• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

রাজনীতি’র কলংক হেলেনা জাহাঙ্গীর পাকরাও মদ মুদ্রা ক্যাসিনো জব্দ


প্রকাশিত: ১:৪৯ এএম, ৩০ জুলাই ২১ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৪২ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/গুলশান প্রতিনিধি : রাজনীতি’র কলংক হেলেনা জাহাঙ্গীর পাকরাও হয়েছে। তার বাসা থেকে মদ মুদ্রা ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে। র‌্যাব জানায়, শুক্রবার রাত ১টায় তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব ১ কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।
অবশেষে নানা কেলেংকারির জননী চাকুরীজীবী লীগ নামে রাজনীতি ব্যবসা করতে গিয়ে র‌্যাব এর হাতে ধরা খেলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর। নানা অভিযোগের ভিত্তিতে এই ব্যবসায়ী বিতর্কিত হয়ে পড়েন। আওয়ামী লীগের পদ খোয়ানো এই ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীরের বাসায় এবার অভিযান চালাচ্ছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় হেলেনা জাহাঙ্গীরের গুলশানের বাসায় অভিযান শুরু করে র‌্যাব। রাত ১টায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাসা থেকে বিদেশী মদ, ক্যাসিনো সরঞ্জাম, বিদেশী মুদ্রা জব্দ করা হয়েছে।র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ১টার দিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে র‍্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ২৫ জুলাই (রোববার) আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় তাকে। আইপি টিভি নামধারী জয়যাত্রা টেলিভিশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এই ব্যবসায়ী এবছর ১৭ জানুয়ারি উপকমিটির সদস্য হয়েছিলেন। তার আগে ২০২০ সালের ডিসেম্বরের দিকে তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হন।

সম্প্রতি চাকরিজীবী লীগ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নাম যুক্ত করে নতুন সহযোগী সংগঠন গঠনের ঘোষণা দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন ব্যবসায়ী হেলেনা জাহাঙ্গীর। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক সমালোচিত হন তিনি।তার এমন কর্মকাণ্ডে বিব্রত হন খোদ আওয়ামী লীগেরই শীর্ষস্থানীয় নেতারা। এরই সূত্র ধরে শনিবার (২৪ জুলাই) হেলেনা জাহাঙ্গীরের সদস্য পদ আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপকমিটি থেকে বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, একটা উপকমিটিতে থাকলে কাজ করার জন্য সবার সঙ্গে আলোচনা করতে হয়। তার কর্মকাণ্ডে উপকমিটি বিব্রত। তাই তাকে সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন হেলেনা জাহাঙ্গীর।‌ কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন বলেন, বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য গত মাসেই তাকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই চিঠির জবাব দেননি তিনি। এজন্য নির্দিষ্ট সময় পর এটা স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহতি হয়ে গেছে। কাজেই বলা যায়, বর্তমানে তিনি ওই কমিটিতে আর নেই।

এর আগে গত সোমবার হেলেনা জাহাঙ্গীর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে ফেসবুক লাইভে এসে একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, পুরুষরা এত খারাপ কেন? সব পুরুষ না, কিছু কিছু কাপুরুষ, এত খারাপ। মেয়েদের পিছনে লেগে থাকে, লজ্জা করে না আপনাদের মেয়েদের পিছনে লেগে থাকতে। মেয়েরা না মায়ের জাতি? মা না থাকলে আপনারা জন্ম হতেন না। সেই মেয়েদেরকে আপনারা অপমান করেন, লেলিয়ে দেন; হেলেনা জাহাঙ্গীরের পিছনে লাগো। হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, আমি সরকারের জন্য একটা চ্যানেল চালাচ্ছি। সেটা জয়যাত্রা টেলিভিশন। সেই চ্যানেল আমি ভতুর্কি দিয়ে চালাচ্ছি প্রায় চার বছর যাবৎ। আমি চ্যানেলের বাইরে কোনো কাজ করতে পারি না, এত মনোযোগ দিতে হয় আমাকে।

ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে হেলানা জাহাঙ্গীর নিজেকে চাকরিজীবী লীগের সভাপতি দাবি করেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাহবুব মনিরের নাম উল্লেখ করেন। এমন ঘটনায় ফেসবুকজুড়ে সাধারণ মানুষের ভেতরে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।ফেসবুক ব্যবহারকারী তানজির আহমেদ সিহাব পোস্টে কমেন্ট করেন, আওয়ামী লীগের মতো একটা পুরোনো ঐতিহ্যবাহী দলকে নিয়ে আপনারা যা শুরু করেছেন এটা হাস্যকর। এখন যারা নব্য আওয়ামী লীগার তারা কখনো বুঝবে না, আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দল ছিল সেই সময় কত ত্যাগ ছিল আমাদের। ফেসবুক ব্যবহারকারী আসিফুর রহমান বলেন, লোক হাসাচ্ছেন, আওয়ামী লীগকে ডোবাচ্ছেন। আজকে আওয়ামী লীগের খারাপ কিছু হলে এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।