যশোরে করোনার ভারতের দশা গাছতলায় চিকিৎসা-

যশোর প্রতিনিধি : এবার গাছতলায় করোনা চিকিৎসা হচ্ছে যশোরে। এ যেন ভারতের দশা পড়েছে বাংলাদেশে। যশোরে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা রোগী বাড়ার ফল। করোনায় মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সেই সঙ্গে বাড়ছে হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর চাপ। হাসপতালের ওয়ার্ড রোগীতে পূর্ণ। ফলে জায়গা না পেয়ে বাইরে গাছতলা, এমনকি রাস্তার উপরেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে। অনেকে যে ভ্যানে এসেছেন সেই ভ্যানের উপরেই চলছে চিকিৎসা। আবার জায়গা না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন অনেকে।
সরেজমিনে দেখা গেল, ঠান্ডা, কাশি ও জ্বর ছাড়াও শ্বাসকষ্টে ভুগছেন ষাটোর্ধ্ব রীনা বেগম। বাঘারপাড়ার বড়বাঘ গ্রাম থেকে স্বজনরা তাকে নিয়ে আসেন যশোর জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে পা রাখার জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে ওয়ার্ডের সামনের রাস্তা সংলগ্ন গাছতলায় শুরু হয় তার চিকিৎসা। সেখানেই তাকে দেওয়া হয় অক্সিজেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান জানান, আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর চাপ সামলাতে ওয়ার্ডকে সম্প্রসারণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত রোগী নতুন ওয়ার্ডে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। প্রয়োজনে বেড সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে অক্সিজেনের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে এ হাসপাতালে করোনা রোগীর জন্য ১৪৬টি বেড আছে। সেন্ট্রাল অক্সিজেন সাপ্লাই ছাড়াও রয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪৫৯টি সিলিন্ডার।
যশোর সিভিল সার্জন অফিসের তথ্য কর্মকর্তা ডা. মো. রেহেনেওয়াজ জাতিরকন্ঠ কে জানান, গত চব্বিশ ঘণ্টায় হাসপাতালে করোনায় ৬ জন ও উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জেলায় ১ হাজার ২০ জনের নমুনা পরীক্ষায় করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩৭৩ জনের। পরীক্ষা বিবেচনায় আক্রান্তের হার ৩৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
এই নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ১৭০ জনের ও সুস্থ হয়েছেন ৮ হাজার ৪০৮ জন। আর জেলায় করোনায় মোট মারা গেছেন ১৮৭ জন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ জানান, আড়াইশ শয্যার এই হাসপাতালে শুধু করোনা ওয়ার্ডেই বর্তমানে ভর্তি রয়েছেন ২৪৩ জন রোগী। শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে রোগী সংকুলানের ব্যবস্থা করা গেলেও চিকিৎসক ও নার্স সংকটে বাড়তি রোগীদের সেবা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।



