• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থী বিক্ষোভে বিরোধী চক্রের ইন্ধন


প্রকাশিত: ৩:১৯ পিএম, ১ আগস্ট ১৮ , বুধবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৯১ বার

 

এস রহমান/সাইফুল বারী মাসুম/রফিকুল ইসলাম : রাজধানীতে দানব বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থী বিক্ষোভে সরকারবিরোধী চক্র ইন্ধন দিচ্ছে। রাজধানীর, উত্তরা, কাকরাইল, শান্তিনগর, ফার্মগেট, যাত্র্রাবাড়ি, মতিঝিল, সাইন্স ল্যাবরেটরি, মিরপুর রোডসহ স্কুল সংলগ্ন সড়কগুলি পরিদর্শনে দেখা গেছে-

একশ্রেনীর সরকার বিরোধীচক্র ছুটির পর স্কুল কলেজ এর সামনে থেকে শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে রাস্তায় দার করিয়ে বিক্ষোভ করাচ্ছে। যারা এই কাজটি করাছে তাদের চেহারা অঙ্গভঙ্গি সরকারবিরোধী এটা দেখলেই বোঝা যায়। পুলিশ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনেই এসব ঘটলেও তারা যেন ‘করনীয় কি’ না বুঝে দর্শক বনে গেছেন।

ফলে গত তিন দিন ধরে সকালে দুপুরে বিকেলে রাস্তা বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের রাস্তায় বসে পড়ার ঘটনায় রাজধানীবাসীর চরম দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এই দূর্ভোগ লাগবে সরকার অবিলম্বে কার্যকরী পদক্ষেপ না হলে এতে ঘি ঢালবে বিরোধীরা। ওদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতানেত্রীরাও রয়েছেন এই শিক্ষার্থী আন্দোলনে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের জের ধরে টানা তৃতীয় দিনের মতো বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।এ সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে হাতে হাতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে আন্দোলন করে তারা। সহপাঠীদের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত চালক ও হেলপারের যথোপযুক্ত শাস্তিসহ রাজধানীর সব চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও দক্ষতা নিয়ে গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয় আন্দোলন থেকে।

সকালে রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে অবস্থান নেয়। ফলে ওই রাস্তা নিয়ে গাড়ি চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় একটি বাস আসলে শিক্ষার্থীরা চালকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে নেয়। পরে পুলিশ এসে রেকার দিয়ে ওই বাসটি সড়ক থেকে সরিয়ে নেয়। পরে এই সড়ক দিয়ে সীমিত আকারে ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা ও দুই-একটি গণপরিবহন চলাচল করছে।

ওদিকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করছে শিক্ষার্থীরা। ফলে কাঁচপুরের দিকে রাজধানীরমুখী কোন বাস চলাচল করতে পারছে না। তবে রোগীবহনকারী অ্যাম্বুলেন্স ও হজ যাত্রীদের গাড়ি চলাচল করছে।রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় সিটি কলেজ ও ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিচিল করেছে।

ফলে আজিমপুর থেকে মিরপুরগামী রোডে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উত্তরা হাউস বিল্ডিং মোড়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে। তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। ডেমরা মা ও মাতৃসদন শিশু হাসপাতালের সামনে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। টঙ্গী সরকারি কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছে।

কাওলা থেকে শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর চত্বরে পর্যন্ত রাস্তায় বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা নেমে এসেছে। বেলা ১২টার দিকে তারা রাস্তায় নেমে আসে। এখন বিমানবন্দর চত্বর পুরো অবরুদ্ধ করে রেখেছে। টঙ্গি সেতু থেকে ঢাকামুখী শত শত গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষার্থীদের একটি দল উত্তরার জসিম উদ্দিন নড়কের দিকে অবস্থান নিয়েছে। রাস্তায় নামা শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গাড়ি এমনকি মোটরবাইক থামিয়ে চাবি কেড়ে নিচ্ছে।

শাহবাগে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরাও যোগ দিয়েছেন।সকালে মিরপুর এলাকায় দেখা যায়, দু-একটা বাস চলছে, তবে যাত্রীদের ভিড় অনেক বেশি। মিরপুর থেকে গাবতলী, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মহাখালী সব জায়গাতেই বাসস্ট্যান্ডগুলোতে লোকজনকে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।

শাহবাগ এলাকায়ও অন্যান্য দিনের তুলনায় কম বাস চলতে দেখা গেছে। শাহবাগ জোনের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার শাহেদ আহমেদও জানান, অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ বাস চলাচল করছে খুব কম। কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা জাতিরকন্ঠকে জানান, আজ বাস চলাচল কম হওয়ার কারণ তাঁরা জানেন না। বাস শ্রমিক বা মালিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁদের কিছু জানানো হয়নি।

ক্যামব্রিয়ান, রাউজকসহ বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে বিক্ষোভ করছে। তাদের একটি অংশ হেঁটে কাওলা ব্রিজ অতিক্রম করে খিলক্ষেতের দিকে গেছে। রাস্তায় কাওলা ব্রিজের সামনে একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। ভাটারায় সড়ক অবরোধ করা হয়।

সায়েন্স ল্যাব থেকে শিক্ষার্থীদের একটি দলকে শাহবাগের দিকে যেতে দেখা গেছে। ওই সময় শিক্ষার্থীদের পুলিশকে ফুল দিতে দেখা যায়। বেলা ১১ টার দিকে সায়েন্স ল্যাব থেকে নিউমার্কেট এলাকায় শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে। ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স দেখলেই শিক্ষার্থীদের রাস্তা খালি করে তা ছেড়ে দিতে দেখা গেছে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীরা চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করে। লাইসেন্স না থাকায় বিহঙ্গ ও সাভার পরিবহনের দুটি বাস আটকে রাখে তারা।

ধানমন্ডির ল্যাবএইড থেকে সায়েন্স ল্যাব ও নিউমার্কেটের দিকে গাড়ি যেতে দেওয়া হচ্ছে না। গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইডিয়াল, সিটি কলেজ, ঢাকা কলেজ, গর্ভমেন্ট ল্যাবরেটির স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।অন্যদিকে, মঙ্গলবার মিরপুর ১৪ নম্বর সেকশনে শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের এক শিক্ষার্থী পুলিশের মারধরে গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আজ শিক্ষার্থীরা সেখানে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে।

এদিকে বুধবার সকাল থেকে রাজধানীতে বাস চলাচল কমে গেছে। পূর্ব ঘোষিত পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কোনো ধর্মঘট কর্মসূচিও নেই। এরপরও রাজধানীর প্রত্যকটি রুটে বেশির ভাগ বাস চলাচল করছে না। ফলে সকালে অফিস গন্তব্যের উদ্দেশে যারা বের হয়েছেন, তারা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অ্যাপস ভিত্তিক যানবাহন, সিএনজি অটোরিকশা ও রিকশায় করে অফিস যেতে হয়েছে। বিভিন্ন রুটে দুই-একটি বাস চলাচল করলেও সেগুলোতে ছিল যাত্রীদের গাদাগাদি অবস্থা।