সাইনুদ্দিন খুনী হ্যাভেলি আউয়ালের চেলা মানিক ক্রসফায়ার

বিশেষ প্রতিনিধি/পল্লবী প্রতিনিধি :মিরপুরের পল্লবীর ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় সন্তানের সামনে বাবাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার এক আসামি মানিক র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।র্যাব-৪-এর অপারেশনস অফিসার এএসপি জিয়াউর রহমান চৌধুরী শুক্রবার সকালে জাতিরকন্ঠ কে এ তথ্য জানিয়েছেন। র্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোজাম্মেল হক বলেন, রাতে আমাদের একটি টহল টিম কাজ করছিল। তাদের কাছে খবর আসে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ ইস্টার্ন হাউজিং এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। টহল টিমটি সেখানে গেলে র্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে, আত্মরক্ষার্থে র্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। কিছুক্ষণ পর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, নিহত ব্যক্তি নাম মানিক। পল্লবীতে সাইনুদ্দিনকে যে দুজন কোপাচ্ছিল তার একজন হলো মানিক।
ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান মোজাম্মেল হক।১৬ মে বুড়িরটেকের বাসিন্দা সাহিনুদ্দিনকে বাসা থেপল্লবীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে পল্লবীরকে ডেকে নিয়ে তার সন্তানের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন এ ঘটনায় সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগম পল্লবী থানায় ২০ জনের নামে মামলা করেন।মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এম এ আউয়াল কে। আউয়ালকে ভৈরব থেকে গ্রেপ্তারের তথ্য বৃহস্পতিবার ঢাকায় র্যাবের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়।
ওই হত্যা মামলায় আউয়ালসহ এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার পুলিশ যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ থেকে সুমন বেপারীকে এবং পল্লবী থানাধীন কালাপানি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে আসামি রকি তালুকদারকে। এর আগে পল্লবী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দিপু ও মুরাদ নামে আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
সাহিনুদ্দিনের মা আকলিমা বেগমের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রোপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি আউয়ালের সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা সাহিনুদ্দিনকে হত্যা করেছে। আলীনগর এলাকায় সাহিনুদ্দিনদের আনুমানিক ৫ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেয়ায় খুন হতে হয়।
১৯ মে সকালে মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে।



