সিনহা’র দুর্নীতি প্রশ্নে দুদক বিব্রত কেন?
স্টাফ রিপোর্টার : আজ সোমবার সিনহার ‘দুর্নীতির’ তদন্ত নিয়ে প্রশ্নে দুদক চেয়ারম্যান এর ‘বিব্রত’হওয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের শেষ সময়ে এই সরকারের’ই প্রভাবশালী এক মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়েও তিনি উষ্মা প্রকাশ করেছেন। এর ক’দিন আগে দেশের উত্তরাঞ্চলে গোবিন্দগঞ্জের আবুল কালাম আজাদ এমপির দুর্নীতি তদন্ত না করা নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট হলে দুদককে রুল জারি করে কারণ দর্শাতে বলে। জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জের এমপি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। বিচারপতি শেখ সৈয়দ হাসান আরিফের বেঞ্চে অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম এ রিট দায়ের করেন।
শুনানি শেষে কেন তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আমলে নেয়া হবে না এবং তদন্ত করা হবে না তা জানতে চেয়ে দুদককে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জানা গেছে, গোবিন্দগঞ্জের ফজিলাতুন্নেছা কলেজের একজন শিক্ষক এমপি আজাদের বিরুদ্ধে বারবার দুদকে অভিযোগ করলেও দুদক তা আমলে না নেয়ায় তিনি উচ্চ আদালতে আসেন।
এরপরও দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সরকারের আইনমন্ত্রীর মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে বললেন, “শোনেন, মাননীয় মন্ত্রী উনার ইচ্ছা যা, বলতেই পারেন। মাননীয় মন্ত্রীর কথায় তো মামলা হবে না, অনুসন্ধানও হবে না। সরকার নিজেরাই বলে স্বাধীন কমিশন। সো মাননীয় মন্ত্রী যা বলেছেন, উনারটা উনাকেই জিজ্ঞাস করেন, আমাকে না। মন্ত্রীর কথায় কোনো প্রভাব দুদকে পড়বে না। এটা আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি। দুদক চেয়ারম্যানের এহেন বক্তব্যে তোলপাড় চলছে।
যাহোক, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিব্রত হওয়া দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে পদত্যাগী বিচারপতি সিনহার লেখা বই নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের এক কথার পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সাংবাদিকরা তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইছিলেন দুদক চেয়ারম্যানের কাছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর ক্ষমতাসীনদের রোষের মুখে থাকা বিচারপতি সিনহা গত অক্টোবরে ছুটি নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমানোর পর সেখান থেকে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
এরপর তার বিরুদ্ধে নানা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে; তার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, এমন একটি দুর্নীতির অনুসন্ধানে দুদকও নামে। সম্প্রতি বিচারপতি সিনহা তার লেখা বইয়ে দাবি করেন, তাকে জোর করে পদত্যাগ করিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।এরপর তাকে নিয়ে নতুন করে আলোচনার মধ্যে আইনমন্ত্রী রোববার বলেন, বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।সাংবাদিকরা দুদক চেয়ারম্যানের কাছে ওই তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ তার বিব্রত হওয়ার কথা বলেন।
জানা যায়, ফারমার্স ব্যাংকের গুলশান শাখা থেকে দুই কথিত ব্যবসায়ী অবৈধভাবে চার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছেন। সেই টাকা অন্য আরেক ব্যবসায়ী হয়ে এস কে সিনহার বাড়ি বিক্রি বাবদ তার ব্যাংক হিসাবে ঢুকেছে বলে একটি অভিযোগ দুদক তদন্ত করছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে; সেই প্রসঙ্গেই বলছিলেন আইনমন্ত্রী।দুদক চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, “একবার আপনারা লিখেছেন, চার কোটি টাকা ইয়ে হয়েছে। সেটা দুইজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে একটা অনুসন্ধান। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ঋণ প্রদান এবং ঋণের সেই টাকা অন্য কোথায়ও যাওয়া নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।
“সেই টাকার ব্যাপারে পত্রিকায় আপনারা একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন। আমরা কিন্তু কখনও বলিনি। অনুসন্ধান শেষ হল না, দুদক থেকে এমন একটা কথা বেরিয়ে যাবে, দিস ইজ ভেরি আনফরচুনেট।সেই চার কোটি টাকার অনুসন্ধান দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এস কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি অভিযোগ দুদকে এসেছে কি না- জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান পাল্টা সাংবাদিকদের বলেন, “কই, আপনাদের কাছে ১১টি অভিযোগ আছে না কি? থাকলে দেন।”
বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার পর তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনসহ সুনির্দিষ্ট ১১টি অভিযোগের কথা সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়। বলা হয়, ওইসব অভিযোগের কারণে আপিল বিভাগের অন্য বিচারকরা আর প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বসে মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি নন।
সাবেক ওই প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদকে কোনো অনুসন্ধান চলছে কি না- জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, “সেই প্রশ্নের জবাব এখন আমি দেব না। আপনাদেরকে ওয়েট করতে হবে। আপনারা এভাবে একটা প্রশ্ন করলে আমার জন্য অসুবিধা হয়। কারণ আমাকে দেখতে হবে, বুঝতে হবে, জানতে হবে।তিনি বারবার এড়িয়ে যাওয়ায় সাংবাদিকরা সরাসরি উত্তর পেতে আবারও প্রশ্ন করেন।সাবেক আমলা ইকবাল মাহমুদ তখন বলেন, আপনারা এমন একজন ব্যক্তির ব্যাপারে বলছেন, অনেক বড় ও বৃহৎ। আমাকে বিব্রত না করাটাই সবার জন্য ভালো।”



