যৌনসন্ত্রাসীরা বাঁচতে দিলোনা রাফিকে
বিশেষ প্রতিনিধি / মেডিকেল রিপোর্টার : বাঁচানো গেলোনো প্রতিবাদি রাফিকে। মমতাময়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরদারি, চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্ঠা সত্বেও বাঁচানো গেলোনা; চলেই গেলেন নুসরাত জাহান রাফি। যৌনসন্ত্রাসীরা বাঁচতে দিলোনা রাফিকে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বুকফাটা আর্তনাদের মধ্যে বাবা, দুই ভাই, মামাসহ স্বজনরা নুসরাতের মরদেহ বুঝে নেন। ঢাকা মেডিকেলে নুসরাতের মরদেহ বুঝে নেওয়ার সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বাবা একেএম মুসা মানিক।
এর আগে ময়নাতদন্ত করা হয় রাফির। পরে ফেনীর অগ্নিদগ্ধ শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফির মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি ফেনীর সোনাগাজীর পথে রওনা করেন স্বজনরা। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন জাতিরকন্ঠ কে জানিয়েছেন, বেলা সোয়া ১২টার দিকে লাশবাহী ফ্রিজিং ভ্যানে করে নুসরাতের মরদেহ নিয়ে ফেনীর পথে রওনা হন স্বজনরা। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার অনেকে।ঢাকা মেডিকেলে পাঁচদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বুধবার রাতে মারা যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত।
মর্গে নুসরাতের লাশ হস্তান্তরের সময় বাবা মাওলানা একেএম মুসা মানিক আর ভাইদের আহাজারিতে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সকাল থেকেই তিনি মেয়ের লাশের অপেক্ষায় মর্গের সামনে বসে ছিলেন।সোনাগাজী রওনা হওয়ার আগে মেয়ের খুনিদের আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।মুসা মানিক বলেন, ডাক্তার, নার্স, এলাকার মানুষ, মন্ত্রী, সাংবাদিকসহ আপনারা সকলেই আমার মেয়ের জন্য অনেক কষ্ট করেছেন। এজন্য আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমার একটি মাত্র মেয়ে। আমার কলিজা। দোয়া করবেন আল্লাহ যেন ওকে কবুল করেন। আর যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের আইন অনুযায়ী সুষ্ঠু ও ন্যায় বিচার কামনা করছি।
ফেনীর সোনাগাজীর মেয়ে নুসরাত এ বছর আলিম পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী ছিলেন তিনি। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে ‘শ্লীলতাহানির’ অভিযোগ এনে গত মার্চে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করে নুসরাতের পরিবার।
সেই মামলা তুলে না নেওয়ায় অধ্যক্ষের অনুসারীরা গত শনিবার পরীক্ষার কেন্দ্র থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ। অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ফেনী সদর হাসাপাতালে এবং পরে শনিবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।নুসরাতকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু তার শারীরিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তা সম্ভব ছিল না।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ৮০ পারসেন্ট বার্নের যে কনসিকোয়েন্স …ভেতরে ফুসফুসের যে ইনহেলিশন ইনহেলিটি হয়, সেটিই তার মৃত্যুর প্রধান কারণ। বিশেষজ্ঞরাও তাকে সেভাবে রক্ষা করতে পারে নাই।নুসরাতের ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ডিএনএ নমুনা পরীক্ষার পর তারা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের বিষয়ে জানাতে পারবেন। গত সোমবার নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করলে অধ্যক্ষসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সরিয়ে দেওয়া সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে।



