• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে মারধর হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান


প্রকাশিত: ৩:১৮ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৫৯ বার

হাজী সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের মারধরের বিবরন দিচ্ছেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিম,ইনসেটে হাজী সেলিম ও এরফান সেলিম, সর্বডানে হাজী সেলিমের বাসায় অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাব-

স্টাফ রিপোর্টার : নৌবাহিনীর কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে মারধরের ঘটনার জের ধরে এবার হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমসহ ৪ জনকে ধরতে পুরান ঢাকায় হাজী সেলিমের একটি বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। প্রত্যক্ষদশীরা জানান, পুরান ঢাকার চকবাজারের ৩০ নম্বর দেবিদাস ঘাট লেনের ওই বাড়িতে দুপুরের পর অভিযান শুরু হয়। এর আগে গত রাতের ঘটনায় হাজিী সেলিমের ছেলেসহ ৪জনের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় ‘মারধর ও হত্যা চেষ্টা’ মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর ধানমন্ডির কলাবাগান ক্রসিংয়ে নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তার মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছিল ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকার লাগানো হাজী সেলিমের গাড়ি। এরপর নৌবাহিনীর ওই কর্মকর্তা মোটরসাইকেল থামান এবং নিজের পরিচয় দেন। এসময় হাজী সেলিমের গাড়ী থেকে দুই জন ব্যক্তি নেমে এসে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিমকে মারধর করে। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। ঘটনাস্থলে লোকজন জমে গেলে সংসদ সদস্যের গাড়ি ফেলে মারধরকারীরা পালিয়ে যান। পরে পুলিশ এসে গাড়ি ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

পুলিশ সূত্র মতে, ঘটনার সময় সাংসদ হাজী সেলিম গাড়িতে ছিলেন না। তার ছেলে ইরফান ও নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইকরাম আলী মিয়া জাতিরকন্ঠ কে বলেন, ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ এরফান সেলিম ও হাজি সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত তিন-চারজনের বিরুদ্ধে আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডি থানায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ মামলার দুই আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। মামলা নম্বর ১৬। এ মামলার বিষয়ে তদন্ত হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল রোববার রাতে রাজধানীর ধানমণ্ডি কলাবাগান সিগন্যালের পাশ দিয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ বই কিনে তাঁর স্ত্রীসহ মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের গাড়ি তাঁর মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা সামলে সড়কের পাশে মোটরসাইকেল থেকে নেমে গাড়িটির সামনে দাঁড়ান ওয়াসিফ। তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে গাড়ি থেকে কয়েকজন তাঁকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন। তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার হুমকিসহ তুলে নেওয়ার হুমকি দেন তাঁরা। ‘সংসদ সদস্য’ স্টিকারযুক্ত গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১১-৫৭৩৬।

মো. ওয়াসিফ আহমেদ খান নিজেকে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট পরিচয় দিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে হাজি সেলিমের গাড়ি থেকে দুজন ব্যক্তি নেমে এসে লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফকে মারধর করে। একপর্যায়ে ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। ঘটনার পর পর গাড়িটি ফেলে এর নম্বরপ্লেট ভেঙে চলে যান হাজি সেলিমের ছেলে ও তাঁর দেহরক্ষীরা।এ ঘটনায় রাতে ধানমণ্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) অন্তর্ভুক্ত করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ।এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে ওয়াসিফ আহমেদকে রক্তাক্ত দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁকে মারধর করে তাঁর দাঁত ভেঙে ফেলা হয়েছে দাবি করলেও জিডিতে এ কথা উল্লেখ করা হয়নি।

হাজী সেলিমের বাড়ি ঘেরাও

এদিকে নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের একটি বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। পুরান ঢাকার চকবাজারের ৩০ নম্বর দেবিদাস ঘাট লেনের ওই বাড়িতে দুপুরের পর অভিযান শুরু হয়।র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সংবাদমাধ্যকে বলেন, ‘সোয়ারি ঘাট এলাকায় হাজী সেলিমের একটি বাড়ি আছে, সেটা ঘেরাও করে র‌্যাব সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছে।

কিছুক্ষণ আগে চকবাজার থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার জাতিরকন্ঠ কে বলেন, হাজী সেলিমের বাসায় র‌্যাব ও ডিবির যৌথ অভিযান চলছে। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম আসার পর তল্লাশি পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। এরফান সেলিমকে গ্রেফতার করা হবে কিনা পরে সিদ্ধান্ত হবে।জানা গেছে, চকবাজারের যে বাসায় র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে সেটি হাজী সেলিমের পৈতৃক বাড়ি। অভিযানে র‌্যাবের ৪০০-৫০০ সদস্য অংশ নিয়েছেন। ওই এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না।