• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সিটি ব্যাংকের এমডির মান রক্ষা ইত্তেফাকের জুতা মেরে গরু দান


প্রকাশিত: ৪:৪১ পিএম, ২২ আগস্ট ২১ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২২০ বার

সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বিরুদ্ধে দৈনিক ইত্তেফাকের এই সেই ভুল রিপোর্ট (ইনসেটে)

বিশেষ প্রতিনিধি : সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের মান রক্ষায় দৈনিক ইত্তেফাক জুতা মেরে যেন গরু দান করল। এ যেন এক অন্যরকম ভুল শিকার। কথায় বলে মানির মান আল্লাহ রাখে। সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের মান রক্ষায় অবশেষে দৈনিক ইত্তেফাক ভুল শিকার করে নিজেদের মান বাঁচিয়েছে। পত্রিকাটি নিজ উদ্যোগে পত্রিকায় ছেপেছে যে তারা ভুল তথ্য ছেপেছিল।

কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের বিরুদ্ধে ইত্তেফাক ভুল তথ্য ছাপায় সারা বিশ্বে অবস্থানরত বাংলাদেশীরা ইত্তেফাকের বিরুদ্ধে ছি ছি বর তুলে সোসাল মিডিয়ায় বক্তব্য বিবৃতি দেয়। বিবৃতি দাতারা একটি প্রাচীন দৈনিকের রিপোর্টার, নিউজ এডিটরদের ”ভুল রিপোর্ট” ছাপায় তাদের
যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে! মাসরুর আরেফিনের জনপ্রিয়তার জোয়ারে সোসাল মিডিয়ায় বক্তব্য বিবৃতি’র তোপে ইত্তেফাকের অতীত ঐতিহ্য ধূলিস্যাত হওয়ার জোগাড় হয়। ফলে ইত্তেফাক বাধ্য হয় ভুল শিকার করতে ক্ষমা চাইতে।মাসরুর আরেফিনের জন্যে প্রখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীও লন্ডন থেকে বিবৃতি দিয়েছেন।

যাহোক, তর্কশাস্ত্রের তৈলাধার পাত্র না পাত্রাধার তৈল অথবা ডিম আগে না মুরগি আগে— এ প্রশ্নের সমাধান না হলেও গরু মেরে জুতা দান, না জুতা মেরে গরু দান—এর সমাধান রয়েছে। এক্ষেত্রে অবশ্য দুটোই সত্য। কেননা গরু মেরে পরে তাকে জুতা দান যেমন সম্ভব, তেমনি জুতা মেরে পরে তাকে গরু দান করাও সম্ভব। বাংলা ব্যাকরণে রচনা, বিরচন, প্রবাদ-প্রবচন এবং বাগধারা অংশে এ প্রবাদ দুটোই রযেছে। সুবল মিত্র সম্পাদিত সরল বাঙ্গালা অভিধান-এর অবশ্য একটু বাড়তিই লেখা রয়েছে: গরু মেরে বামুনকে জুতো দান অর্থ গোবধ করে পা স্খলনার্থে গোচর্মে নির্মিত জুতো ব্রাহ্মণকে দান করা।

অর্থাত্ পাপ কাজের সাহায্যে পুণ্য সঞ্চয়ের চেষ্টা। ইদানীং এটা খুব বেশি করেই হচ্ছে।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বিএ/ বিএসএস প্রোগ্রামের বাংলা ভাষা-২ বইটিতে জুতা মেরে গরু দান-এর অর্থ দেয়া হয়েছে— প্রথমে অপমান করে পরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা; ড. শাহ জাহান মনির-এর বাংলা ব্যাকরণ বইটিতে গরু মেরে জুতো দান-এর অর্থ দেওয়া হয়েছে— কারো যথেষ্ট ক্ষতি করে পরে তার সামান্য উপকার করা।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় এ দুটো অর্থ দুটো দিক থেকেই ঠিক। বিষয়টা অবশ্য এসেছে এভাবে— জনৈক ধূর্ত মুচি কোনো এক ব্রাহ্মণের একটি গরু মেরে তার চামড়া তুলে নেয়। পরে জানাজানি হয়ে গেলে মুচি ঐ চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে ব্রাহ্মণকে উপহার দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এ থেকেই প্রবাদটির প্রচলন।
দয়ালু ব্রাহ্মণ অবশ্য মুচিকে ক্ষমা করে থাকবেন। কিন্তু বাস্তবে এত বড় সর্বনাশ করে সামান্য ক্ষতিপূরণ করলে তা কারো পক্ষে মেনে নেবার কথা নয়। সনাতন ধর্মে শ্রাদ্ধে গরু দান শ্রেষ্ঠ। পরের স্তরে অন্ন বস্ত্র জল। ভূমি দান এখন হয় না বললেই চলে। তাই গরু দানের প্রসঙ্গ ওঠে দানক্ষেত্রে।

বাংলা একাডেমি একুশে গ্রন্থমেলায় মাসরুর আরেফিন অটোগ্রাফ দিতে ব্যস্তসময় কাটাচ্ছেন-

দ্বিতীয় ক্ষেত্রে কাউকে জুতা মারা কেবল প্রহার করা নয়— রীতিমত অপমান করা। তাই কাউকে জুতা মেরে পরে তার ক্ষতিপূরণ বাবদ গরু দান করলেও কি অপমানের কালিমা পুরোপুরি মুছে যায়? এক্ষেত্রে এরই অনুকরণে কাউকে প্রথমে অপমান করে পরে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা বা ক্ষমা প্রার্থনা করার বাগধারাটি এই জুতা মেরে গরু দান। গরু মেরে জুতা দান প্রবাদটির আরো বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় ক্ষুদ্র কিছু করার জন্য ব্যাপক ক্ষতিকারক আয়োজন। যেমন রবীন্দ্রনাথের ‘সামান্য ক্ষতি’ কবিতায় বর্ণিত রানীর শীতের দিনে স্নান সেরে শীত নিবারণ কল্পে গরিব পল্লিবাসীদের ঘরে আগুন লাগিয়ে আগুন তাপানো। এর ক্ষতিপূরণে মহারানী যতই যুক্তি দেখান— সে নিছক অহংকার ছাড়া কিছুই নয়।

বিশিষ্ট লেখক ব্যাংকার অর্থনৈতিক চিন্তাবিদ ভাষ্যকার গবেষক জনপ্রিয় উপন্যাসিক বিশেষ করে ১৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের ওপর ”আগস্ট আবছায়া’য়” তিনি যা লিখেছেন তা নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও হত্যার নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উম্মোচিত হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার নেপথ্যে ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হলে মাসরুর আরেফিনের ”আগস্ট আবছায়া” নতুন মেরুকরণ করবে। গোয়েন্দাদের নতুন দিকনির্দেশনাও রয়েছে আগস্ট আবছায়ায়।

মাসরুর আরেফিনের
রিপোর্ট ভুল ছিল-ইত্তেফাক

সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রকাশনা গ্রন্থ

যাহোক- ইত্তেফাকে গত ৮ আগস্ট দৈনিক ইত্তেফাকে ‘‘পরীমণি ও পিয়াসার সঙ্গে ২১ প্রভাবশালীর সখ্য’’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের এক স্থানে ভুলবশত একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নাম ছাপা হয়েছে। এ ছাড়া ওই সংবাদে ওই ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসাবে শওকত রুবেল নাম ছাপা হয়েছে। এই দুটি তথ্যই নিঃসন্দেহে ভুল ছিল।

ঘটনার সঙ্গে ওই ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিনের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তার নামটি ভুলবশত প্রকাশ হওয়ায় এবং তাতে করে তার ব্যক্তি মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হওয়ায় ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ দুঃখ প্রকাশ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ইত্তেফাক কর্তৃপক্ষ আরো সচেতনতার পরিচয় দেবে।

এ কথা স্বীকার করতে আমাদের কোনো কার্পণ্য নেই যে, খবরে ছাপা হওয়া এই দুটি তথ্যই ভুল ছিল। তথ্যগত বিভ্রান্তির কারণে খবরটি আমাদের ছাপা সংস্করণে প্রকাশিত হয়ে যায়, যদিও আমরা আমাদের অনলাইন সংস্করণে এটিকে তৎক্ষণাৎ সংশোধন করে ফেলি।

দেশের সবচেয়ে ঐতিহাসিক মর্যাদা সম্পন্ন পত্রিকা হিসেবে আমরা সবসময় সচেতন থাকি যাতে করে কোনো প্রমাণ ছাড়া এবং আমাদের কোনো ভুলের কারণে কোনো ব্যক্তি মানুষের সম্মান ও মর্যাদা কখনো ক্ষুণ্ণ না হয়।

সিটি ব্যাংক এমডির ব্যক্তি মর্যাদাহানির এ বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং আমাদের এই অনিচ্ছাকৃত ও অনিভিপ্রেত ভুলের জন্য তার ও তার পরিবারের কাছে আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি।