মুম্বাই ফিরছে শ্রীদেবী-ভক্তদের আর্তনাদ
ডেস্ক রিপোর্টার : ভক্তদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।গত তিন দিন ধরে মুম্বাইসহ এ অঞ্চলের সকলের মুখে মুখে ছিল শ্রীদেবীর মৃত্যুরহস্য নিয়ে। কেন হঠাৎ এভাবে চলে গেল শ্রীদেবী।ওদিকে অবশেষে শ্রীদেবীর দেহ দেশে ফেরানোর ছাড়পত্র মিলেছে। আজ বিকেলে শ্রীদেবীর লাশ দুবাই এয়ারপোর্ট ছেড়েছে। লাশের ময়নাতদন্তে মিলেছে বাথরুমের
বাথটাবে পানিতে ডুবে শ্রীদেবীর মৃত্যু হয়েছে। সূত্র জানায়, নানা তদবিরে শ্রীদেবীর মামলা বন্ধ করে দুবাই পুলিশ আজ মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় লাশ হস্তান্তর করে। যদিও শ্রীদেবীর লাশের ময়নাতদন্তে রক্তে মদের আলামত মিলেছিল এবং এ সংক্রান্ত ঘটনায় নানা রহস্য লুকিয়ে ছিল সেখানে।যা তদন্ত করা হয়নি নানা চাপে!
এদিকে-
গত শনিবার রাতে দুবাইয়ের জুমেইরা এমিরেটস টাওয়ার্স হোটেলে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় শ্রীদেবীকে। এর পর তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, অনেক আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এর পর ময়নাতদন্ত এবং প্রয়োজনীয় তদন্তের পর মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীদেবীর পরিবারের হাতে তাঁর দেহ তুলে দেওয়া হয়। এ দিন রাতেই মুম্বই ফিরবে নায়িকার দেহ।
দুবাই প্রশাসন সূত্রে এ দিন স্থানীয় সময় দুপুর সওয়া তিনটে নাগাদ টুইট করে জানানো হয়, সরকারি আইনজীবীর অফিস সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পারিপার্শ্বিক সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে মঙ্গলবারই শ্রীদেবীর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এর পর বিকেল পৌনে চারটে নাগাদ জানানো হয়, এই সংক্রান্ত সমস্ত তদন্ত শেষ হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মামলা। শীঘ্রই দেহ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে। এর পর তা তুলেও দেওয়া হয়।
এদিকে শ্রীদেবীর মৃত্যুরহস্যর নেপথ্যে পারিবারিক কলহ থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশী তদন্তে সেটিও উঠে এসেছে। জানা গেছে, শ্রীদেবী এবং তাঁর দুই মেয়ে জাহ্নবী ও খুসির সঙ্গে সৎ ভাই অর্জুনের সম্পর্ক নাকি একেবারেই ভাল ছিল না।পুলিশের একটি সূত্র জানায়, হোটেলের যে ঘরে অভিনেত্রী ছিলেন, তারই বাথরুমের বাথটাবের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের একাংশ।
তাঁদের মতে, প্রথমত, এক জন যদি বাথরুমে গিয়ে হঠাৎই অচৈতন্য হয়ে পড়েন, তা হলে হয় তিনি উপুড় হয়ে পড়বেন অথবা চিৎ হয়ে। কিন্তু, এ ক্ষেত্রে মৃতের শরীরে কোনও রকমের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেই খবর। তা হলে ধরে নিতে হবে, তিনি উপুড় হয়ে জলে মুখ গুঁজে পড়েছিলেন। আর তাতেই শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
প্রশ্নটা উড়িয়ে দেওয়ার মতো নয় বলেই মনে করছেন রাজ্য পুলিশের প্রাক্তন কর্তাব্যক্তিদের একাংশ।গত তিন দিন ধরে খবরটা একটু একটু করে প্রায় পুরোটাই পাল্টে গিয়েছে। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল, ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে অভিনেত্রী শ্রীদেবীর। দু’দিন পর সোমবার জানা যায়, হার্ট অ্যাটাক নয়, জলে ডুবে মৃত্যু। দুবাই পুলিশের অফিসিয়াল টুইটার হ্যান্ডলে বা ফেসবুক পেজে তেমনটাই লেখা হয়েছে। সঙ্গে অচৈতন্য শব্দটাও ছিল।
দুবাইয়ের সংবাদপত্র খালিজ টাইমস তাদের ওয়েবসাইটে শ্রীদেবীর ডেথ সার্টিফিকেটের ফোটোকপির ছবি আপলোড করেছে। সেটা সোশ্যাল মিডিয়াতেও ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রাক্তন এক পুলিশ কর্তা এই ফোটোকপি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। কারণ, ‘ড্রাউনিং’ বানান। তাঁর মতে, এত বড় ভুল কোনও দফতর করবে বলে মনে হয় না। ডেথ সার্টিফিকেট এবং ময়নাতদন্তের রিপোর্ট তো মৃতের দেহের সঙ্গেই তাঁর পরিবারের হাতে দেয় পুলিশ। এ ক্ষেত্রে দেহ হস্তান্তর হয়নি। কাজেই ওই সমস্ত নথি বাইরে আসারও কথা নয়। কী ভাবে এল এত গোপন তথ্য? প্রশ্ন উঠছে।
হোটেলের যে ঘরে অভিনেত্রী ছিলেন, তারই বাথরুমের বাথটাবের জলে ডুবে মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এখানেও তিনটি প্রশ্ন তুলছেন প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের একাংশ। তাঁদের মতে, প্রথমত, এক জন যদি বাথরুমে গিয়ে হঠাৎই অচৈতন্য হয়ে পড়েন, তা হলে হয় তিনি উপুড় হয়ে পড়বেন অথবা চিৎ হয়ে। কিন্তু, এ ক্ষেত্রে মৃতের শরীরে কোনও রকমের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেই খবর। তা হলে ধরে নিতে হবে, তিনি উপুড় হয়ে জলে মুখ গুঁজে পড়েছিলেন। আর তাতেই শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
কিন্তু, সেই পড়ে যাওয়াটা তো খুব একটা বিন্যস্ত হবে না। প্রায় ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গোটা শরীরটাই বাথটাবের ভিতরেই পড়ল! দ্বিতীয়ত, তিনি হয়তো বাথটাবেই শুয়ে ছিলেন জলের ভিতর। তখনই অচৈতন্য হয়েছেন। এবং জলের ভিতর শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু, শুয়ে থাকলেও মাথাটা তো বাথটাবে হেলান দেওয়া অবস্থায় থাকে। তৃতীয়ত, কেউ তাঁকে বাথটাবে শুইয়ে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে ঠিক কী হয়েছিল? প্রাক্তন পুলিশ কর্তা প্রসূন মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘‘খবরে যা পড়ছি, তাতে দুবাই তো পুলিশ রীতিমতো তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় কোথাও অসঙ্গতি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’’

আরও এক ধোঁয়াশার কথা প্রাক্তন পুলিশ কর্তারা বলছেন। তাঁদের প্রশ্ন, বনি কপূর তখন ঠিক কোথায় ছিলেন? এক এক সময় এক এক রকম জানা যাচ্ছে। কখনও শোনা যাচ্ছে, তিনি স্ত্রীকে ডিনারে নিয়ে যাবেন বলে ঘরে অপেক্ষা করছিলেন। অনেক ক্ষণ ধরে স্ত্রী বেরোচ্ছেন না বলে তিনি নাকি দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। তার পর তা ভেঙে গিয়ে ভেতরে ঢুকে দেখেন, বাথটাবে স্ত্রী শুয়ে আছেন, অচৈতন্য অবস্থায়। আবার কখনও বলা হচ্ছে, হোটেলের এক রুমসার্ভিস কর্মী জল দিতে গিয়ে শ্রীদেবীর সাড়া না পেয়ে দরজা ধাক্কাধাক্কি করেন। পরে হোটেল কর্তৃপক্ষ দরজা ভেঙে শ্রীদেবীর দেহ বাথটাব থেকে উদ্ধার করেন। কোনটা সত্যি?
ময়নাতদন্ত হয়ে যাওয়ার পরেও কেন দেহ এ দেশে নিয়ে আসার ছাড়পত্র মিলছে না? প্রসূনবাবুর কথায়, ‘‘আমার মনে হয়, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরেও তদন্তকারীরা পারিপার্শ্বিক দিকগুলো ভাল করে খতিয়ে দেখছেন।’’ তাঁর মতে, সে কারণেই হোটেলের ওই ফ্লোর, ঘর— সবটা সিল করে দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আসলে গোয়েন্দারা দেখতে চাইছেন, কে কে ওই দু’দিনে ওই ঘরে গিয়েছেন। কখন গিয়েছেন। বনি কপূরও বা কখন এসেছিলেন। কখন ঘর থেকে বার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ইত্যাদি।
প্রশ্ন উঠছে, বনি কপূরের ভূমিকা নিয়েও। দেশে ফিরে ফের কেন আবার দুবাই উড়ে গেলেন তিনি? স্ত্রীকে না জানিয়ে তিনি নাকি ‘সারপ্রাইজ’ দিতে চেয়েছিলেন। প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের প্রশ্ন, শ্রীদেবী কেন একা থেকে গেলেন দুবাইতে? কেন ওই দু’দিন তাঁকে এক বারের জন্যও বাইরে দেখা গেল না? উত্তরগুলো তাঁদের কাছেও কেমন ধোঁয়াশামাখা।শোনা যাচ্ছে, শ্রীদেবীর রক্তে নাকি অ্যালকোহলের নমুনা মিলেছে। ধরা যাক, তিনি ওই সন্ধ্যায় মদ্যপান করেছিলেন। নিশ্চয়ই ওই দিনই জীবনে প্রথম বার মদ্যপান করেছিলেন এমনটা নয়। অচৈতন্য হয়ে যাওয়ার মতো পান করেছিলেন কি? সে ক্ষেত্রে ওই অবস্থায় বাথরুমে গেলেন কী ভাবে? আর বনি-ই বা তাঁকে ছাড়লেন কেন? জবাব মেলাতে পারছেন না প্রাক্তন পুলিশ কর্তাদের একাংশ।



