• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

শিবগঞ্জে প্রকাশ্য ক্যাসিনো সেলিমের হুন্ডিবাজরা –


প্রকাশিত: ৬:০৪ পিএম, ১ অক্টোবর ১৯ , মঙ্গলবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৩৯ বার

বিশেষ প্রতিনিধি / শিবগঞ্জ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে প্রকাশ্য ঘুরছে ক্যাসিনোবাজ হুন্ডি ডন সেলিম প্রধানের সহযোগী হুন্ডিবাজ আবু তালেব, রুবেল ও ভারতীয় এনামুলরা ক্যাডাররা। ঢাকায় সেলিম গ্রেফতার হওয়ার পরও শিবগঞ্জ সীমান্তে ওর সহযোগীরা এখনও বহাল তবিয়তে রাজত্ব চালাচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জের ধরে সেলিম প্রধানের সহযোগীরা এসব কিছুই কেয়ার করছেনা। অনেকে বলবালি করছেন সব ম্যানেজ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে গরু আমদানী বন্ধ থাকার পরও ক্যাসিনো ডন সেলিম প্রধানের সহযোগী আন্তজার্তিক হুন্ডিপাচার ও ভারতীয় গরু পাচার চক্রের মূল হোতা এনামুল হকের বাংলাদেশী চররা এসবের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখছেন। এদের সক্রিয় সহযোগী হয়ে মাঠে কাজ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ২২ হুন্ডি ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে হুন্ডি সিন্ডিকেটের গডফাদার আবু তালেব জামিনে বেরিয়ে এসে সেলিম প্রধানের রাজত্ব পুনরুদ্ধার করেছেন।

সীমান্তে গবাদিপশুর বিটে গরু প্রতি ২০ টাকা সরকারি সার্ভিস চার্জ আদায়ের নির্দেশনা থাকলেও এনামুল চক্রের রুবেল সিন্ডিকেট কোন রশিদ ছাড়া বড় গরু প্রতিটি ২৯ হাজার টাকা এবং ছোট গরু প্রতিটি সাড়ে ৯ হাজার টাকা করে ব্যাপারীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে। সীমান্ত সংলগ্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, পুলিশ, রাজস্ব বোর্ড কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ঠ সকলের চোখের সামনে এসব ঘটলেও কেউ কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতারকৃত আন্তজার্তিক হুন্ডিপাচার ও গরু পাচার চক্রের মূল হোতা ক্যাসিনো সেলিমের ভারতীয় সহযোগী এনামুল হকের বাংলাদেশী সহযোগীরা এখন বহাল উত্তরের বিভিন্ন ২২টি সীমান্তে।এর মধ্যে চাঁপাই নবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় হুন্ডি কাদেরের বিচরন সবচেয়ে বেশী। ভারতীয় হুন্ডি এনামুল সিন্ডিকেটের অন্যমত আড়ত চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মাসুদপুর। এই বিটেই চাঁদাবাজি হচ্চে বেশী। চাঁদাবাজির অবৈধ টাকা মাসুদপুর সীমান্ত বিটে ক্যাসিনো ডন সেলিম প্রধানের প্রধান ক্যাশিয়ার রুবেল তুলতেন। সেলিমের নামে রুবেল ২৯ হাজার টাকা নিলেও সে গরু প্রতি নিচ্ছেন ২ হাজার টাকা নিচ্ছেন বলে দাবি করেন। অথচ সরকারি সার্ভিস চার্জ মাত্র ২০ টাকা। ভুক্তভোগী ব্যাপারীরা অভিযোগ করেছেন, রুবেলকে গোয়েন্দা হেফাজতে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে গরু চোরাচালান ও হুন্ডি ব্যবসা’র সকল নারী নক্ষত্র জানা যোবে। ভারতের সিবিআই যেভাবে এনামুলকে ধরেছে ঠিক তেমনিভাবে বাংলাদেশের গোয়েন্দারাও এনামুলের এদেশীয় দোসরদের ধরে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সীমান্ত চোরাচালান সমূলে নিপাত করতে পারে।

জানা গেছে সীমান্তে অবৈধ ব্যবসার দেনা পরিশোধ করতে ভারতের পাচারকারীদের হাতে এদেশের পাচারকারীরা প্রায় অর্ধেক টাকা পরিশোধ করছে হুন্ডির মাধ্যমে আর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করছে সোনার মাধ্যমে। যার কারণেই রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে প্রায়ই কোটি টাকার স্বর্ণের বার পাচার হচ্ছে প্রশাসনের চোখে ধুলো দিয়ে।২০১৮ সালের ১১ ডিসেম্বর রাজশাহীর গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি থেকে দেড় কেজি ওজনের ১৫টি স্বর্ণের বারসহ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার জানপুর গ্রামের চোরাকারবারী লিটন আলী শেখ (৩০) কে আটক করে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দল। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, স্বর্ণের বারগুলো সে ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে যাচ্ছিল চোরাচালানের টাকা পরিশোধ করতে।

এসব নিয়ন্ত্রণ করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত হুন্ডি ব্যবসায়ী আবু তালেব, রফিকুল ইসলাম, মিন্টু, আনোরুল, গোলাম জাকারিয়া ভদ্র, সাইফুল ইসলাম, সাজু, আশরাফুল ইসলাম, একরামুল হক, ফিরোজ, টিপু সুলতান, রুহুল আমিন, হারুন অর রশীদ, ইসমাইল, ওবায়দুল হক, সেলিম রেজা, জাহাঙ্গীর আলম, মমিনুল হক, বাবুল হাসনাত, জিএম বাবুল চৌধুরী, মতিউর রহমান ও ভারতীয় নাগরিক আব্দুর রউফ। এদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে রাজশাহীর মুকুল এববং মনিরুলসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক এমপির।

চাঁপাই নবাবগঞ্জ পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মাহবুব আলম খান পিপিএম জানান, সীমান্তে চোরাচালানি নিয়ন্ত্রণে মূলত বিজিবি কাজ করে। আমরাও তথ্য’র ভিত্তিতে অভিযান চালাই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকাভুক্ত চাঁপাই নবাবগঞ্জের ২২ হুন্ডি ব্যবসায়ীদের আমরা মনিটরিং করছি। হুন্ডি গডফাদার আবু তালেবের গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে। ভারতের সিবিআই তালিকাভুক্ত এনামুলের এদেশীয় দোসরদের বিরুদ্ধেও আমরা শিগগির ব্যবস্থা নেব; কাউকে ছাড় দেয়া হবেনা। চাঁপাই নবাবগঞ্জের এসব চোরাচালানী তৎপরতার তথ্য জানতে বিজিবি ৯ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।এমনকি ক্ষুদে বার্তা দেয়া হলেও কোনে প্রতিউত্তর করেননি।