• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

‘মহাকাশ জয়ের পথে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’


প্রকাশিত: ৯:১৯ পিএম, ১১ মে ১৮ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ২১৮ বার

 

joy bangla joy banggobandhu satalite-www.jatirkhantha.com.bd

বিশেষ প্রতিনিধি :  ‘মহাকাশ জয় করতে যাচ্ছে জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু’ ।উৎক্ষেপণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশের  বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট- -১ এর আসল নাম জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমিন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি জাতিরকন্ঠকে বলেন, স্যাটেলাইটের নাম নিয়ে যখন কথা হচ্ছিল তখন তিনিই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু লিখে দিয়ে ছিলেন। আজ বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকালে এই বিখ্যাত শ্লোগানটি এখন মহাকাশ জয় করতে যচ্ছে।

যদিও বৃহস্পতিবার রাতে শুরু হয়েছিল ক্ষণ গণনা। শেষ মুহূর্তে এসেও তা হয়নি। অনেক অপেক্ষা আর উত্তেজনার মধ্যে কোটি মানুষ অপেক্ষা করছিল ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার। তাদের অপেক্ষা আরেকটু দীর্ঘ হলো। এদিকে আজ শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিটে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের নতুন সময় ঠিক করা হয়েছে বলে স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটের সরাসরি সম্প্রচারে বলা হয়েছে।

স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য প্রথমে সময় নির্ধারণ করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র সময় ৪টা ১২ মিনিট (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ১২ মিনিট)। বাংলাদেশের প্রথম এই স্যাটেলাইট নিয়ে সাধারণ মানুষের জানার আগ্রহ চোখে পড়ার মতো। চলুন জেনে নেয়া যাক এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ধরণ : মহাকাশে প্রায় ৫০টির বেশি দেশের দুই হাজারের উপর স্যাটেলাইট বিদ্যমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-আবহাওয়া স্যাটেলাইট, পর্যবেক্ষক স্যাটেলাইট, ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট ইত্যাদি। তবে বিএস-ওয়ান হল যোগাযোগ ও সম্প্রচার স্যাটেলাইট।

nasaএর কর্মপরিধি : টিভি চ্যানেলগুলোর স্যাটেলাইট সেবা নিশ্চিত করাই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ। এর সাহায্যে চালু করা যাবে ডিটিএইচ বা ডিরেক্ট টু হোম ডিশ সার্ভিস।এছাড়া যেসব জায়গায় অপটিক কেবল বা সাবমেরিন কেবল পৌঁছায়নি সেসব জায়গায় এ স্যাটেলাইটের সাহায্যে নিশ্চিত হতে পারে ইন্টারনেট সংযোগ।

স্যাটেলাইটের ফুটপ্রিন্ট : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের অবস্থান ১১৯.১ ডিগ্রী পূর্ব দ্রাঘিমার কক্ষপথে। এর ফুটপ্রিন্ট বা কভারেজ হবে ইন্দোনেশিয়া থেকে তাজিকিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত। শক্তিশালী কেইউ ও সি ব্যান্ডের মাধ্যমে এটি সবচেয়ে ভালো কাভার করবে পুরো বাংলাদেশ, সার্কভুক্ত দেশসমূহ, ফিলিপাইন এবং ইন্দোনেশিয়া।স্যাটেলাইট অপারেশন : আর্থ স্টেশন থেকে ৩৫ হাজার ৭৮৬ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্যাটেলাইটটির কক্ষপথে যেতে সময় লাগবে ৮-১১ দিন। আর পুরোপুরি কাজের জন্য প্রস্তুত হবে ৩ মাসের মধ্যে।

এরপর প্রথম ৩ বছর থ্যালাস অ্যালেনিয়ার সহায়তায় এটির দেখভাল করবে বাংলাদেশ। পরে পুরোপুরি বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের হাতেই গাজীপুর ও রাঙামাটির বেতবুনিয়া আর্থ স্টেশন থেকে নিয়ন্ত্রিত হবে এটি।স্যাটেলাইট নির্মাণ : ৩.৭ টন ওজনের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটটির ডিজাইন। এটা তৈরি করেছে ফ্রান্সের কোম্পানি থ্যালাস অ্যালেনিয়া স্পেস। আর যে রকেট এটাকে মহাকাশে নিয়ে যাচ্ছে সেটি বানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স।

উৎক্ষেপণ হচ্ছে ফ্লোরিডার লঞ্চপ্যাড থেকে।বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ৪০টি ট্রান্সপন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে ২০ দেশে ব্যবহারের জন্য এবং ২০টি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব। এ ছাড়া নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকায় বৈশ্বিক টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রে পরনির্ভরশীলতার অবসান হবে। টেলিমেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-গবেষণা, ভিডিও কনফারেন্স, প্রতিরক্ষা ও দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় জরুরি যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১।