মাদ্রাসায় বলাৎকারকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে-

বিশেষ প্রতিনিধি/ কুমিল্লা প্রতিনিধি : মাদ্রাসায় শিশু বলাৎকার নিয়ে এখন তোলপাড় অবস্থা। গত এক মাসে ৪০ জন শিশু মাদ্রাসা ছাত্র বলাৎকারের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নির্যাতন ও বলাৎকারের বিষয়টি সামনে আসে। সর্বশেষ কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার নিউমার্কেট এলাকার জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল নূর মাদ্রাসারি শিক্ষক ও ক্বারি মো. শাহজালাল মাঝিকে বলাৎকারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় ছেলেটির বাবা গণমাধ্যমকে জানান, কোরআন শরিফ দিয়ে চালান দিয়ে পাগল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার ছেলেকে বলাৎকার করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের হাটহাজারীকে একটি মাদ্রাসায় শিশুকে নির্মমভাবে পেটানোর ভিডিও প্রকাশের পর এসব বিষয় নিয়ে ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ফেনীতে একটি কওমি মাদ্রাসায় এমন বলাৎকারের ঘটনা তোলপাড় শুরু হয়। সেখানে একটি মাদ্রাসায় শিশুকে বলাৎকারের ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা তাকে সেখান থেকে এনে স্কুলে ভর্তি করে।গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো সংকলন করে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন জানতে পেরেছে, গত নভেম্বরে ৩০ দিনে ৪০টি বলাৎকারের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে দুটি ঘটনায় মারা গেছে দুটি শিশু। একটি শিশু লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। সংগঠনটি বলাৎকারবিরোধী ব্যাপক প্রচারে নেমেছে। সম্প্রতি তারা রাজধানীর বিভিন্ন মসজিদে ও মাদ্রাসায় বলাৎকারের সমস্যাটি নিয়ে লিফলেট বিতরণ করছে।
কুমিল্লায় একটি কওমি মাদ্রাসায় বলাৎকারের অভিযোগ উঠার পর প্রতিষ্ঠানটিতে ভুক্তভোগী ছেলেকে না পড়িয়ে নিয়ে এসেছেন বাবা। কেবল মাদ্রাসা নয়, ছেলেকে নিয়ে জেলা ছেড়ে চলে গেছেন ওই বাবা। গত ১৪ নভেম্বর জেলার দেবীদ্বার উপজেলার নিউমার্কেট এলাকার জামিয়া ইসলামিয়া বাইতুল নূর মাদ্রাসারি শিক্ষক ও ক্বারি মো. শাহজালাল মাঝিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে সময় ছেলেটির বাবা গণমাধ্যমকে জানান, কোরআন শরিফ দিয়ে চালান দিয়ে পাগল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে তার ছেলেকে বলাৎকার করা হয়েছে।ঘটনার তিন মাস আগে ১৩ বছর বয়সী শিশুটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়। সে হাফেজিয়াতে পড়ত। করোনা সংক্রমণের কারণে স্কুল কলেজ বন্ধ থাকলেও মাদ্রাসায় ক্লাস চলত। ছেলেটির বাবা জানান, বাড়ি ফিরে আসার পর তার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন বাবাকে সব খুলে বলে সে। আর তিনি সরাসরি থানায় যান।
দেবিদ্বার থানা পুলিশ জানায়, ছেলেটির বাবার মামলার উল্লেখ করা হয়, শিক্ষক শাহজালাল প্রায়ই তাকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করতেন। ঘটনার দিন ওই শিশুকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বলৎকার করেন। মামলার সম্পর্কে দেবিদ্বার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জাতিরকন্ঠ কে জানান, সন্দেহভাজক শিক্ষক এখনও আটক আছেন। বিশেষ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মাহবুব হোসেন খানের আদালতে শিশুটি ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। পাশাপাশি তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। আসামি শাহজালাল ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে এখনও আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি।
মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা আবু সাঈদ সোহেল জানান, আমরা বলছিলাম অভিযোগ যদি সত্য হয়, তাইলে ওই শিক্ষককে আমরা বরখাস্ত করব। পুলিশ তাকে নিয়ে গেছে, আর আদালতে সে স্বীকারোক্তি দিছে। এর পরেই আমরা তাকে মাদ্রাসা থেকে বহিষ্কার করেছি।চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি কওমি মাদ্রাসায় শিশুকে নির্যাতনের ভিডিও প্রকাশের পর ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বলাৎকারের বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। ছেলেটি এখন কোথায়-জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের মাদ্রাসা থাইক্যা তারা ছেলেরে অন্যত্র নিয়া গেছে। কই গেছে এইডা আমি জানি না। পরিবারটি দেবিদ্বার পৌর এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকত। সেখানে তারা যায় বছর তিনেক আগে। ছেলেটির বাবা বাস চালাতেন।
প্রতিবেশী মহিলা সেলিমা খাতুন জাতিরকন্ঠ কে বলেন, তারা এখানে থাকত। মাদ্রাসার ভিতরে পোলারে আকাম করণের কারণে পরে তারা শরমে এখান থেকে চলে গেছে। আমরারে কিচছু কইয়া যায় নাই। ওই নারী যখন কথা বলছিলেন, তখন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা এক বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, এই আকামের কারণে মাদ্রাসাত অহন পুলাপান পড়াইতাম মন চায় না।



