• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

শ্লীলতাহানি নাকি নাটক! এইসব চিত্তরঞ্জন’রা ডোবাচ্ছে আ’লীগকে


প্রকাশিত: ৭:৫৭ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২১ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৭৮ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/কোর্ট রিপোর্টার : স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ যখন উন্নয়নের রোলমডেল হয়ে দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাবমূর্তি বিশ্বে উজ্জল দৃষ্টান্ত হয়েছে তখন এইসব চিত্তরঞ্জনরা ডোবাচ্ছে সব অর্জন। একদিন আগেও প্রধানমন্ত্রী বললেন, এত উন্নয়ন করছি তারপরও সমালোচনা কেন? এই যে কেন এর উত্তর খুঁজতে হলে এইসব চিত্তরঞ্জনদের ঝেটিয়ে বিদায় করতে হবে? কারণ, এটা সহজেই অনুমেয়-যে, শ্লীলতাহানি কিন্তু নাটক নয়! চরম ক্ষতির শিকার না হলে কোনো ভুক্তভোগী কি থানা পর্যন্ত যায়!

একসময় এইসব চিত্তরঞ্জনরা সবুজবাগের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতেন। নেত্রীর শ্লোগান ওয়ালে লিখে নিজেকে লীগার সাজিয়েছেন। দলবাজী তেলবাজী করে নিজের কোনো যোগ্যতা থাকলেও, অন্তরে লীগ এর লেশমাত্র না থাকলেও কাউন্সিলর পদটা বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছেন। যা ‘পরীক্ষা’ করলেই মিলবে। তারপর এই যে লীগের বদনাম হলো এটা কি জামিন নিলেই উদ্ধার হবে??সরেজমিনে জানা গেছে, অবৈধভাবে টাকা বানিয়ে এইসব চিত্তরঞ্জন’রা ডোবাচ্ছে আ’লীগকে। ফলে ওরা শ্লীলতাহানি কে নাটক বানায়! জানা গেছে, একবার শ্লীলতাহানির পর পুনরায় ওই নারীকে বাসায় ডাকেন সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এই চিত্তরঞ্জন দাস।

মামলায় ভুক্তভোগীর দায়ের করা এজাহার থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। নিজেকে গণমাধ্যমকর্মী উল্লেখ করে সবুজবাগ থানায় মামলাটি দায়ের করেন তিনি। রোববার (১২ সেপ্টেম্বর) মামলার এজাহার আদালতে আসে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ এজাহার গ্রহণ করেন। এরপর সবুজবাগ থানার এসআই (নিরস্ত্র) আসলাম আলীকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।মামলার এজাহারে বলা হয়, সবুজবাগ কালীবাড়ি সড়ক সংলগ্ন এলাকায় ওই নারীর শ্বশুরের দোকান রয়েছে। তার পাশের দোকানদার দোকান সংস্কার করতে গেলে কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস গরিব চা দোকানদারের কাছে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন। চাঁদার ব্যাপারে সত্যতা যাচাই করতে ওই নারী রাত পৌনে ৮টার দিকে চিত্তরঞ্জন দাসকে মোবাইলে ফোন দেন। চিত্তরঞ্জন দাস তাকে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তার রাজারবাগ কালীবাড়ি কার্যালয়ে যেতে বলেন। রাত পৌনে ১০টার দিকে ওই নারী স্বামীসহ সেখানে যান।

চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে চিত্তরঞ্জন দাস দুই-চারটি কথা বলে তাকে পাশের কক্ষে বসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর চিত্তরঞ্জন দাস ওই কক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেন। ওই নারীকে বসা থেকে উঠে দাঁড়ানোর জন্য বলেন। ওই নারী উঠে দাঁড়ালে চিত্তরঞ্জন দাস তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং তার স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন। নানারকম অঙ্গভঙ্গি করে তাকে কু-প্রস্তাব দেন। মান-সম্মানের ভয়ে ওই নারী চিৎকার করেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করেন। চিত্তরঞ্জন দাস তাকে পরের দিন আবার সেখানে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। সেই নারী হ্যাঁ বলে কোনোরকমে নিজেকে রক্ষা করে বের হয়ে আসেন।

তবে চিত্তরঞ্জন দাস এ অনৈতিক ও আপত্তিকর ভিডিও প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, একটি নাটকের জন্য রিহ্যারসাল হিসেবে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল। শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মু. মুরাদুল ইসলাম। ওই ঘটনার বিষয়ে চিত্তরঞ্জন দাস গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি কোনো আপত্তিকর ভিডিও নয়। আমি ওই নারীর সঙ্গে নাটকের রিহার্সাল করেছি। এটি মূলত একটি নাটকের সংলাপ। আমার এলাকার বরদেশ্বরী মন্দিরে চিত্রায়িত। ভিডিওটি খেয়াল করলেই বুঝবেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে ওই নারী সোফায় বসে আছেন। সেখানে এসে হাজির হন চিত্তরঞ্জন দাস। তিনি ওই নারীকে কিছু একটা বলেন। এরপর তাকে সোফা থেকে উঠে আসার জন্য হাত দিয়ে ইশারা করেন। প্রথমে ওই নারী উঠতে চাচ্ছিলেন না। পরে তিনি উঠে দাঁড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাউন্সিলর তাকে জোর করে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় ওই নারী তার কাছ থেকে ছাড়া পেতে চেষ্টা করেন। অনেক চেষ্টার পর শেষে পর্যন্ত তিনি ছাড়া পান। এ বিষয়ে সবুজবাগ থানার ওসি জানান, ফেসবুকে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ভুক্তভোগী নারী থানায় এসে চিত্তরঞ্জন দাসের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

অবশেষে জামিন সেই চিত্তরঞ্জনের-

শ্লীলতাহানির মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর চিত্তরঞ্জন দাস।আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম মাহমুদা আক্তারের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন চিত্তরঞ্জন দাস।তারপক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন প্রমুখ আইনজীবী জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ৫ হাজার টাকা মুচলেকায় চিত্তরঞ্জন দাসকে জামিনের আদেশ দেন।