ভাষা সাহিত্যে ৬জনকে ২১শে পদক কেন?
শফিক রহমান : ভাষা সাহিত্যে ৬ জনকে একুশে পদক দেয়া নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে দেশে কি সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অভাব হয়ে গেলো নাকি? যে কারণে একটি ক্ষেত্রে’র ৬ জন ব্যক্তিত্ব নিয়ে যাবেন মহা মূল্যবান ২১শে পদক। দেশের সংস্কৃতিবান ব্যক্তিত্ব, বিজ্ঞ মহল প্রশ্ন করেছেন, দেশে কি অন্য পেশার ব্যক্তিত্ববান মানুষের অভাব হয়ে গেলো নাকি?? যেমন ধরুণ আদর্শবান মানুষ, আদর্শ শিক্ষক, সৎ ব্যক্তিত্ব, সৎ রাজনীতিক, সৎ ব্যবসায়ী বা বিজ্ঞানী’দের মতো বিশিষ্টজনদেরও তো এই পদক দেয়া যেতো পারতো! তাই প্রশ্ন যখন উঠেছে-এটি নিয়ে এখনই ভাবতে হবে?
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) মোঃ মজিবর রহমান আল মামুন এর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জাতিরকন্ঠ কে বলেন, আসলে এটা আমি জানিনা; কেন ভাষা সাহিত্যে ৬ জনকে পদক দেয়া হচ্ছে। তবে তিনি দাবি করেন, বাংলা একাডেমীর একটি কমিটি রয়েছে। তাঁরা এটা ঠিক করে থাকেন। একই সঙ্গে তিনি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অনুষ্ঠান) মোঃ ফয়জুর রহমান ফারুকী’ও এটার সঙ্গে জড়িত বলে জানান। পরে
ফারুকীর সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি জাতিরকন্ঠকে বলেন, এটা কেবিনেট ডিভিশন করে থাকে, আমরা এর বেশি কিছু জানিনা। আপনি বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করেন তখন বিস্তারিত জনাতে পারবো।
যাহোক-আমরা আগামীকালের অপেক্ষায় থাকছি।
ওদিকে-লিয়াকত আলী লাকী, আজম খান, সুবীর নন্দী, সুবর্ণা মুস্তাফা, ইমদাদুল হক মিলন ও লিয়াকত আলী লাকীসহ জাতীয় ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার ২১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি পাচ্ছেন একুশে পদক।তবে পদক প্রাপ্তদের মধ্যে ভাষা সাহিত্যে ৬ জনকে পদক দেয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব জাতিরকন্ঠ কে ফোন করে জানিয়েছেন, দেশে কি সংস্কৃতি ক্ষেত্রের অভাব হয়ে গেলো নাকি যে ভাষা সাহিত্যে ৬ জনকে পদক দিতে হবে? সংস্কৃতি ক্ষেত্রে কি বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের অভাব হয়ে গেলো নাকি? তানাহলে একুশে পদক ভাষা সাহিত্যে’র ৬ জনকে দেয়া হচ্ছে কেনো? এ ক্ষেত্রে একজন ওই পদক পাওয়ার যোগ্য। বাকি ৫ জন অন্য পেশা, আদর্শবান মানুষ, সৎ ব্যক্তিত্ব, সৎ রাজনীতিক, সৎ ব্যবসায়ী পেতো পারতো! কিন্তু তা কেন হয়নি তা নিয়ে’ই প্রশ্ন উঠেছে?
আজ বুধবার সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে তাঁদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পদক তুলে দেবেন। পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পাচ্ছেন একটি সোনার পদক, সনদ ও দুই লাখ টাকার চেক। জাতিরকন্ঠ কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ফয়জুর রহমান ফারুকী। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠান আয়োজন করবে।
এবার ভাষা আন্দোলন, শিল্পকলা, গবেষণা, ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য ২১ জনকে এই পদক দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের মধ্যে দুজনকে মরণোত্তর পদক দেওয়া হবে।
একুশে পদক প্রাপ্তরা হলেন- মরনোত্তর অধ্যাপক হালিমা খাতুন (ভাষা আন্দোলন), অ্যাডভোকেট গোলাম আরিফ টিপু (ভাষা আন্দোলন), অধ্যাপক মনোয়ারা ইসলাম (ভাষা আন্দোলন), সুবীর নন্দী (শিল্পকলা-সংগীত), মরহুম আজম খান (শিল্পকলা-সঙ্গীত), খায়রুল আনাম শাকিল (শিল্পকলা-সংগীত), লাকী আনাম (শিল্পকলা-সংগীত), সুবর্ণা মুস্তাফা (শিল্পকলা-অভিনয়), লিয়াকত আলী লাকী (শিল্পকলা-অভিনয়), সাইদা খানম (শিল্পকলা-আলোকচিত্র), জামাল উদ্দিন আহমেদ (শিল্পকলা-চারুকলা) ক্ষিতীন্দ্র চন্দ্র বৈশ্য (মুক্তিযুদ্ধ), ডক্টর বিশ্বজিৎ ঘোষ (গবেষণা), ড. মাহবুবুল হক (গবেষণা) ডক্টর প্রণব কুমার বড়ূয়া (শিক্ষা), রিজিয়া রহমান (ভাষা ও সাহিত্য), ইমদাদুল হক মিলন (ভাষা ও সাহিত্য), অসীম সাহা (ভাষা ও সাহিত্য), আনোয়ারা সৈয়দ হক (ভাষা ও সাহিত্য) মইনুল আহসান সাবের (ভাষা ও সাহিত্য) এবং হরিশংকর জলদাস (ভাষা ও সাহিত্য)।



