর্ষণবোধ, অদ্ভুত এক দায়বদ্ধতা।

কী এক অমোঘ আকর্ষণ কেবলই তাদের কাছে টানে। কিন্তু এই জুটিই যখন নিজেদের প্রেমের পরিণতি টানে, তারা যখন সংসারে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সেই টান, সেই আবেগটা থাকে না। আবার কোনো কারণে প্রেম পরিণতি না পেলে দুজনের আলাদা জীবনের আকুতিটাও ফুটে ওঠে এই গানের কথায় ও সুরে। বাচ্চু ২৫ বছর আগে ‘সেই তুমি’ গানে এ বাস্তবতাই তুলে এনেছিলেন দারুণভাবে।

শুক্রবার জাতীয় ঈদগাহে প্রথম জানাজা

কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর প্রথম জানাজা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে শুক্রবার বাদ জুমা অনুষ্ঠিত হবে।এর আগে সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহ শহীদ মিনারে রাখা হবে। পরে তার মরদেহ জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নেয়া হবে।এরপর শনিবার চট্টগ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি এই শিল্পী বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান।তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

আইয়ুব বাচ্চু দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার হার্টের কার্যক্ষমতা ছিলো ৩০ শতাংশ। সর্বশেষ তিনি গত সপ্তাহে স্কয়ার হাসপাতালেই চিকিৎসা নিয়েছেন।এখন তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে। আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বর্তমান বাংলাদেশ) চট্টগ্রাম জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।