লুটেরাদের দুধ কলা দিয়ে পোসা কেন?
অর্থনৈতিক রিপোর্টার : লুটেরাদের দুধ কলা দিয়ে পুসছেন কেন? বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের অর্থনীতি শেষ করে দিচ্ছে এবং ব্যাংক লুটেরাদের দুধ কলা দিয়ে পুষছে বলে মন্তব্য করেছেন আদালত। বিচারপতি এফএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।ঋণ খেলাপিদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা সার্কুলার ”ঋণ পুনঃতফসিল ও এককালীন পরিশোধ সংক্রান্ত বিশেষ নীতিমালার” ওপর ২৪শে জুন পর্যন্ত ‘স্থিতাবস্থা’ বজায় রাখতে বলেছেন হাইকোর্ট।
এ সংক্রান্ত এক আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি এফএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালত আরও বলেন, ‘ঋণখেলাপীদের কাছে ৯০ ভাগ টাকা। আর বাকি ১০ ভাগ টাকা জেনুইনদের কাছে।’যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পরিশোধ করছে না তাদের জন্য গেল ১৬ই মে একটি সার্কুলার প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে বলা হয়, ‘বকেয়া ঋণের মাত্র ২ শতাংশ টাকা জমা দিয়েই তারা ঋণ নিয়মিত করতে পারবেন। এতে, সুদ হার হবে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ঋণ পরিশোধে বিরতিসহ ১০ বছরের মধ্যে বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। এ অবস্থায় তারা আবার ব্যাংক থেকে নতুন করে ঋণও নিতে পারবেন।’
আর যাঁরা এক বছরের মধ্যে ঋণ শোধ করে দিতে চান, তাঁদের জন্য রয়েছে বড় ছাড়। তারা চাইলে তহবিল খরচের সমান সুদ দিয়েই বাকি টাকা শোধ করতে পারবেন। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর তহবিল খরচের হার সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ।এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, ‘ঋণ বিরূপভাবে খেলাপি হয়ে পড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাই, উৎপাদনশীল খাতে স্বাভাবিক ঋণপ্রবাহ বজায় রাখতে ও খেলাপি ঋণ আদায়ে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব ঋণ মন্দ বা ক্ষতিজনক, মানে খেলাপি হয়ে পড়েছে, সে ক্ষেত্রে এ সুবিধা দেওয়া হবে।
এদিকে গেল বৃহস্পতিবার আরেকটি প্রজ্ঞাপনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষণা করেছে, যেসব ব্যবসায়ী ঋণের সব কিস্তি সময়মতো পরিশোধ করেছেন, কখনই কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হননি, তাঁরা ‘ভালো গ্রাহক’। তাদের থেকে এক বছরে যে পরিমাণ সুদ আদায় করা হয়েছে, তার ১০ শতাংশ ফেরত দেয়া হবে।



