মিরপুরে গুপ্তধনের খোঁজে স্ক্যানারে তল্লাশি-
মিরপুর প্রতিনিধি : মিরপুরে গুপ্তধনের খোঁজে স্ক্যানারে তল্লাশি-নিয়ে সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছিল আজ বৃহস্পতিবার। আসলে কি কি গুপ্তধন মিলবে
তা কোন রাজা বাদশাহ’র আমলের তা নিয়েও চলছিল নানা জল্পনা কল্পনা।কিন্তু শেষমেষ অর্শডিম্ব!সরেজমিনে দেখা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার মিরপুর ১০ নম্বরের সেই বাড়িতে গুপ্তধনের খোঁজে নেমেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা।
চার ঘণ্টা ধরে ওই বাড়িতে স্ক্যানার দিয়ে খোঁজা হলো গুপ্তধন। মিরপুর ১০ নম্বর সি ব্লকের ১৬ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর সেই বাড়ির সামনে গিয়ে দেখা গেছে সেখানে পুলিশ, বিশেষজ্ঞের পাশাপাশি ছিলেন ঢাকা জেলা প্রশাসন কর্তৃপক্ষ।
সেখানে ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাজোয়ার আকরাম সাকাপি ইবনে সাজ্জাদ জাতিরকন্ঠকে জানালেন, প্রথমে বাড়ি খোঁড়ার পর কিছু না পেয়ে বুয়েট ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের সাহায্য নেওয়া হয়। আজ বুয়েটের প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরের পরিচালক আবদুল বাকি খান মজলিশ আলাদা আলাদা স্ক্যানার দিয়ে পরীক্ষা করেন। দুটি আলাদা আলাদা স্ক্যানার। দুটি স্কানারের আলাদা আলাদা মনিটর দিয়ে পরীক্ষাও করা হয় আলাদাভাবে।
মাটির নিচে কিছু আছে কি না জানতে দফায় দফায় পরীক্ষা চালানো হয়। কিছু থাকলে মনিটরে উঠে আসত। কিন্তু শেষমেষ কিছুই মিলেনি।তাজোয়ার আকরাম বলেন, কিছু পাওয়া যায় নি। তাই এখন আমরা কার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করছি। এখানে আর পুলিশ পাহারা দেবে না। এটি মালিকের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।
এর আগে মিরপুর-১০-এর সি ব্লকের ১৬ নম্বর রোডের ১৬ নম্বর বাড়িতে গুপ্তধনের সন্ধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ারুজ্জামানসহ মিরপুর থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে মাটি খননকাজ শুরু করেন ২০ জন শ্রমিক। টিনশেডের ওই বাড়ির সাতটি কক্ষের মধ্যে দুটি কক্ষের প্রায় চার ফুট গভীর পর্যন্ত শাবল, কোদাল দিয়ে খনন করেন তাঁরা। কিন্তু ছয় ঘণ্টার খননকাজ চলার পর সেখান থেকে গুপ্তধন বা মূল্যবান কোনো বস্তু পাওয়া যায়নি।
মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, ওই বাড়িতে গুপ্তধন আছে এই মর্মে এই মাসের ১০ তারিখ সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন টেকনাফের বাসিন্দা আবু তৈয়ব। পরে বাড়ির মালিক মনিরুল আলমও সাধারণ ডায়েরি করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বাড়িটি খোঁড়ার জন্য জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করি।



