সংলাপ ফলপ্রসু-নানা সংশয়
শফিক রহমান : আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পর প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সঙ্গে ড. কামালের নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের বহুল আলোচিত সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই এই সংলাপ কতটুকু ফলপ্রসু হবে তা নিয়ে চলছে নানা সংশয়। এজন্য তাঁরা বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন। বলা হয়েছে, বিরোধী ফ্রন্ট এর ভেতরে কিছু কিছু দল আছে যারা প্রতিহিংসার রাজনীতি, সন্ত্রাসের রাজনীতি এবং জঙ্গিবাদী রাজনীতি করে।
তারা যদি এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে তাহলে সুন্দর সমাধান হবে। কারণ, এগুলোই তো মূল সমস্যা রাষ্ট্রের জন্য । এখানে জঙ্গিবাদ তৈরি করা এবং উস্কে হচ্ছে, সহিংস রাজনীতি, পেট্রোল বোমার রাজনীতি, আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি হচ্ছে। কিন্তু তারা সেসব থেকে বেরিয়ে আসছে না। এর ফলে সংলাপে কিভাবে সমাধান সম্ভব তা কেউ আবিস্কার করতে পারছে না।
সংলাপ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রংপুর পর্যটন মোটেলে আমাদের রংপুর প্রতিনিধিকে বৃহস্পতিবার দুপুরে বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট যে দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপে বসছেন সেটি সফল হবে কিনা সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, তারা (ঐক্যফ্রন্ট) হাসিনার পদত্যাগ চায়। এমন আরও অনেক কিছু চেয়েছেন তারা। সেগুলো তো আর মানা সম্ভব না। এরশাদ বলেন, ‘তারা বলেছেন, সংবিধান মোতাবেক আমাদের নির্বাচন হবে। সংবিধানের বাইরে সব চাইছে তারা। অতএব আমার মনে হয় এটা ফলপ্রসূ হবে না।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ বলেন, যদি কোনো পক্ষ সংবিধানের বাইরে গিয়ে সমাধান খুঁজতে চায় তাহলে সেখানে তো স্বাভাবিকভাবে অসম্ভব। কেননা, সংবিধান সংশোধন করবে পার্লামেন্টে। কোনো ব্যক্তি সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। এই ক্ষেত্রে যদি মুক্তমন নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য, অবাধ, নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে আলোচনা হয়, তাহলে আমি মনে করি সংলাপে সুফল বয়ে আনতে পারে। আর যদি আলোচনা ‘তাল গাছ আমার’ এটা নিয়ে এগোতে থাকে, স্বাভাবিকভাবেই ঐ জায়গায় সমাধানের পথ দূরূহ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, যেহেতু রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। তিনি উদার মনের। তার উদারনৈতিক চিন্তা, চেতনা তার যে সরকারের নীতি এই উদারনীতিকে যদি বিরোধী দলগুলো গ্রহণ করতে পারে, তাহলে নিশ্চয় বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য একটি সুফল বয়ে আনবে। তবে সমাধান আসতে হবে সংবিধানের ভিত্তি। সংবিধান লঙ্ঘন করার ক্ষমতা কারো নাই।তিনি বলেন, ঐক্যফ্রন্ট বা বিএনপি বলছে, সরকার একদিকে দমনপীড়ন চালাচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক রায় দিচ্ছে অন্যদিকে সংলাপের প্রস্তাব দিচ্ছে। এটি সরকারের দ্বিচারিত্রিক আচরণ। এতে সংলাপ ফলপ্রসু হবে কিনা তাদের সংশয় রয়েছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রায় হওয়া না হওয়া পুরোপুরি আদালতের উপর নির্ভর করছে। এটি সরকারের ব্যাপার নয়। সরকারের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। দাবি দাওয়া নিয়ে কথা হতে পারে। কিন্তু এখন যদি যারা সংলাপে আসবে বা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এমন সব দাবিনামা থাকে, যেটি সংবিধানের আওতায় পড়ে না। সেক্ষেত্রে তাদের সেই দাবি পরিহার করতে হবে। তবেই সম্ভব একটি সমাধান। মানুষের মাঝে যে সংলাপ নিয়ে একটি সুন্দর প্রত্যাশা এবং মানুষ যে একটি সহনশীল পরিবেশ চায় দেশে, সে আশা মানুষের পূরণ হবে। সবাইকে প্রতিহিংসার রাজনীতি ছেড়ে দিতে হবে।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাংলাদেশের মানুষের কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য নেতা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপি নেতাকর্মীরা বেগম খলেদা জিয়াকেই নেত্রী মনে করেন এবং তারেক রহমানকেই উত্তরাধিকারী হিসেবে কাণ্ডারি মনে করেন। এ নিয়ে কারো কোনো সংশয় নেই। তবে, বিএনপির অন্য নেতা-কর্মীদের মতো তার মধ্যেও বৃহস্পতিবার হতে যাওয়া সংলাপ নিয়ে সংশয় আছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যে আলোচনার কথা বলেছেন সে জন্য তাকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আলোচনা কতোটা ফলপ্রসূ হবে সেটা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে বেগম জিয়াকে দেওয়া ফরমায়েশি সাজার ফলে।
তবে আলোচনায় যেহেতু আমরা বিশ্বাসী সেহেতু সরকার যে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে তার জন্য ধন্যবাদ জানাই। এর সঙ্গে সঙ্গে বলতে চাই, শুধু আলোচনা নয়, কার্যকর আলোচনা করতে হবে এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তারা যেন উদ্যোগী হয়। সেটির জন্য খুব কম সময় আছে হাতে। সরকার যদি সে বিবেচনায় মাথায় নিয়ে এগিয়ে যায় তাহলে তাদের জন্য ভালো, দেশের জন্য সবার জন্য ভালো।



