• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

সাবিরাদের কপাল মন্দ যেকারণে-


প্রকাশিত: ৩:৩০ পিএম, ২ ডিসেম্বর ১৮ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৮১ বার

কোর্ট রিপোর্টার : যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার দণ্ড স্থগিতের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ। এর আগে শনিবার সাবিরা সুলতানার দণ্ড স্থগিতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।রোববার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের নিয়মিত বেঞ্চ এ আদেশ বহাল রাখেন। এর ফলে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবিরা সুলতানার অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকল না। তার মত যারা দুই বছরের বেশি সাজায় দণ্ডিত তাদের নির্বাচন করার পথ বন্ধই হয়ে গেলো।

আপিল বিভাগে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনালে মাহবুবে আলম, তার সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান ও এবিএম বায়েজিদ। সাবিরা সুলতানার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, তার সঙ্গে ছিলেন আমিনুল ইসলাম।

আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, অ্যাটর্নি জেনারেল গতকাল অস্বাভাবিকভাবে চেম্বার আদালত বসিয়ে হাইকোর্টের আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়েছেন। আজকে আপিল বিভাগ সেই স্থগিতাদেশই চলমান রেখেছেন। বিএনপির প্রার্থীদের অযোগ্য ঘোষণার জন্য সরকার এই আইনগত কৌশলের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

তিনি জানান, এই আদেশের বিরুদ্ধে আইনগত প্রতিকার পাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না- সে বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের করা আবেদনে পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী শনিবার হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেন। একই সঙ্গে রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য পাঠিয়ে দেন।

জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় চলতি বছর ১২ জুলাই ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে দু’টি ধারায় তিন বছর করে মোট ৬ বছরের সাজা দেন ঢাকার একটি আদালত। একই সঙ্গে দু’টি ধারায় পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। রায়ে সাবিরা সুলতানার এক কোটি ৭৮ হাজার ১৩৫ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও আদেশ দেওয়া হয়।

এরপর গত ১৭ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ-৭ এর বিচারক মো. শহিদুল ইসলামের আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিনের আবেদন করেন তিনি। আদালত শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ওই রায়ের দণ্ড ও সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করলে তা গত ৩০ জুলাই হাইকোর্ট তা শুনানির জন্য গ্রহণ করেন।

এরপর এ মামলায় গত ৬ আগস্ট সাবিরা সুলতানা হাইকোর্ট থেকে জামিন পান। পরে ১৪ অক্টোবর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় দণ্ড ও সাজা স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবিরা সুলতানা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের একক বেঞ্চ ২৯ নভেম্বর তা মঞ্জুর করেন।