• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

রশিদ খুনে দক্ষিণখানে হান্নানের রাজত্ব খতম


প্রকাশিত: ১২:১৫ এএম, ২৫ মার্চ ২১ , বৃহস্পতিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২৬৭ বার

উত্তরা প্রতিনিধি : জাপান-বাংলাদেশ মানবাধিকার সংস্থার মহাসচিব পরিচয়ে রীতিমত এক সাক্ষাৎ সন্ত্রাস আমিনুল ইসলাম হান্নান সরকার প্রধান শেখ হাসিনা ও জয়ের নাম ভাঙ্গিয়ে দক্ষিণখানে রামরাজত্ব কায়েম করে চলছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। আব্দুর রশীদ নামে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে এবার লালঘরে। মানবাধিকার কর্মীর নাম ভাঙ্গিয়ে সে সহমর্মিতাবোধ ও সাধারণের পাশে থাকার বীপরিতে সন্ত্রাস চাঁদাবাজি, করে বেড়াত। রাজধানীর দক্ষিণখানের আইনুসবাগ এলাকায় আইনবিরোধী নানা কাজকর্মে জড়িতসহ হত্যার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সরেজমিনে জানা গেছে, অস্ত্র ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে স্থানীয়দের নানা ধরনের অত্যাচার করত সে ও তার লোকজন। চাঁদা দিতে না চাইলে হামলা-হুমকি একেবারেই সাধারণ ঘটনা সেখানে।বুধবার সকালে প্রকাশ্যে সে ওই ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনার পর পুলিশী অভিযানে দুটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধরা পড়ে হান্নান।বুধবার বেলা ১১টার দিকে দক্ষিণখানের আইনুসবাগ এলাকায় হান্নানের বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ রশিদকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় কেসি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে ডাক্তাররা মৃত ঘোষণা করেন। রশিদকে গুলি করার পর কিছু লোকজন হান্নানের বাড়ির সামনে থাকা তার একটি জিপ গাড়ি আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ফেলে। বাইরে থেকে হান্নানের বাড়িতে ইট পাটকেলও ছুড়ে মারে তারা। এ ঘটনায় হান্নান ছাড়াও দক্ষিণখান থানা আটক করেছে আরও অন্তত সাতজনকে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের (দক্ষিণখান) অতিরিক্ত উপ কমিশনার হাফিজুর রহমান রিয়েল জাতিরকন্ঠ কে বলেন, বালু ফেলাকে কেন্দ্র করে এক লাখ টাকা চেয়েছিলেন হান্নান। টাকা না দেয়ায় বালু চুরি হয়। আজকে বালু চুরির বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদার ও তার ভাই চাচা এসেছিলেন। কথা বলার এক পর্যায়ে শটগান দিয়ে গুলি করেন হান্নান। এতে রশিদ নামে একজনের মৃত্যু হয়।স্থানীয়দের তথ্যমতে, হান্নানের বাবা চাঁদপুর থেকে ২০-২৫ বছর আগে দক্ষিণখানে আসেন। এরপর থেকে এখানেই আছেন। আইনুসবাগে করেছেন নিজেদের বাড়ি।৯০ দশকে জাপানে ছিলেন হান্নান। বিদেশ থেকে ফিরে টাকা দিয়ে কিছু মানুষকে নিজের করে নেন।

আইনুসবাগ এলাকায় বাড়ি করা অধিকাংশ মানুষ অন্য জায়গা থেকে এসেছেন। কিছু মানুষকে নিয়ে বাড়ির মালিকসহ ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে রেখেছিলেন হান্নান ও তার লোকজন।বাড়ির সীমানায় দোকান করার সময় ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন হান্নান। কিন্তু সেই টাকা না দেয়ায় দোকান নির্মাণ বন্ধ সহ কেটে দেয়া হয় তার গ্যাস, পানি ও বিদ্যুত সংযোগ। তাড়িয়ে দেয়া হয় ওই বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরও।হান্নানের এই নির্যাতনের শিকার তারই প্রতিবেশী মোজাম্মেল পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ১০ মাস আগে আমার বাড়ির সামনে দোকান করতে চেয়েছিলাম। তারে টাকা না দেয়ায় দোকান তো দূরের কথা, বাড়ির ভাড়াটিয়াদেরও থাকতে দেয়নি। গ্যাস, পানি, বিদ্যুতের লাইন কেটে দিছে। এখনও ভাড়াটিয়া তুলতে পারিনি।তিনি বলেন, সবসময় সঙ্গে পিস্তল নিয়ে ঘুরতেন হান্নান। বিভিন্ন এমপি, মন্ত্রীর ছবি দেখিয়ে ক্ষমতার দাপট দেখাতেন। যে কারণে এলাকার কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না।

সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি, মন্ত্রী, এমপিদের সঙ্গে ছবি রয়েছে হান্নানের। যেগুলো তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর ব্যবহার করতেন। আর এসব ছবি দেখিয়ে মানুষকে তার ক্ষমতার হাত কতদূর তা বুঝাতেন।আইনুসবাগ এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য সাহারা খাতুনসহ বড় বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছবির সঙ্গে নিজের ছবি দিয়ে পোস্টার, ব্যানার, সাইনবোর্ড বানিয়ে পুরো এলাকায় প্রচার করতেন হান্নান।