• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

রাষ্ট্রপতির লোভ-মুনাফেক’রা বন্ধু হলো-


প্রকাশিত: ৩:৫২ পিএম, ১৭ নভেম্বর ১৮ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৬৪ বার

বিশেষ প্রতিনিধি : সেবার রাষ্ট্রপতি হতে পারেননি মোনাফেক বিএনপি’র ভোট ডাকাতদের কারণে। এবার সেই প্রতিশোধ নিচ্ছেন; বিএনপির রাষ্ট্রপতি হতে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে। ড. কামাল হচ্ছেন সেই লোক যিনি মোনাফেকদেরও আপন করে নিতে পারেন অতীত ভুলে গিয়ে; কিন্তু এই বাঙ্গালী জাতি কি সব ভুলে গেছে ? রাষ্ট্রপতির হওয়ার লোভে মোনাফেকদের বন্ধু বানালো ড. কামাল; কিন্তু কেন জাতি আজ তা জানতে চায় বলে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। আজ শনিবার ‘বঙ্গবন্ধু-বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন’ গ্রন্থের প্রকাশনা উপলক্ষে এক আলোচনা সভা তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোন মুলার লোভে ড. কামাল হোসেন সেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন, জাতি জানতে চায়? ড. কামাল হোসেনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ১৯৮১ সালের ১৫ নভেম্বর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পর সাত্তার সাহেব যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তখন আপনিও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ভোট ডাকাতির মাধ্যমে আপনাকে সেই নির্বাচনে বিপুল ভোটে পরাজিত দেখানো হয়েছিল।

তখন আপনি বলেছিলেন, এই ধানের শীষ, জাতির সঙ্গে মুনাফিকি করেছে। এই ধানের শীষ নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। আপনি কোন মুলার লোভে এখন সেই ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন, জাতি জানতে চায়।তিনি বলেন, আপনার কি সেই অতীতের কথা মনে পড়ে না- যে ধানের শীষ, যে বিএনপির প্রতি আপনি ঘৃণা প্রকাশ করেছিলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন।

আজ এই যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতের সঙ্গে জোট করে আপনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আপনার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যাবে।মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ড. কামাল হোসেন একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। আমরা অনেকেই তাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখে আসছি। একটি স্বচ্ছ রাজনীতি করার জন্য তিনি একটি জোট গঠন করেছেন ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে। আমরা ধন্যবাদ জানিয়েছিলাম ঐক্যফ্রন্টকে।

কিন্তু অবাক হলাম, বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটালো, পুলিশের গাড়িতে আগুন দিলো আর ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে ড. কামাল হোসেনকে একটা টু শব্দ করতে দেখিনি। কোনও নিন্দাও করেননি, দুঃখ প্রকাশও করেননি। এতে এটাই প্রমাণ হয় যে, তিনি ঐক্যফন্টের নেতা হলেও সব কলকাঠি নাড়ছে লন্ডন থেকে। ড. কামাল হোসেন লন্ডনের ভয়ে প্রতিবাদ করেনি অথবা অন্য কোন মুলার লোভে তিনি এটা নিয়ে প্রতিবাদ করেন নাই।

বইটির লেখককে ধন্যবাদ জানিয়ে হানিফ বলেন, ‘সময়োপযোগী বইটি এমন সময়ে প্রকাশ হয়েছে যখন সারাদেশ নির্বাচন নিয়ে মুখর। বইয়ের নামটিও অর্থবহ। কেননা এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুরই অবদান। হঠাৎ করেই এ দেশের জন্ম হয়নি। ৪৮ সাল ও ৫২ -এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৭১ সাল পর্যন্ত বারবার রক্ত দিতে হয়েছে এ দেশের মানুষকে, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু।

বিএনপি-জামায়াত সহিংসতার রাজনীতি ছাড়তে পারবে না মন্তব্য করে হানিফ বলেন, তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দেশে জ্বালাও পোড়াও, পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। তারা আবার নয়া পল্টনে পুলিশের গাড়ি পুড়িয়ে প্রমাণ করলো সন্ত্রাসী রাজনীতি ছাড়তে পারবে না তারা। যেসব বিএনপি নেতারা মিথ্যা বক্তব্য দেবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি চিত্তরঞ্জন দাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক শুক্কুর আলী শুভ, সাউন্ড বাংলা প্রকাশনা ও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার মমিন মেহেদী ও লায়ন শান্তা ফারজানা প্রমুখ।