• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

লিবিয়ায় গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি খুন


প্রকাশিত: ৩:১৭ এএম, ২৯ মে ২০ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১১৩ বার

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুলিবিদ্ধ বাংলাদেশীরা-

আন্তজার্তিক ডেস্ক রিপোর্টার : লিবিয়ায় গুলিতে ২৬ বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ২৬ বাংলাদেশিসহ মোট ৩০ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে স্থানীয় এক মানবপাচারকারীর দলের সদস্যরা। ইউ এস নিউজের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বাংলাদেশ সময় রাত নয়টার দিকে লিবিয়ার মিজদা শহরে এই হত্যাকাণ্ড চালায় আন্তর্জাতিক পাচারকারীর সদস্যরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক পাচারকারী পরিবার তাদের সঙ্গীদের মৃত্যুর প্রতিশোধের জন্য ৩০ জন অভিবাসীকে হত্যা করেছে। বৃহস্পতিবার লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার কর্তৃপক্ষ (জিএনএ) এই তথ্য জানিয়েছে। লিবিয়ার জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় আরও ১১ জন বাংলাদেশি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।

তেলসমৃদ্ধ অর্থনীতির কারণে দীর্ঘকাল থেকে অভিবাসীদের কাছে লিবিয়া অন্যতম ‘আকর্ষণীয়’ একটা দেশ। পাশাপাশি এই দেশ ব্যবহার করে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে অনেকে ইউরোপেও ঢোকার চেষ্টা করেন।লিবিয়াভিত্তিক অভিবাসীদের আন্তর্জাতিক সংস্থার মুখপাত্র সাফা মেশেলি ভুক্তভোগীদের সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আমরা খবরটি পেলাম। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি। যারা হাসপাতালে আছেন তাদের সাহায্য করছি।

প্রানে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশী জানান-

দূতাবাস হতে অনুসন্ধানে জানা যায়, লিবিয়ার মিলিশিয়া বাহিনী বাংলাদেশীদের উপর এলোপাতাড়ি গুলি চালালে আনুমানিক ২৬ (ছাব্বিশ) জন বাংলাদেশী নিহত হন। এক জন প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশীর সাথে টেলিফোনেযোগাযোগ করা সম্ভব হয়। তিনি কোনো প্রকারে প্রাণে বেঁচে বর্তমানে একজন হৃদয়বান লিবিয়ানের আশ্রয়ে আত্মগোপন করে আছেন।

ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, ১৫ দিন পূর্বে বেনগাজী থেকে মরুভূমি পাড়ি দিয়ে কাজের সন্ধানে মানবপাচারকারীরা তাদেরকে লিবিয়ার ত্রিপলী শহরে নিয়ে আসার পথে তিনিসহ মোট ৩৮ (আটত্রিশ) জন বাংলাদেশী মিজ্দাহ শহরে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে জিম্মি হন। জিম্মি অবস্থায় তাদেরকে অত্যাচার, নির্যাতন করার একপর্যায়ে অপহৃত ব্যক্তিবর্গ মূল অপহরণকারী লিবিয়ান ব্যক্তিকে হত্যা করে।

ওই ব্যক্তি জানান, এর জের হিসেবে অন্যান্য দুষ্কৃতিকারীরা আকষ্মিকভাবে তাদের ওপর এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে যাতে আনুমানিক ২৬ (ছাব্বিশ) জন বাংলাদেশী নিহত হয়, যাদের মৃতদেহ মিজদাহ হাসপাতালে সংরক্ষিত রয়েছে। অবশিষ্ট বাংলাদেশীরা হাতে-পায়ে, বুকে-পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।