সাবাস ডিএমপি’র জনতার পুলিশ! রিক্সাচালক জানেনা মারধরকারী কারাগারে-

বিশেষ প্রতিনিধি : সাবাস ডিএমপি’র জনতার পুলিশ! ভুক্তভোগী রিক্সাচালক মার খেয়ে নিরবে চলে গেলেও পুলিশ ধরেছে আসামীকে। এ যেন বিচার না চাইতেই বিচার। এ যেন গনতন্ত্রী পুলিশ!! জানা গেছে, রিক্সাচালককে মারধরের ভিডিও দেখেই আসামী ধরল ডিএমপি পুলিশ। বংশাল থানা কর্তৃক রিক্সাচালক নির্যাতনকারীকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ এবং কোর্ট কর্তৃক আসামীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
গত ০৪/০৫/২০২১ ইং তারিখ দুপুর বেলায় বংশাল থানা এলাকায় অজ্ঞাত একজন ব্যক্তি এক অসহায় রিক্সাচালকের উপর অমানবিক নির্যাতন চালান।অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং এর সাথে অনবরত চড়, থাপ্পর মেরে রিক্সাচালককে আহত করার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে ভাইরাল হয়। উক্ত ভিডিওটি পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সহ অফিসার ইনচার্জ বংশাল থানার দৃষ্টিগোচরে আসে। যার ফলে বংশাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশ হতে উক্ত নির্যাতনকারী ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বংশাল থানাধীন ৯৭/১, কাজী আলাউদ্দিন রোড (সুলতান এন্টার প্রাইজ বেবী সাইকেল) নামের দোকান হতে আসামীকে গ্রেফতার করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামী তার নাম মোঃ সুলতান আহম্মেদ বলে জানায় এবং অজ্ঞাতানামা রিক্সাচালককে মারধর করেছে মর্মে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে। স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায় উক্ত আসামী কাজী আলাউদ্দিন চৌরাস্তায় (সাবেক সোহাগ কনফেকশনারী বর্তমানে ঢাকা কনফেকশনারীর সামনে চৌরাস্তায়) ইং-০৪/০৫/২০২১ তারিখ বেলা অনুমান ০১.৩৫ টায় অজ্ঞাতনামা এক রিক্সাচালককে মারধর করেছেন।
মারধরের কারণে রিকশাচালক রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে ধরাধরি করে রিক্সায় উঠিয়ে দিলে রিক্সাচালক চলে যান। আশেপাশের এলাকায় অজ্ঞাতনামা ভিকটিম রিক্সাচালকে খোঁজাখুজি করে তার কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল ও মিটফোর্ড হাসপাতালসহ আশেপাশের ক্লিনিকে উক্ত রিক্সাচালক চিকিৎসার জন্য গিয়েছেন কিনা এ ব্যাপারে অনুসন্ধান করে কোনো সন্ধান না পাওয়ায় আপাততঃ উক্ত আসামীকে ফৌঃ কাঃ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার পূর্বক বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১৫ তে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামী পক্ষের বক্তব্য শ্রবন শেষে আসামীর জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরনের আদেশ দেন। আসামীর জামিন শুনানির পরবর্তী তারিখ ২৩/০৫/২০২১ ইং ধার্য আছে। অর্থাৎ গ্রেফতারকালীন সময় হতে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অভিযুক্ত মোঃ সুলতান আহম্মেদকে ১৯ দিন কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।অজ্ঞাতনামা ভিকটিম রিক্সাচালকের খোঁজ পাওয়া গেলে তার অভিযোগ অনুসারে পরবর্তী সময়ে আইন অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



