• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

মিশন জাফর ইকবাল-কার ইশারায় পুলিশ গেম খেলছিল!


প্রকাশিত: ৪:৪৪ পিএম, ৪ মার্চ ১৮ , রোববার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২০৯ বার

jafor ikbal-www.jatirkhantha.com.bd-5

সিলেট থেকে বিশেষ প্রতিনিধি :  পুলিশের নিরাপত্jafor ikbal-www.jatirkhantha.com.bd-2তা বলয়ের ভিতরে’ই জঙ্গিরা ঢুকে পড়েছিল। পুলিশ যথাযথ তদারকি ও নিরাপত্তা তল্লাশি চালালে জঙ্গিরা আক্রমন করতে পারতো না অধ্যাপক জাফর ইকবালকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জাতিরকন্ঠকে জানান, নিরাপত্তা রক্ষীরা হামলাকারীদের শরীর তল্লাশী করলে ঘটনার আগেই অস্ত্রধারীরা ধরা পড়তো। ওদিকে একজন প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বরত পুলিশ  সদস্যদের মোবাইলে গেম খেলার ছবিও পাঠিয়েছেন জাতিরকন্ঠের কাছে।

???????????????????????????????????????????????????????????বলা হয়েছে ‘স্যারকে হামলার সময়, পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো হামলাকারী। তবে পুলিশ কিছুই করতে পারেনি বরং হামলার আগ মুহূর্তে পুলিশ দাঁড়িয়ে গেমস খেলছিল’। শনিবার সেই পুলিশের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে হামলার শিকার হলেন দেশবরেণ্য এই শিক্ষাবিদ।

এ দিকে গ্রেফতারকৃত হামলাকারী জঙ্গি আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু, তাই তার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হামলার কারণ সম্পর্কে র‌্যাবকে এমনটাই জানিয়েছেন হামলাকারীর ফয়জুর রহমান।

র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ সিলেটের রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, হামলাকারী যুবককে চিকিৎসার জন্য সিলেট জালালাবাদ সেনানিবাসস্থ সামরিক হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার জ্ঞান ফিরেছে। তবে সে তার পরিচয় ঠিকভাবে বলছে না। তার নাম সে একবার বলে শফিকুর রহমান, আরেকবার বলে ফয়জুর রহমান। জ্ঞান ফেরার পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে।

jafor ikbal-www.jatirkhantha.com.bd-1তবে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক এই বিষয়টি সম্পর্কে বলেছেন, হামলার সময়কার ওই পরিস্থিতিতে বিষয়টি অন্য রকম ছিল। জানা যায়, জঙ্গি হামলায় বিভিন্ন সময় প্রাণ হারিয়েছেন দেশের লেখক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনা ব্লগাররা। জঙ্গি টার্গেটে থাকার আশঙ্কায় জনপ্রিয় লেখক, পদার্থবিদ অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় পুলিশ।

jafor ikbal-www.jatirkhantha.com.bd-3তবে অনুষ্ঠানের কয়েকটি ছবি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হামলাকারী আগে থেকেই অধ্যাপক জাফর ইকবালের পিছনে দাঁড়িয়েছিলেন। তার একটু পাশেই ছিলেন পুলিশের তিন সদস্য। তবে তারা ব্যস্ত ছিল মোবাইল নিয়ে।শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হঠাৎ করেই স্যারের ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো হামলাকারী। পুলিশ কিছুই করতে পারেনি। তাহলে ওদের কেন এখানে রাখা হয়েছে?’

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার ওয়াহাব মিয়া জানান, ‘নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছিলো পুলিশ সদস্যরা। কিন্তু অনুষ্ঠানের বিরতিতে সুযোগ পেয়েই তার ওপর হামলা চালানো হয়। অবশ্য বিষয়টি খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’তবে পুলিশের এমন বক্তব্যে সন্তুষ্ট হতে পারছেন না নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। এ ঘটনায় নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যের গাফিলতিও দেখছেন তারা।

jafor ikbal-www.jatirkhantha.com.bd-7জেলা বার অ্যাসোসিয়শেনের সাবেক সভাপতি এমাদুল্লাহ শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘হুমকি পাওয়ার পরও পুলিশ সদস্যদের সামনেই যদি হামলা করা হয় তাহলে আমরা বলতে পারি, এসব পুলিশ প্রহরা অর্থহীন। গোয়েন্দা তৎপরতা, গোয়েন্দা রিপোর্ট তাদের হাতে। তাই প্রাথমিকভাবে এ ঘটনার দায় দায়িত্ব তাদের নিতেই হবে।’পুলিশ সদরদপ্তরের আদেশের প্রেক্ষিতে, ২০১৫ সাল থেকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তা পেয়ে আসছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।প্রসঙ্গত, এ ঘটনায় পুলিশ আটক যুবক ফয়জুর রহমানের পরিচয় জানাতে পারলেও ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে পারেনি। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে।