ভয়ংকর জেএমবি শরীফুলের মিশন ফাঁস
স্টাফ রিপোর্টার : অবশেষে ভয়ংকর জেএমবি শরীফুলের মিশন ফাঁস হলো। র্যাবের অনুসন্ধানে রাজশাহীর নাচোল থেকে ধরা পড়ে শরীফুল এর মিশন ফাঁস হয়ে যায়। এই শরিফুলের প্লানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম খুন হন ২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল। তাকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শরীফুল ইসলাম একই বিভাগের ২০১০-১১ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। রেজাউল করিমকে হত্যার এক মাস আগ থেকে তার ওপর নজর রেখেছিলেন শরিফুল।
জেএমবি’র আমির ও সংগঠনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অধ্যাপক রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্থানীয় জঙ্গি সদস্যদের মাধ্যমে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ (যেমন; ঠিকানা, ফোন নম্বর, অবস্থান, গতিবিধি ইত্যাদি) ও নজরদারি করা হয়েছিল। এর নেতৃত্বে ছিলেন তারই বিভাগের ছাত্র শরীফুল ইসলাম।আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজরে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।
হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার চার্জশিটভুক্ত ও অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি জেএমবির শীর্ষনেতা শরীফুল ইসলাম খালিদ ওরফে রাহাত ওরফে সাইফুল্লাহ ওরফে নাহিদ ওরফে আবু সোলাইমান (২৭) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গতকাল শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।২০১৬ সালের ২৩ এপ্রিল সকালে রাজশাহী নগরের শালবাগান এলাকায় নিজের বাড়ির পাশে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয় অধ্যাপক রেজাউল করিমকে। তার ছেলে রিয়াসাত ইমতিয়াজ সৌরভ পরে অজ্ঞাত পরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে বোয়ালিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
২০১৭ সালের ৬ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সেখানে আসামি হিসেবে জেএমবির আট জঙ্গির নাম উল্লেখ করা হয়। আটজনের মধ্যে খায়রুল ইসলাম বাঁধন, নজরুল ইসলাম ওরফে হাসান ওরফে বাইক হাসান ও তারেক হাসান ওরফে নিলু ওরফে ওসমান অভিযোগপত্র দেওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হন।
ঘটনার দুই বছর পর গত বছরের ৮ মে হত্যা মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি দল জেএমবির দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত।মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘অধ্যাপক রেজাউল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী শরীফুল ইসলাম। তিনি রেজাউল করিমকে হত্যার এক মাস আগ থেকে তার ওপর নজর রেখেছিলেন।তিনি আরও বলেন, শরীফুলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, স্থানীয় জঙ্গি রিপন আলী ওরফে রকি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষকদের ক্লাস রুটিনের ছবি শরীফুলকে দিয়েছিলেন। রেজাউল হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সংগ্রহ করেন জঙ্গি ওসমান মিলু ও মাসকাওয়াত ওরফে আব্দুল্লাহ।’
হত্যাকাণ্ড শেষে হাসান ওরফে বাইক হাসান মোটরসাইকেলে করে শরীফুল ও খাইরুল ইসলাম ওরফে পায়েলকে নিয়ে রওনা দেন। পায়েলের কাছে চাপাতি ও রক্তমাখা জামাকাপড় ছিল, তাকে খরখড়ি বাইপাসে নামানোর পর হাসান তার নাটোরের ভাড়া করা বাসায় শরীফুলকে নিয়ে ওঠেন। পরদিন সকালে শরীফুল ঢাকায় চলে আসেন এবং আমিরের নির্দেশে পার্শ্ববর্তী দেশে পালিয়ে যান।
শরীফুল ইসলাম রাজশাহীর বাগমারায় ১৯৯১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ২০০৮ সালে এসএসসি এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ থেকে ২০১০ সালে এইচএসসি পাশ করেন। ২০১০-২০১১ সেশনে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শরিফুল ইসলাম জানান, ২০১৩ সালে অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়ার সময় আহসান হাবিব ওরফে শোভনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে যুক্ত হয়। প্রথমত, তিনি শোভনের মাধ্যমে রাজশাহী কেন্দ্রিক বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত উগ্রবাদী গ্রুপে যোগ দেন। এই গ্রুপের সদস্যরা অনলাইনভিত্তিক উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার করতেন। পরবর্তীতে শোভনের মাধ্যমে রাজশাহীতে শোভনের মেসে শরীফুলের সঙ্গে শীর্ষ জঙ্গিনেতা তামিম চৌধুরীর পরিচয় হয়।
শরীফুল ছিলেন গুলশান হলি আর্টিজান হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন। হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার আগে অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণের পর আত্মগোপনে যান তিনি। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় তারা ৩৯ লাখ টাকা হলি আর্টিজান হামলার জন্য পাঠায়। এক প্রশ্নের জবাবে মুফতি মাহমুদ বলেন, অধ্যাপক রেজাউলের সঙ্গে শরীফুলের কোনো ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ছিল না। শুধু আমির ও সাংগঠনিকভাবে টার্গেট কিলিংয়ের অংশ হিসেবে তাকে হত্যা করা হয়।



