• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

যুবলীগের বদনাম ঘোঁচাবে কারা?


প্রকাশিত: ৯:০৯ পিএম, ২২ নভেম্বর ১৯ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৯১ বার

শফিক রহমান : যুবলীগের বদনাম ঘোঁচানোর কান্ডারী কারা হচ্ছেন ? শনিবার সবার নজর থাকবে সেদিকেই। ক্যাসিনো সম্রাট ও তার গডফাদারদের নানা দুর্নীতি ও ধান্ধাবাজি নিয়ে জর্জরিত যুবলীগের কান্ডারি কে হচ্ছেন তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। তবে শেষমেষ এবার যুবলীগ চেয়ারম্যান পদ নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির দুই ছেলে শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ ফজলে শামস পরশের নাম। তবে তাপস আইন পেশা নিয়ে বেশী ব্যস্ত থাকায় বেশিরভাগ সূত্র মনে করছেন, শেখ ফজলে শামস পরশই হচ্ছেন যুবলীগের পরবর্তী চেয়ারম্যান। কিন্তু এর বাইরেও প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলাম’ও এবার বিশেষ পদ পেতে পারেন। কারণ চয়ন সত্যনিষ্ঠ ও ন্যায় পরায়ন ব্যক্তিত্ব হিসেবে নেত্রী শেখ হাসিনার নজরে আছেন। সে ক্ষেত্রে চয়ন কে সাধারন সম্পাদকও করা হতে পারেন।

তবে নাম যারই আশুক সব কিছু নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তিনিই নির্বাচিত করবেন যুবলীগের কান্ডারি কে হবেন। নানাভাবে বিতর্কিত যুবলীগের নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তন আসছে এটা অনেকটাই নিশ্চিত। চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্য পদগুলোতেও বিতর্কিতদের স্থান হবে না। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ও ভবিষতে স্বচ্ছতা ধরে রাখতে সক্ষম হবেন এমন কাউকেই খোঁজা হচ্ছে যুবলীগের নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার জন্যে।এ লক্ষ্যেই কাল যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেস।রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সকাল ১১টায় এ কংগ্রেস উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। পরে দ্বিতীয় সেশনে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে। এ অধিবেশনে সংগঠনটির নতুন নেতৃত্ব আসবে।

সম্মেলন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে যুবলীগ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ জাতিরকন্ঠ কে বলেন, আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। পদ্মা সেতুর আদলে গড়ে তোলা হয়েছে উদ্বোধনী মঞ্চ। কাউন্সিলর-ডেলিগেটরা ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। সম্মেলনে কাউন্সিলর-ডেলিগেটদের এবং আমন্ত্রিত অতিথি মিলে প্রায় ৩০ হাজার লোকের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার এক ভিন্ন প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুবলীগের সম্মেলন। ক্যাসিনো, মাদক, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিসহ নানা অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সংগঠনটির অনেককে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের অনেকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারেও রয়েছেন। সংগঠনটির চেয়ারম্যানকেও এসব অনৈতিক কাজে সমর্থনের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, সংগঠনে থাকলেও নিষ্ক্রিয় থাকতে বাধ্য হয়েছেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপুসহ অনেকে। তারা কেউই এবার সম্মেলনে থাকতে পারছেন না।

এ পরিস্থিতিতে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস সামনে রেখে গত ২০ অক্টোবর যুবলীগের একটি প্রতিনিধি দল গণভবনে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাতের আগে ওই প্রতিনিধি দলে যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন ও শেখ আতিয়ার রহমান দিপুকে না রাখার জন্য গণভবন থেকে আগেই নির্দেশনা দেওয়া হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বৈঠকে বিতর্কিত অন্যদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না হলেও ওমর ফারুককে চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি, যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সংগঠনের প্রেসিডিয়াম সদস্য চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদকে সদস্য সচিব করে প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়।