লম্পট অধ্যক্ষ’র অগ্নিসন্ত্রাসীরা ধরা পড়েনি
বিশেষ প্রতিনিধি / সোনাগাজী প্রতিনিধি : সোনাগাজীর লম্পট অধ্যক্ষ’র অগ্নিসন্ত্রাসীরা এখনও ধরা পড়েনি। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফি (১৮)! সোনাগাজী পৌরসভার চরচান্দিয়া গ্রামের একেএম মুসার মেয়ে। ওই মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী তিনি। শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদ করাই ছিল তার অপরাধ। লম্পট অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে রাফি মামলা করলে ক্ষেপে ওঠে চক্রটি। গ্রেফতার হয়েও অধ্যক্ষ’র পান্ডাদের হুস হয়নি। অতঃপর তাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্ঠা করে চক্রটি।
সোনাগাজীর আলিম পরীক্ষার্থী সেই মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি’র (১৮) গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার নায়করা এখনো ধরা পড়েনি। খলনায়ক সেই মাদ্রাসা অধ্যক্ষ জেলখানায় বসে কলকাঠি নাড়ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। শ্লীলতাহানীর প্রতিবাদ করাই ছিল তার অপরাধ। লম্পট অধ্যক্ষ’র বিরুদ্ধে রাফি মামলা করলে ক্ষেপে ওঠে চক্রটি। তাকে পুড়িয়ে মারার চেষ্ঠা করে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।ওদিকে ছাত্রীর গায়ে আগুন দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ৭ এপ্রিল রবিবার শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ক্লাস বন্ধের বিষয়টি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের না জানানোয় তারা সকালে মাদরাসার সামনের সড়কের ফটকে ভীড় জমায়।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬ এপ্রিল শনিবার সকালে তারা ক্লাস শেষ করে বাড়িতে চলে যায়। এরপর কখন মাদরাসা বন্ধ করা হয়েছে তা তারা শোনেনি। এ জন্য তারা আজ সকালে ক্লাস করতে আসে। গেট বন্ধ দেখে তারা মাদরাসার সামনের সড়কে অবস্থান করে। কিছুক্ষণ পর মাদরাসার এক অফিস সহকারী এসে মাদরাসা বন্ধের বিষয়টি তাদের জানায়।মাদরাসার দশম শ্রেণির শাহ নেওয়াজ নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, মাদরাসা বন্ধের বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। তাই তারা ক্লাস করতে মাদরাসায় এসে বন্ধের কথা শুনে বাড়ি চলে যাচ্ছে।
অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার জানায়, আলিম পরীক্ষা চলাকালে সকাল সাতটা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মাদরাসায় তাদের নিয়মিত ক্লাস হয়।মাদরাসার শিক্ষক আবুল খায়ের ও রেজাউল হক বলেন, তারাও মাদরাসা বন্ধের বিষয়টি শুনেননি। তারা ক্লাস নিতে মাদরাসায় যান। ভেতরে ঢোকার পর অফিস সহকারীর মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, মাদরাসা আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।মাদরাসার অফিস সহকারী মো. নুরুল আমিন বলেন, ৬ এপ্রিল শনিবার দুপুরে সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিবার্য কারণে মাদরাসা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শুধু আলিম পরীক্ষা চলবে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সোহেল পারভেজ জাতিরকন্ঠ কে জানান, ৬ এপ্রিল শনিবার মাদরাসায় ঘটে যাওয়া ঘটনার কারণে শুধুমাত্র আজকের জন্য মাদরাসা বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিমের দপ্তরে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মো: কামাল হোসেন বলেন, মাদরাসাটি পুলিশ পাহারায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদরাসার একজন শিক্ষক ও এক ছাত্রকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহান রাফিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা শ্লীলতাহানি করেন অভিযোগে মামলা হয়েছে। ছাত্রীর মায়ের করা মামলায় অধ্যক্ষ এখন কারাগারে।৬ এপ্রিল শনিবার ওই ছাত্রী পরীক্ষা দিতে গেলে অধ্যক্ষের অনুগত কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই ছাত্রীকে মামলা তুলে নিতে বলে। ছাত্রীটি রাজি না হওয়ায় তাঁর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। মেয়েটি বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রবিবার পরিচালনা পর্ষদের জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও মাদরাসা পর্ষদ সভাপতি পিকেএম এনামুল করিম সভাপতিত্ব করেন। ওই সভায় দ্বগ্ধ নুসরাত জাহান রাফির চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য মাদরাসা তহবিল এবং শিক্ষকদের পক্ষ হতে ২ লাখ টাকা অনুদান প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া মাদরাসার নিরাপত্তার জন্য দ্রুত ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন, আলিম পরীক্ষা চলার সময় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ এবং মাদরাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব প্রদান করা হয়।অগ্নিসংযোগকারী দুষ্কৃতকারীদের গ্রেফতার এবং আদালতে সোপর্দ করার জন্য মাদরাসার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।



