• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থীদের ‘লাইসেন্স পরীক্ষা’ পুলিশ ‘ছাত্রত্ব’ পরীক্ষা করুক


প্রকাশিত: ২:৩৭ পিএম, ৪ আগস্ট ১৮ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০৫ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : উত্তরায় কোনো বাস না পেয়ে গন্তব্যে যেতে না পেরে মতিঝিলে একটি বেসরকারী ফার্মে চাকুরীরত ইব্রাহিম খলিল জানালেন, শিক্ষার্থীরা যখন সড়কে ‘লাইসেন্স পরীক্ষা’ করছে তখন পুলিশ বসে না থেকে ‘শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব’ পরীক্ষা করে দেখতে পারে। এতে আসল-নকল শিক্ষার্থী’র ছাত্রত্ব এবং সরকারবিরোধী ইন্ধনদাতা- পাবলিকের দূর্ভোগকারীরা চিহ্নিত হতে পারে। কিন্তু পুলিশ তা না করে চুপ মেরে বসে আছে।

ওদিকে পুলিশের নির্লিপ্ততার সুযোগে ব্যাগ কাঁধে ইউনিফর্ম পরা কথিত শিক্ষার্থীরা শনিবার সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের সনদ পরীক্ষা করছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় পবিহন মালিক-শ্রমিকরা বাস না নামানোয় সড়কে শুধু ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশাই চলাচল করছে। তবে আজ শনিবার কথিত শিক্ষার্থীরা অবরোধ তৈরি না করে শুধু এসব গাড়ি থামিয়ে চালকদের ও গাড়ির লাইসেন্স দেখতে চাচ্ছে।

সরেজমিনে আজ দুপুর ১২টায় মৌচাক মোড়ে একটি নাম্বারবিহীন পিকআপ দেখা গেছে। রামপুরা এলাকা থেকে আসা পিকআপটি থেকে নামলো স্কুল ব্যাগ কাঁদে বেশ কিছু সংখ্যক কথিত শিক্ষার্থী। এরা কারা তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ। কারণ, যারা লাইসেন্স চেক করছে তারা নাম্বারবিহীন পিকআপ নিয়ে নিশ্চয় আসার কথা নয়। সেক্ষেত্রে নানা সন্দেহ ও সংশয় সৃষ্ঠি হচ্ছে জনমনে।এ বিষয়ে রমনা থানায় যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

আমাদের মিরপুর প্রতিনিধি জানায়, সকাল ১০টার পরে মিরপুর-১০ নম্বর গোল চত্বরে জড়ো হয়ে শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে মিরপুর ১ নম্বরের দিকে যায়। ফিরে ওই চত্বরে অবস্থান নিয়ে গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা শুরু করে।সেখানে থাকা আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, সব দাবি পূরণ না হলে রাস্তা ছাড়ব না।

গত ২৯ জুলাই বাসচাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামে ঢাকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলন থেকে ওঠা ৯টি দাবি পূরণের ঘোষণা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার আহ্বান জানানো হলেও শুধু আশ্বাসে সন্তুষ্ট নন শিক্ষার্থীরা।মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের মতো ৬, ২ ও ১ নম্বর সেকশনেও সড়কে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে অন্য দিনের মতো যান চলাচল নিয়ন্ত্রন করছে। তাদের সঙ্গে পুলিশকেও এখন সড়কে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষায় তৎপর দেখা গেছে।

এদিকে রামপুরা সেতুতে শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১০টার দিকে সড়কে নামতে চাইলেও তা করতে দেয়নি পুলিশ।রামপুরা থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, জনগণের দুর্ভোগের কথা ভেবে সড়ক অবরোধ করতে দেবে না পুলিশ। এসময় শিক্ষার্থীদের ডেকে নিয়ে বোঝাতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায়ও শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যানবাহনের লাইসেন্স পরীক্ষা করছে।

শান্তিনগর মোড়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা। সেখানে ভিকারুননিসা, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের এবং স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। এখানে শিক্ষার্থীদের বহিরাগত যুবকরা খাবার সরবরাহ, মার্কার কলম ও বোর্ড পেপার সরবরাহ করতে দেখা গেছে।

শান্তিনগরে দুপুর পর্যন্ত দুটি পুলিশ ভ্যান ও দুজন পুলিশ কর্মকর্তার গাড়ি আটকে রেখেছে শিক্ষার্থীরা।ফার্মগেইটেও অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ওদিকে যানবাহনে শৃঙ্খলার পাশাপাশি পথচারীদের ও ওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করছে কতিপয় শিক্ষার্থী।