মানুষরূপী জানোয়ার হাফেজ আমিনুল পাকরাও
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : মাদরাসা হুজুরের পিটুনিতে শেষমেষ পরপারে’ই যেতে হলো তাওহিদ’কে।বাবাগো মা’গো বলেও চিৎকার করেও মন গলাতে পারলো না পাষন্ড মাদ্রাসা
শিক্ষকের। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুকোলে ঢলে পড়লো মাদ্রাসার কোমলমতী তাওহীদ। ছাত্রকে পিটিয়ে মারার পর আত্মগোপন করেছিল মানুষরূপী জানোয়ার ওই মাদ্রাসা শিক্ষক
হাফেজ আমিনুল ইসলাম। কিন্তু ভালুকা থানার ওসি মামুন অর রসিদ পিপিএম তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। একজন বাবা মা আর তার আদরের ধন কলিজার টুকরা সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য নিজের আদর সোহাগ থেকে বঞ্চিত করে মাদ্রাসা স্কুলে পড়াশুনার জন্য পাঠান। কিন্তু এ কি হচ্ছে? কিছু শিক্ষক নামের কতিপয় কথিত জানোয়ার কোমলমতী ছাত্রদেরকে শাসনের নামে পরপারে পাঠাচ্ছে।
নির্যাতনের শিকার তাওহিদ মায়ের কাছে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পারেনি। মৃত্যু তাকে নিয়েছে অচেনা অন্য এক রাজ্যে। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় মাদরাসা শিক্ষকের বর্বর নির্যাতনে এক ছাত্র নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাতে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাওহিদুল ইসলাম (১০) নামের ওই ছাত্র মারা যায়।সে ভালুকার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের পাঁচগাও গ্রামের কয়েস মিয়ার ছেলে।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই আবাসিক ছাত্রদের মাদরাসায় ফেলে গা ঢাকা দিয়েছেন শিক্ষকরা।পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামিরদিয়া মাদরাসার হেফজ শ্রেণির ছাত্র ছিল তাওহিদুল ইসলাম। সম্প্রতি পড়া মুখস্থ করতে না পারায় মাদরাসার শিক্ষক হাফেজ আমিনুল ইসলাম লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাওহিদুলের পাজরের হাড় ও একটি পা ভেঙে দেন। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন ওই শিক্ষক।

বিষয়টি গোপন রেখে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ কয়েকদিন আগে তাওহিদুলকে বাড়িতে রেখে আসে। সেই সময় তারা জানান তাওহিদুল খেলতে গিয়ে পড়ে আহ্ত হয়েছে।
কিন্তু পরে তাওহিদ তার বাবা-মা ও দাদীর কাছে ঘটনা খুলে বলে। এরপর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে প্রথমে ভালুকা পরে চুরখাই কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিন মার্চ তাকে ঢাকার বক্ষব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তাওহিদের মা হাসনা হেনা বলেন, তাওহিদুল ১৮ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল, কিন্তু মাদরাসা থেকে ছেলের মরদেহ বাড়িতে আসবে কখনও ভাবেননি তিনি।
তিনি জানান, তাওহিদুল মাঝেমধ্যে স্বপ্নে বলতো হুজুর আর মারবেন না, আমি মরে যাবো, আমাকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন।
সরেজমিনে মাদরাসায় গিয়ে তাওহিদের কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গেলো ২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে পড়া না পারার কারণে হাফেজ আমিনুল ইসলাম মোটা একটা লাঠি দিয়ে তাওহিদকে পিটিয়েছিলেন।
এ ব্যাপারে মাদরাসার সভাপতি আবদুল হামিদ বলেন, বিষয়টি তিনি জানতেন না, কাল সকালে জানতে পেরেছেন।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন-অর-রশীদ জানান, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনামুল হক নামের এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।



