• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

শোকের শক্তিতে রাজনীতিমুখর ১৫আগস্ট


প্রকাশিত: ৬:১৫ পিএম, ১৩ আগস্ট ১৮ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৪৩ বার

শফিক রহমান : শোকের শক্তিতে এবার ঈদ রাজনীতি মুখর রাজনীতিবিদ ও দেশবাসী।২২ আগস্ট ঈদ উল আজহা সামনে রেখে এবার আবর্তিত হচ্ছে ঈদ রাজনীতি ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোকদিবস এর নানা কর্মসূচি।দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানা শহরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ও জোটের রাজনীতির পালে যেন হাওয়া লেগেছে।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ইতোমধ্যেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সরকারি দলের মন্ত্রী এমপি এবং মনোনয়নপ্রার্থীদের জনসংযোগমুলক তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। মাঠে নেমে পড়েছেন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। সারা দেশে এবারই প্রথম প্রচারণামূলক পশু কুরবানির বিশেষ আয়োজন চলছে। ওদিকে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনী যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার জন্য সমমনা রাজনৈতিক অংশীদার বাছাই করার প্রক্রিয়াও চলছে।

নির্বাচন কমিশন ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। তার আগে দুই মাসই মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তুতির সময়। তবে আপাত দৃষ্টিতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন-প্রস্তুতির সুবিধাজনক অবস্থায়ই রয়েছে।

একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে নির্বাচনী মোর্চা গঠনের প্রচেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এ ক্ষেত্রে জোটের বাইরের বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে বিএনপির নেতারা বৈঠক করেছেন। বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গঠনের অগ্রগতি এবং ঈদ-পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতারা’ও বৈঠক করেছেন। সূত্র বলছে পূর্বের আলোচনার আলোকে আজকেও বসছে মুলতবি বৈঠক।

গত শনিবার বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের প্রধান শরীক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ দূত এইচ এম এরশাদ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে ছয় দফাভিত্তিক নির্বাচনী সমঝোতা চুক্তি করে জাতীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেবার ঘোষণা দিয়েছে।এর আগে মরহুম শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হকের প্রতিষ্ঠিত দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ ৩৪টি ইসলামি দল নিয়ে এরশাদের সঙ্গে ইসলামি মহাজোট গঠন করা হলেও এতোদিন তাদের তেমন তৎপরতা দেখা না গেলেও ফের তারা সরব হয়েছেন।

ওদিকে আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বাম প্রগতিশীল দল হিসেবে সক্রিয় আটটি দল জোটবদ্ধ হয়ে সাংগঠনিক ও গণসংযোগমূলক কর্মসূচি শুরু করেছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন দু’টি বড় জোটের বাইরে জনগণের মুক্তির বিকল্প জোট হিসেবে তারা স্থানীয় পর্যায়ে বিপুল সাড়া পাচ্ছেন বলে জানান বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা সাইফুল হক।

এদিকে সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলো সুরক্ষার জন্য একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া। ২০১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ ঐক্য প্রক্রিয়া এতদিন নেপথ্যে কাজ করে গেলেও এবার তাদের কর্মসূচি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেবার জন্য আগামী ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একটি সমাবেশের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সদস্য সচিব আ ব ম মোস্তফা আমিন।

বিএনপি এবার নির্বাচনে আসবে এটা তাদের সিনিয়র নেতৃত্ব একাধিকবার নানাভাবে বলেছেন। তবে তারা চান নিজেদের মতো করে কিছু সুবিধা আদায় করতে যা সরকার দিচ্ছেনা। তারা অনেক আগে থেকেই জানেন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি বর্তমান সরকার মেনে নেবে না।

এ নিয়ে তারা বিএনপিসহ ভিন্নমতের রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কোনো সংলাপও চায় না।যদিও বিএনপি নিরপেক্ষ সরকার আন্দোলনে সফল হতে পারেনি। তারপরও আগামী অক্টোবরকে টার্গেট করে পর্যায়ক্রমে আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তাও করছেন কতিপয় বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। পাশাপাশি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাব্য সব প্রস্তুতিও এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

সরকারি দলের চিন্তা-ভাবনা অনুযায়ী অক্টোবরে গঠন করা হবে ‘সর্বদলীয় নির্বাচনকালীন সরকার’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সাতটি রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র জোটের এমপিদের সমন্বয়ে গঠিত হবে ছোট আকারের একটি মন্ত্রিসভা।

বর্তমান সংসদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় নির্বাচনকালীন সরকারেও তাদের প্রতিনিধি রাখার সুযোগ হবে না। সরকারের নিয়মিত কাজ পরিচালনার পাশাপাশি একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে এ নির্বাচনকালীন সরকার। রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের এই সময়টাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে চায় বিএনপি।