• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সিলন সিটি যমুনা ব্যাংকে ক্যাসিনোর টাকা


প্রকাশিত: ৯:২৮ পিএম, ১ অক্টোবর ১৯ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২১৪ বার

 

বিশেষ প্রতিনিধি :  সিলন সিটি যমুনা ব্যাংকে ক্যাসিনোর টাকা লেনদেনে তোলপাড় চলছে। এ ঘটনায় জড়িয়ে যাচ্ছে ৩ টি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা। এদের মধ্যে একজন ‘বিতর্কিত’ ব্যাংক এমডি এর আগে বিদেশী ব্যাংকে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি নারী ঘটিত ব্যাংক কর্মীর মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যাংক এমডির অনৈতিক কর্মে সাড়া না দেয়ায় নারী কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।

যাহোক–অনলাইন ক্যাসিনো ব্যবসার ডন সেলিম প্রধানের তথ্যে ধরা খাচ্ছে গুলশানের ৩টি ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো হচ্ছে, বিদেশি ব্যাংক কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন, বাংলাদেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দি সিটি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক। ব্যাংকগুলোতে অনলাইন গেটওয়ে থেকে টাকা যেত। অনলাইন ক্যাসিনো গেমিং বাংলাদেশ শাখার মূল হোতা সেলিম প্রধানের ল্যাপটপ তল্লাশি করে এসব তথ্য মিলেছে।

শ্রীলঙ্কান একটি ব্যাংকসহ মোট তিনটি ব্যাংকে বাংলাদেশের অনলাইন ক্যাসিনোর লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব)।মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) বিকালে র‌্যাব-১ অধিনায়ক সারোয়ার বিন কাশেম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। এর আগে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে আজ বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বাংলাদেশের অনলাইন ক্যাসিনোর মূলহোতা সেলিম প্রধানের বাড়ি ও অফিসে টানা ১৮ ঘণ্টা অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব।

অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ অধিনায়ক বলেন, ‘অনলাইনে ক্যাসিনোর টাকা একটি গেটওয়েতে জমা হয়। এই গেটওয়ে থেকে তিনটি ব্যাংকে টাকা যায়। ব্যাংক তিনটি হলো, বিদেশি ব্যাংক কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলন এবং দেশের বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক দি সিটি ব্যাংক ও যমুনা ব্যাংক।সারোয়ার বিন কাশেম আরও বলেন, অনলাইন গেটওয়ে দিয়ে এই তিন ব্যাংকে টাকা ঢুকতো। লেনদেন করতো সেলিম প্রধানের সহকারী আক্তারুজ্জামান। সেলিম প্রধানের সঙ্গে সমান অংশীদারিত্বে উত্তর কোরিয়ার নাগরিক মিস্টার তু অনলাইন ক্যাসিনোর ব্যবসা করতো। এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে পাচার হতো অথবা কোরিয়ান নাগরিক নিজে এসেও টাকা নিতেন। এখানে মানি লন্ডারিং অপরাধ হয়েছে।’

সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেলিম প্রধানকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে আটকের পর রাত ১০টা থেকে পরবর্তী ১৮ ঘণ্টা ধরে তার গুলশানের বাসা এবং বনানীর অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাব-১। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় অভিযান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন সারোয়ার বিন কাশেম।

তিনি বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) আমরা একটা অপারেশন শুরু করেছি। আজকে দিনব্যাপী আমরা পূর্ণ নিরীক্ষা করেছি। আমাদের র‌্যাবের একটি সাইবার মনিটরিং সেল রয়েছে। সেই সেল দেখতে পায়, অনলাইনে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ‘অনলাইন ক্যাসিনো’র সঙ্গে সম্পৃক্ত। গতকাল আমরা জানতে পারি, অনলাইন ক্যাসিনোর বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়ক ও দলনেতা সেলিম প্রধান পরিস্থিতি বুঝে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। আমরা ত্বরিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি তাকে আটকের।

এরপর তাকে বিমান থেকে নামিয়ে আনি। তাকে নামিয়ে আনার পর আমরা তার গুলশান ও বনানীর বাসা এবং অফিস ঘেরাও করি। আমরা সারা রাত অনুসন্ধান করে ৮৪টি মদের বোতল, ২৯ লাখ ৫ হাজার ৫শ’ টাকা, ২৩টি দেশের বৈদেশিক মুদ্র উদ্ধার করেছি, যার পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। মেয়াদোত্তীর্ণসহ তার ১২টি পাসপোর্ট পেয়েছি। ১৩টি ব্যাংকের ৩২টি চেকবই পেয়েছি। একটি সার্ভার জব্দ করেছি। চারটি ল্যাপটপ উদ্ধার করেছি। দুটি হরিণের চামড়া উদ্ধার করেছি।’

ঢাকায় সেলিম প্রধানের জন্ম ১৯৭৩ সালে। ১৯৮৮ সালে সে ভাইয়ের সঙ্গে জাপানে যায়। সেখানে গাড়ির ব্যবসা করতো। পরবর্তীতে সে জাপানিদের সঙ্গে থাইল্যান্ড চলে আসে। থাইল্যান্ডে শিপইয়ার্ডের ব্যবসা করে। সেখানে এক কোরিয়ান নাগরিক মিস্টার তু’র সঙ্গে তার পরিচয় হয়।র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘কোরিয়ান ব্যক্তি সেলিম প্রধানকে বাংলাদেশে কনস্ট্রাকশন ব্যবসা করার প্রস্তাব দেয়। একই সময় ক্যাসিনো ব্যবসার কথা বলে। কোরিয়ান নাগরিকের পরামর্শে সেলিম প্রধান ২০১৮ সালে বি-২৪ এবং টি-২১ নামে দুটি গেমিং সাইট ওপেন করে। এই সাইট দুটির মাধ্যমেই অনলাইন ক্যাসিনো শুরু হয় বাংলাদেশে। এখানে কোরিয়ান নাগরিকের সঙ্গে অর্ধেক অর্ধেক শেয়ারের ভিত্তিতে ক্যাসিনো ব্যবসা করে তারা।অভিযানের সময় সেলিম প্রধানের অফিস ও বাসার সার্ভার, কম্পিউটার জব্দ করেছে র‌্যাব। সার্ভারে বিভিন্ন ধরনের গেম পেয়েছে র‌্যাব। এমনকি সেলিম প্রধানের ওয়েবসাইটেও ক্যাসিনো ব্যবসার কথা বলা আছে।