• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের ধান্ধা ভন্ডুল করল ওবায়দুল কাদের


প্রকাশিত: ৯:০১ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২১ , শনিবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১৭৮ বার

লাবণ্য চৌধুরী : আওয়ামী লীগের নামে ৭৩টি ভুয়া সংগঠনের বিরুদ্ধে এবার ক্ষোভ ঝাড়লেন খোদ দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বললেন এগুলো চাঁদাবাজির দোকান। এদের ডাকে কোনো নেতা কর্মী সাড়া দেবেন না। এই ভূঁইফোড় সংগঠনের একটি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ। এরা এবার খোদ আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদককে তাদের দোকানের ব্যানারে বসিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করতে চেয়েছিল। এ উদ্দেশ্যে সফল হলে মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ জাতে উঠে যেত। এই দোকানের ধুরন্ধর করিগররা চেয়েছিল ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে অনুষ্ঠানের একটা ছবি! ওটা নিতে পারলেই তা দেখিয়ে চলত লীগের নাম করে নানা তদবির আর চাঁদাবাজি বানিজ্য। কিন্তু বিধিবাম সব ভন্ডুল করে দিলেন ওবায়দুল কাদের।

যাহোক, শনিবার (১৮ সেপ্টম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ’। দলটির পরিচয় দেওয়া নেতাকর্মীরাও জড়ো হন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে। তবে দলীয়ভাবে সংগঠনটির অনুমোদন না থাকায় খোদ সাধারণ সম্পাদক এসে বন্ধ করে দেন তাদের আয়োজন। এরপর অনুষ্ঠান স্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে প্রজন্ম লীগের সব নেতা কর্মীদের। চেয়ার, টেবিল, ব্যানারসহ সব আয়োজন ধীরে ধীরে খুলে ফেলা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে আরও দ্রুত তারা অনুষ্ঠান স্থল ত্যাগ করতে থাকেন। তবে সংগঠনের অনুমোদনের বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে নেতাকর্মীরা বলেন, ১৪ বছর আগে তাদের এ সংগঠন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ যেমন কোনো অনুমতির বিষয় লাগেনি, তেমনি সময়ের প্রয়োজনেই তাদের এ সংগঠন। তারা চাঁদাবাজি করেন না বলেও দাবি করেন।

যদিও পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের ব্যাপারে আমাদের কোনো দ্বিমত নেই। কিন্তু লীগ আর আওয়ামী যখন যুক্ত হয় তখন এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা এসে যায়। এখানে আমাদের ভাবমূর্তির বিষয়টা এসে যায়, কারণ এসব দোকান অনেকে খুলে থাকে চাঁদাবাজির জন্য, এগুলো আসলে চাঁদাবাজির প্রতিষ্ঠান।ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সবাই করে তা না, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, এরা চাঁদাবাজি নির্ভর। এরা দলের নাম ভাঙ্গায়। কাজেই এই সব সংগঠনের কোনো প্রকার আয়োজনে, বৈঠকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হোক যেটাই হোক, আমি আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের আহ্বান জানাব, আপনারা কোনো অবস্থাতেই এইসব সংগঠনের সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থাকবেন না। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সাতটি সহযোগী সংগঠন রয়েছে আওয়ামী লীগের। এর বাইরে দুটি সংগঠন শ্রমিক লীগ ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন হিসেবে স্বীকৃত।

কিন্তু গণমাধ্যমে উঠে এসেছে আ.লীগের নাম ব্যবহার করে ৭৩ ভূঁইফোড় সংগঠন গজে উঠেছে। সংগঠনগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে সরকারি দলটি বারবারই বলে এসেছে, তাদের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ করা সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাড়া বাকি কোনো সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে ‘ওলামা লীগ’ নামে একটি ধর্মীয় সংগঠনের কর্মকাণ্ডে সরকারকে বিব্রতও হতে হয়েছে কয়েকবার। তবে এ সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকার কথা বলেছে দলটি।

এর আগে আওয়ামী লীগের উপকমিটি থেকে সদ্য বহিষ্কার হওয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরের ‘আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ’ নামক একটি সংগঠন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দলটি। হেলেনাকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হলেও সমালোচনা থেমে নেই। তাই আবার নড়েচড়ে বসেছে দলটি।আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে গজিয়ে ওঠা, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর আরও বেশ কিছু সংগঠন হয়েছে। গত প্রায় এক যুগে গড়ে ওঠা এমন ৭৩টি সংগঠনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে।