• রোববার , ২৬ জুলাই ২০২৬

ভিসি কলিমুল্লাহ’র চোখরাঙ্গানী কেন?


প্রকাশিত: ১:৩৫ এএম, ৫ মার্চ ২১ , শুক্রবার

নিউজটি পড়া হয়েছে ৩০৫ বার

বিশেষ প্রতিনিধি/ রংপুর প্রতিনিধি : কথায় বলে চোরের মার বড় গলা! আর সেকারণেই কি অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়েও ভিসি কলিমুল্লাহ চোখরাঙ্গানী দিচ্ছেন? খোদ শিক্ষা মন্ত্রীকেও তিনি অঙ্গলী দেখানোর সাহস পেলেন কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনিকে দোষারোপ করে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ যেসব বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে অনভিপ্রেত, অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রুচিবিবর্জিত বলে বিবৃতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। আজ বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) বিকেলে মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়েরের সইয়ে গণমাধ্যমের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি দিয়েছে। সেখানেই এ কথা বলা হয়েছে। এর আগে সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংবাদ সম্মেলন করে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এসব অভিযোগ ও ইউজিসির ‘এমন তদন্ত’ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির আশ্রয়–প্রশ্রয় ও আশকারায় হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর আশকারায় পরিস্থিতি এ অবস্থায় এসেছে বলেও অভিযোগ করেন অধ্যাপক কলিমউল্লাহ।

এ অবস্থায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে নানা ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে (ইউজিসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে অনুরোধ জানানো হয়। ইউজিসি তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তদন্ত সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায়। ইউজিসি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তাই এ প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর অভিযোগ অসত্য, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ ছাড়া অধ্যাপক কলিমউল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে কিছু ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বক্তব্য রেখেছেন, যা নিতান্তই অনভিপ্রেত।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে যে সভায় শিক্ষামন্ত্রীর দেরিতে আসা নিয়ে কথা বলেছেন অধ্যাপক কলিমউল্লাহ, সেই সভাটি গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সকালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় পরিবর্তন করে তা বিকেলে নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগের অভিন্ন ন্যূনতম নির্দেশিকা প্রণয়নসংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সভা থাকায় সময়টি পরিবর্তন করা হয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই দেরির কারণে বিশেষভাবে দুঃখও প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী। সেদিনের অনিচ্ছাকৃত দেরিকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে অধ্যাপক কলিমউল্লাহ যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনকই নয়, নিতান্তই রুচিবিবর্জিত।

মন্ত্রণালয় বলছে, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রকাশনার জন্য শিক্ষামন্ত্রীর একটি বাণী একবার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চাওয়া হয়েছিল। সেই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বড় ধরনের ছাত্র আন্দোলন চলছিল। সেই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী সেই বাণী দেওয়া সমীচীন মনে করেননি। এরপর বিগত এক বছরে ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আর কোনো বাণী চাওয়া হয়নি।

অধ্যাপক কলিমউল্লাহ এসবের বাইরেও শিক্ষামন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার কথা উল্লেখ করে রাজনীতিকে জড়িয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন, যার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কোনো বিষয়ের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা না থাকায় এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে। এ ছাড়া নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে যেসব বক্তব্য রেখেছেন, সেসব বিষয়েও এ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকছে। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রকল্পসংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন সম্প্রতি ইউজিসি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতিসংক্রান্ত আরেকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান। এ অবস্থায় কলিমউল্লাহর সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া অন্যান্য সব বক্তব্য সম্পর্কে মন্ত্রণালয় প্রতিবেদন প্রাপ্তি ও বিবেচনার পর যথাযথ প্রক্রিয়ায় বক্তব্য উপস্থাপন করবে।

রংপুরে অবাঞ্চিত কলিমুল্লাহ-

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সে সময় তিনি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে দোষারোপ করেন। এর প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু পরিষদ উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে।আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের একাংশ এই সংবাদ সম্মেলন করেন। পরে সন্ধ্যায় ক্যাম্পাসে উপাচার্যের কুশপুতুল দাহ করেছে ছাত্রলীগ। সংগঠনটিও উপাচার্যকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে।দুপুরে বেরোবির উপাচার্য ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের জন্য শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে দোষারোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তা শিক্ষামন্ত্রীর আশ্রয় ও আশকারায় হয়েছে।

এরপরই বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উপাচার্যের বক্তব্যকে ‘শুধু অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনকই নয়, নিতান্তই রুচিবিবর্জিত’ বলে মন্তব্য করা হয়। এতে বলা হয়, ‘উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি সংক্রান্ত কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে।’
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে আজ বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তাঁর কুশপুতুল দাহ করে ছাত্রলীগ। এর মধ্যে ক্যাম্পাসে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে বঙ্গবন্ধু পরিষদ। এতে বলা হয়, ঢাকায় বসে মিথ্যাচার, শিক্ষামন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে বঙ্গবন্ধু পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে বেরোবি শাখা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মশিউর রহমান বলেন, ‘উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অমান্য করে ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক অনুপস্থিতি, ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া, ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে জনবল নিয়োগ, শিক্ষক ও জনবল নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম, নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি ভিসি হয়েও অনুপস্থিতি থাকা, নিরাপত্তাহীন ক্যাম্পাস, ইচ্ছেমতো পদোন্নতি, আইন লঙ্ঘন করে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক পদ দখল, ক্রয় প্রক্রিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন, উপাচার্যের অননুমোদিত ও অনিয়মতান্ত্রিক ফাউন্ডেশন ট্রেনিং, ঢাকাস্থ লিয়াঁজো অফিসে অতিরিক্ত খরচসহ নানান অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত।বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, উপাচার্য সংবাদ সম্মেলনে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। এমনকি ইউজিসি বিষয়েও বাজে মন্তব্য করেছেন। সরকারের উন্নয়নসহ সবকিছুর বিষয়েই তিনি বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য করেছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। অতিসত্বর এসব মন্তব্যের জন্য ক্ষমা না চাইলে তাঁর বিরুদ্ধে আন্দোলনসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব আমরা।