• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থী পোশাকে নাশকতাচক্র?


প্রকাশিত: ৪:০৮ পিএম, ৩ আগস্ট ১৮ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১১ বার

স্টাফ রিপোর্টার : শিক্ষার্থীদের পিছনে রাজনৈতিক মদদ জোরদার করছে দেশবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চক্র। সরকারকে বিপাকে ফেলতে এসব অপকান্ড করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন, ছুটির দিনে কোনো শিক্ষার্থী মাঠে নেই। তাছাড়া তাদের সব দাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নিয়েছেন; এখন যারা নেমেছে তারা বিএনপি জামায়াত শিবির কর্মী। শিক্ষার্থীর পোশাকে এরা নাশকতা করছে।এদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদ ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে টানা পঞ্চমদিনের মতো সড়কে অবস্থান নিয়েছে কথিত পোশাকধারী শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর আসাদ গেট, ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর ও এর আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেয় তারা। এসময় শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধরনের প্লাকার্ড নিয়ে সড়কে মাইক দিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে। লাইন ধরে যানবাহন চলাচলের জন্য আহ্বান জানাচ্ছে তারা।

এদিকে ছুটির দিনে স্বাভাবিকভাবেই নগরীতে মানুষের চাপ কম। এর মধ্যেও গণপরিবহন সংকটে পড়তে হচ্ছে তাদের। গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের ফলে রাস্তায় বাস চলছে না বললই চলে; শুক্রবারও সে চিত্রই দেখা গেছে। ঢাকার বাইরেও ছেড়ে যাচ্ছে না কোনও বাস। ঢাকায়ও আসছে না বাস।

এদিকে নিরাপত্তার দাবিতে শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ করছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের দাবি, তারা ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারছেন না। তাদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে।গত ২৯ জুলাই রোববার রাজধানীর কুর্মিটোলায় বিমানবন্দর সড়কে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে পড়ে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস।এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় শহীদ রমিজউদ্দীন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ওরফে রাজীব (১৭) এবং একই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী দিয়া খানম মীম (১৬)।

বুধবার গ্রেফতার করা হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের দুর্ঘটনা ঘটানো বাসের মালিক শাহাদৎ হোসেন ও চালক মাসুম বিল্লাহকে। বাতিল করা হয়েছে জাবালে নূর পরিবহনের রুট পারমিট ও নিবন্ধন। রাস্তায় বাসচাপায় শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রোববার থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করছে। আন্দোলনের সময় চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করছে শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে বেশ কিছু যানবাহনের ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। সেখান থেকে কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না; এমনকি কোনো বাস প্রবেশও করছে না। সেখানে কর্তা ব্যক্তিদের কাছে জানতে চাইলে তাদের সবার মোটামুটি একই বক্তব্য, সড়কে নিরাপত্তা নেই। বাস ভাঙচুর করা হচ্ছে। এই অবস্থায় নিরাপত্তার খাতিরে কোনো বাস ছাড়া হচ্ছে না।

অন্যদিকে এসব বাসের মালিক ও শ্রমিকরা পরস্পরবিরোধী কথা বলছেন। মালিকরা বলছেন, ভাঙচুরের কারণে শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। শ্রমিকরা দাবি, মালিকরা বাস নামাতে নিষেধ করেছেন।বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়ত উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করায় নিরাপত্তার কারণে বাসের চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। ভাঙচুর বন্ধ হলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।