মুক্তি পাচ্ছেন খালেদা জিয়া!
শফিক রহমান : অবশেষে মুক্তি পেতে পারেন খালেদা জিয়া ! এ ধরনের একটি প্রক্রিয়া নিয়ে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন আইন মন্ত্রণালয় এর সংশ্লিষ্ঠ উয়িং। মুক্তি প্রক্রিয়ার আইন কানুন খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে এর্টনি জেনারেল অফিসকেও। সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়ার বয়স ও স্বাস্থ্যগত বিষয়টিকে প্রধান্য দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার প্রতি মানবাধিকারও দেখাতে পারেন সরকার প্রধান ও মাদার অব হিউম্যানিটি রাষ্ট্রনায়ক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ প্রক্রিয়াটি তুলেছেন খোদ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আবেদন করেছিলেন । এর প্রেক্ষিতে আজ মুখ খুলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি জাতিরকন্ঠ কে বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতের আবেদন করলে সরকার বিষয়টি বিবেচনা করবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও বলেছেন, সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আবেদন করলে খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তি পেতে পারেন। যদি খালেদা জিয়া প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন তাহলে বিষয়টি ভেবে দেখব আমরা। তিনি বলেন, প্যারোলে মুক্তি পেতে হলে খালেদা জিয়াকে একটি সুনির্দিষ্ট কারণ দেখিয়ে আমাদের কাছে আবেদন করতে হবে। যদি তিনি আবেদন করেন তাহলে মুক্তি পেতে পারেন। তবে খালেদা জিয়ার জন্য প্যারোলের কোনো আবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো পায়নি।

জানা গেছে, গত ৯ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছিলেন, ‘জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১(১) ধারা মোতাবেক খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তাঁর ইচ্ছামতো চিকিৎসা নিতে দেশে অথবা বিদেশে সুযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
এর প্রেক্ষিতে সরকারের ওপর মহল সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি মানবিকতা দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ‘সাধারণত সাজা সাসপেন্ড (স্থগিত) করা হয় অনেক দিন সাজা খাটার পরে। অনেক দিন সাজা খাটার পরে সরকার বিশেষ বিবেচনায় এটা (সাজা স্থগিত) করে, করতে পারে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, জেলখানায় যাঁরা থাকেন এবং বহুদিন কারাভোগ করেন, ৪০১(১) ধারা (ফৌজদারি কার্যবিধি) অনুযায়ী তাঁদের নানাবিধ বিবেচনায় অনেক সময় সাজা স্থগিত করা হয়। কিন্তু তাঁরা যদি প্রমাণ করতে পারেন, তবে সে ব্যাপারে সরকার দেখবে। জানা গেছে, দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে রয়েছেন খালেদা জিয়া। গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন।



