• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ভোটে বিএনপির ট্রামকার্ড জোবায়দা!


প্রকাশিত: ৯:৫৫ পিএম, ১২ নভেম্বর ১৮ , সোমবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ১০০ বার

 

আসমা খন্দকার : বিএনপিকে চাঙ্গা করতে এবার দলীয় ট্রামকার্ড হচ্ছেন জোবায়দা রহমান। যিনি তারেক রহমান স্ত্রী। এবার তাকে ভোটে আনারও তৎপরতা চলছে।বগুড়ার একটি আসন থেকে তাঁকে রাজনীতির হাতে খড়ি দেয়ার প্রক্রিয়া প্রায় চূড়ান্ত করে ফলেছে বিএনপি। কোন ধরনের ব্যতিক্রম না হলে এবার তিনি নির্বাচনে লড়তে পারেন। বিষয়টি নিয়ে বিএনপির কেউ মুখ না খুললেও সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে আছে জোবায়দা নির্বাচন করছেন।

অভিজ্ঞ মহল বলছেন, শেখ হাসিনা, খালেদা জিয়ার পরে আরও এক নারী রাজনীতিকের কি উত্থান হতে চলেছে বাংলাদেশে? কর্মীদের চাঙ্গা করে নতুন উদ্যমে ভোটের ময়দানে নামাতে এবং দলে জিয়া পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমানকে নেতৃত্বে আনার বিষয়টি এক রকম চূড়ান্ত করে ফেলেছে রাজনীতিতে কোণঠাসা বিএনপি।

জিয়া পরিবারের একটি ঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি- কারাবন্দি খালেদা এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন। তারেকও সম্মত দিয়েছেন। পেশাদার চিকিৎসক বছর চল্লিশের জোবায়দাও ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, রাজনীতিতে নামতে তিনি তৈরি।এর আগে ২০১৪-র নির্বাচনে অংশ নেয়নি তারা। হাজার টালবাহানার পরে এ বারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা রবিবারই করেছে বিএনপি। কিন্তু দেরিতে মাঠে নামায় প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামি লিগের চেয়ে অনেক পিছিয়ে তারা। পিছিয়ে ভাবমূর্তিতেও। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা খালেদা ও তারেক, দু’জনেই দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত। চেয়ারপার্সন খালেদা কারাগারে, তার পুত্র অস্থায়ী চেয়ারম্যান তারেক ফেরার হয়ে লন্ডনে।

একটি মামলায় হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের জেরে তাদের প্রার্থী হওয়া তো দূরের কথা, দলের নেতৃত্বে থাকাটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জিয়া পরিবার থেকে জুবায়দার মতো স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কাউকে দলের মাথায় আনলে ভোটারদের কাছে যেমন বার্তা দেওয়া যাবে, দলের কর্মীরাও চাঙ্গা হবেন বলে মনে করছেন বিএনপি-র শীর্ষ নেতৃত্ব।তারেক-ঘনিষ্ঠ এক নেতা জাতিরকন্ঠকে জানান, গান্ধী পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়া ভারতের কংগ্রেস যেমন চলতে পারে না, মাথায় শেখ পরিবারের কাউকে ছাড়া যেমন আওয়ামি লীগকে ভাবা যায় না, তেমনি জিয়া পরিবারের নেতৃত্ব ছাড়াও বিএনপি টিকতে পারবে না।

বিএনপির ‘দেশি-বিদেশি শুভাকাঙ্ক্ষীরা চান দলের নেতৃত্বে তরুণ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কোনও গ্রহণযোগ্য মুখ এনে নির্বাচনে অংশ নিক। আর এ ক্ষেত্রেই
জোবায়দাকে রাজনীতিতে আনার কথা ভাবা হয়েছে। সিলেট, ফেনী এবং বগুড়ার একাধিক আসনে প্রার্থী হিসেবে তার নাম রাখা হচ্ছে।বিএনপি-র এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাতিরকন্ঠকে জানান, সিলেট বা বগুড়া থেকে প্রাথমিক সদস্যপদ দিয়ে জোবায়দাকে আপাতত দলের ভাইস চেয়ারম্যান করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনী কাজে সমন্বয়ের দায়িত্বও তার হাতে ছাড়ার কথা ভাবা হয়েছে। আপাতত অস্থায়ী চেয়ারম্যান তারেকের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি দল চালাবেন।

জিয়া পরিবারের দিনাজপুর সূত্রের খবর হচ্ছে, জোবায়দার বাবা রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলি জিয়াউর রহমানের আমলে বাংলাদেশের নৌবাহিনীর প্রধান ছিলেন। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সেনা-সরকারে তিনি যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম এ জি ওসমানি জুবায়দার কাকা। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন খানের চাচাতো বোন জুবায়দা চিকিৎসকদের সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় প্রথম হন। লন্ডনের ইম্পিরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিন থেকে রেকর্ড নম্বর ও স্বর্ণপদক নিয়ে এমএসসি করেছেন।

তবে মনোনয়ন পত্রে সই করা হয়তো এ বারও জোবায়দার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার পাসপোর্ট আপাতত লন্ডনে বাংলাদেশি হাই কমিশনের হাতে থাকায় ঢাকা ফিরতে সময় লাগবে। সে জন্য প্রচারের মঞ্চ থেকে তার ভিডিও-বক্তৃতা প্রচারের কথাও ভেবে রেখেছেন বিএনপি নেতৃত্ব।কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, পোড় খাওয়া রাজনীতিক শেখ হাসিনার সঙ্গে লড়াইয়ে তিনি
কতটা পারবেন তা নিয়েই প্রশ্ন??