সুজন বলাচ্ছে-সুষ্ঠু নির্বাচন হবেনা!
বিশেষ প্রতিনিধি : সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বলাচ্ছে-দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কথাবার্তায় সরকারবিরোধী কতিপয় কথিত বিশিষ্টজনদের দিয়ে রোববার রাজধানীতে এক গোলটেবিল বৈঠকে সুজন এসব কথা বলায়।জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও সুষ্ঠু নির্বাচন’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, হলফনামা, আয়-ব্যয়ের হিসাব-নিকাশ, এগুলোতে কর্ণপাত নেই; কিন্তু ইভিএমের ব্যাপারে অতিউৎসাহ দেখা যাচ্ছে। আইনকে অস্ত্রে পরিণত করার প্রচেষ্টা কিনা জানি না।
আলোচনাসভায় বক্তারা বলেন, শুধু সরকার চাইলেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একমাত্র দাবি হওয়া উচিত- নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন। এ সময় বক্তারা ইভিএম সংযুক্ত করে আরপিও সংশোধনের সমালোচনা করে বলেন, আইনকে অস্ত্রে পরিণত করার চেষ্টা দেখছেন তারা।
সভাপতির বক্তৃতায় সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান বলেন, এ দেশে কোনো নির্বাচন রাজনৈতিক সরকারের আমলে সুষ্ঠু হয়নি।‘সুতরাং দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। এটি জোরেশোরে দাবি হওয়া উচিত,’ বলেন তিনি।
সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, সরকার চাইলেই শুধু সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব।এ সময় তিনি উদাহরণ হিসেবে বলেন, বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা ১৯৯৬ সালে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ছিলেন। ওনার দ্বারা ১৯৯৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হয়েছে, আবার ৯৬ সালের জুনের নির্বাচনও হয়েছে। আসলে সরকার চেয়েছিল বলেই এটি সম্ভব হয়েছে।
সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইন হল আরপিও। বর্তমান নির্বাচন কমিশন অনেক পরিবর্তনের কথা বলছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল- ইভিএম অন্তর্ভুক্ত করা।অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিআর আবরার, আইনজীবী জ্যোতির্ম্ময় বড়ুয়া, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।



