শাক দিয়ে মাছ ঢাকছে কয়লা –রা!
বিশেষ প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উধাওয়ের ঘটনায় শাক দিয়ে মাছ ঢাকছে কয়লা
–রা! দুদক বলছে অবস্থাটা এমন যে তারা যেন কোনো অপরাধই করেনি। শুধু সিস্টেম লস হয়েছে। কিন্তু এই সিস্টেম লসের মতো ঠুনকো কারণে তারা পার পেতে পারেনা।
এদিকে আজ বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশনের (পেট্রোবাংলা) আরও ৯ কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। এ নিয়ে কয়লা কেলেঙ্কারিতে সব মিলিয়ে ৩২ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টায় পেট্রোবাংলা ওই আট কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থাটির সেগুনবাগিচার প্রধান কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য দেন।
এই কর্মকর্তারা হলেন- কোল অ্যান্ড হ্যান্ডরিং ম্যানেজমেন্টের উপব্যবস্থাপক মো. খলিলুর রহমান, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আবদুল মান্নান পাটোয়ারী, মহাব্যবস্থাপক গোপাল চন্দ্র সাহা, হিসাব শাখার ব্যবস্থাপক মো. সারোয়ার হোসেন, সেলস অ্যান্ড রেভিনিউ কালেকশন শাখার ব্যবস্থাপক কামরুল হাসান, মার্কেটিং অ্যান্ড কাস্টমার সার্ভিসেসের উপব্যবস্থাপক মো. নোমান প্রধানীয়া, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) একেএম সিরাজুল ইসলাম ও মো. শরিফুল ইসলাম এবং নিরাপত্তা বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন। দুদকের উপপরিচালক ও এ সংক্রান্ত মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে বুধবার দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির সদ্য বিদায়ী ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হাবিবউদ্দিন আহমদসহ আট জন। তারা হলেন- হাবিবউদ্দিন আহমদ, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (এক্সপ্লোরেশন), কোম্পানি সেক্রেটারি আবুল কাশেম প্রধানীয়া ও মোশারফ হোসেন সরকার, মহাব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার, ব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) জাহিদুল ইসলাম এবং উপব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) একরামুল হককে।
এরও আগে মঙ্গলবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পেট্রোবাংলার আরও আট কর্মকর্তার। তারা হলেন- মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) আবু তাহের মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী, উপমহাব্যবস্থাপক একেএম খালেদুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মোরশেদুজ্জামান, উপব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) হাবিবুর রহমান, উপব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) জাহেদুর রহমান, উপব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) সৈয়দ ইমাম হাসান ও উপমহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অপারেশন) জোবায়ের আলী।
গত ১৬ আগস্ট জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে হাজির হন সাত কর্মকর্তা। তারা হলেন- উপমহাব্যবস্থাপক (মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড কন্ট্রাক্ট ম্যানেজমেন্ট) মো. নাজমুল হক, ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. শোয়েবুর রহমান, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. সাঈদ মাসুদ, উপব্যবস্থাপক (মেনেটেন্যান্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মাহাবুব হোসেন, সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. মনিরুজ্জামান, সহকারী ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. মাহাবুব রশিদ ও ব্যবস্থাপক (স্টোর) মো. দিদারুল কবির।
বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) সাবেক চার এমডি এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব, প্রকৌশলী খুরশীদুল হাসান, আমিনুজ্জামান ও মিজানুর রহমান এবং মহাব্যবস্থাপক (সারফেস অপারেশন) সাইফুল ইসলাম সরকারকেও জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক।
কয়লা লোপাটের ঘটনায় গত ২৭ জুলাই বাদী হয়ে মামলা করেন বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান। মামলায় ১৯ আসামির বিরুদ্ধে খনির এক লাখ ৪৫ হাজার টন কয়লা গায়েবের অভিযোগ আনা হয়। এ মামলার তদন্তের ভার পড়ে দুদকে ওপর।



